সারাদেশে দৈনিক গ্যাসের চাহিদা প্রায় ৩৮০ কোটি ঘনফুট আর উৎপাদন হচ্ছে ১৬৩ কোটি ঘনফুট। অর্থাৎ ২১৭ কোটি ঘনফুট গ্যাস সংকট নিয়ে চলছে দেশ। ঘটতি গ্যাস সমস্যা দূর করার জন্য বাংলাদেশে তেলের প্রধান সরবরাহকারী তিনটি সরকারি কোম্পানি পদ্মা অয়েল, মেঘনা পেট্রোলিয়াম এবং যমুনা অয়েল কোম্পানি। তারা আনুমানিক ২ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার ৮০০টি পাম্পে তেল বিতরণ করে।
বছরে প্রায় সাড়ে ৬০ থেকে ৭০ লাখ টন তেল আমদানি হয়, যার বড় অংশ পরিশোধিত। ২০ শতাংশ কাঁচা তেল দেশেই রিফাইন্ড হয়। তেলের চাহিদার প্রায় ৬৫-৭০ শতাংশ ডিজেলে এবং গ্যাস আমদানির প্রায় ৭০ শতাংশ দেশে ঢুকে হরমুজ প্রণালি পথ দিয়ে। তাই হরমুজ প্রণালির অস্থিতিশীলতা দেশের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি। গত এক দশক ধরে বাংলাদেশ দ্রুত অর্থনৈতিক ও সামাজিক উন্নয়ন করছে, যেখানে শিল্পায়ন, বাণিজ্য, রিয়েল এস্টেট বিনিয়োগ এবং পরিবহন সম্প্রসারণে জ্বালানি তেলের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দেশীয় তেল উৎপাদন সীমিত হওয়ায় মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় ৬০-৭০ শতাংশ আমদানি-নির্ভর, বিশেষ করে ডিজেল ও অকটেন। কৃষি, শিল্প, পরিবহন এবং বিদ্যুৎ খাতে ডিজেলভিত্তিক মেশিনারি ও যানবাহনের বিস্তৃত ব্যবহার অর্থনীতিকে সরবরাহের ওপর সম্পূর্ণ নির্ভরশীল করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে তেলের বাজারে সংকট স্পষ্টভাবে লক্ষ্য করা গেছে। দীর্ঘ লাইনে দাঁড়ানো, অনেক পাম্পে এবং ডিজেল মজুত না থাকার খবর সাধারণ মানুষের উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। ‘সরকারের বারবার মজুত রয়েছে, সরবরাহ বন্ধ হয়নি’ ইত্যাদি ঘোষণা থাকা সত্ত্বেও বাস্তবে বাজারে ভিড় ও হুড়োহুড়ি দেখা যায়।
বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যয় নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান আলোচনা জ্বালানি খাতের ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। গতকাল সোমবার থাইল্যান্ডে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ২০২৬ সালের বার্ষিক সাধারণ সভায় অংশগ্রহণের শুরুতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এ চাপ সামাল দিতে একধরনের আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। এ বিষয়ে বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার ব্যাপারে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। ভবিষ্যতেও সংস্থাটি বাংলাদেশের পাশে থাকবে এমনটিই আশা করেন অর্থমন্ত্রী। আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা শুধু বিদ্যমান তহবিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৈশ্বিক অস্থিরতা এবং জ্বালানি খাতের চলমান সংকটের প্রভাব মোকাবিলায়ও সহযোগিতা প্রয়োজন। এসব বিষয় নিয়ে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে।
অর্থমন্ত্রী জানান, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে কাঠামোগত চুক্তির বিষয়ে আলোচনা ও প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়াগত কাজ চলছে। দুই পক্ষের অংশীদারত্বের আওতায় কীভাবে সহযোগিতা আরো কার্যকর করা যায়, তা নিয়েও আলোচনা হচ্ছে। তিনি আরো বলেন, সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় চলমান উদ্যোগগুলোর সামঞ্জস্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে।
বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে অর্থমন্ত্রী বলেন, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন। এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি সরবরাহ ও ব্যয় নিয়ে অনিশ্চয়তার মধ্যে বাংলাদেশের অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ তৈরি হয়েছে। এ পরিস্থিতিতে বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে চলমান আলোচনা জ্বালানি খাতের ব্যয় ব্যবস্থাপনা এবং অর্থনৈতিক চাপ মোকাবিলায় গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। বৈশ্বিক অস্থিরতার কারণে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয়ের চাপ মোকাবিলায় বিশ্বব্যাংকের সহায়তা চেয়েছে বাংলাদেশ। এ বিষয়ে সংস্থাটির সঙ্গে আলোচনা চলছে। দুই পক্ষের মধ্যে একটি কাঠামোগত চুক্তি নিয়েও কাজ এগোচ্ছে বলে জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
অর্থমন্ত্রী বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে বাংলাদেশকে জ্বালানি খাতে বাড়তি ব্যয় বহন করতে হচ্ছে। এই চাপ সামাল দিতে আর্থিক সুরক্ষা প্রয়োজন। অর্থমন্ত্রী জানান, এক্ষেত্রে বিশ্বব্যাংক সহযোগিতার বিষয়ে ইতিবাচক মনোভাব দেখিয়েছে। ভবিষ্যতেও সংস্থাটি বাংলাদেশের পাশে থাকবে এমনটিই মনে করেন তিনি। মন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেন, বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে বাংলাদেশের সহযোগিতা শুধু বিদ্যমান তহবিলের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বৈশ্বিক অস্থিরতা ও জ্বালানিসংকটের প্রভাব মোকাবিলায়ও সংস্থাটির সহযোগিতা প্রয়োজন।
অর্থমন্ত্রী আরো বলেন, সরকারের ঘোষিত নির্বাচনী ইশতেহারের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্যের সঙ্গে বিশ্বব্যাংকের সহযোগিতায় নেওয়া উদ্যোগগুলোর সামঞ্জস্য নিশ্চিত করা গুরুত্বপূর্ণ। এক্ষেত্রে পারস্পরিক সমন্বয়ের মাধ্যমে সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রত্যাশা রয়েছে। বিশ্বব্যাংকের সঙ্গে আলোচনার অগ্রগতি সম্পর্কে তিনি বলেন, বিষয়টি এখনো প্রক্রিয়াধীন এবং এ নিয়ে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে। সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশ সঠিক পথেই এগোচ্ছে বলে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী।
বিআলো/অর্নব