Published on
:
3 min read
বাঙালিয়ানার চেনা রাজকীয় মেজাজ হোক বা ক্যান্টোনিজ় ট্যুইস্ট। সাউথ ইন্ডিয়ান ফুড ফ্লেভার হোক বা এপার–ওপারের চেনা–অচেনা নানা পদ। এবার পুজোয় কোন স্বাদসফরে ডুব দেবেন, সেটা বেছে নেওয়ার একাধিক অপশন হাজির শহরজুড়ে।
পুজো মানেই প্যান্ডেল হপিং, জমাটি আড্ডা আর ক্যালরি–মিটারের কথা ভুলে কব্জি ডুবিয়ে খাওয়াদাওয়া। সারাবছর ধরে টেস্টবাড অনেক রকম এক্সপেরিমেন্ট করলেও উৎসবের দিনগুলোতে চেনা বাঙালি খাবারের দিকেই ঝুঁকে থাকেন বেশিরভাগ মানুষ। সেই কথা মাথাই রেখেই বেশিরভাগ রেস্তোরাঁ মেনুতে বাড়ায় বাঙালিয়ানার ছোঁয়া।সঙ্গে তাতে থাকে অন্য রকম স্বাদের ফ্লেভারের মিশেলও।
ছবি: এই সময়
‘শক্তি রূপে রূপে’ থিমে ‘হায়াত সেন্ট্রিক বালিগঞ্জ’ যেমন মহাভোজ থালি পরিবেশন করছে পুজোর দিনগুলোতে। মোচার ঘণ্ট, চিংড়ির চপ থেকে মাটন রেজ়ালা, চিকেন ডাকবাংলো থাকছে তাদের মেনুতে। শেষপাতে বেকড রসগোল্লা থেকে গুড়ের পায়েসের মতো ডেসার্টও। ষষ্ঠী থেকে দশমী (১৬–২০ অক্টোবর) লাঞ্চ ও ডিনারে থাকবে নানা আয়োজন। সঙ্গে রয়েছে আ লা কার্টের অপশনও। দু’জনের খেতে মোটামুটি খরচ আড়াই হাজার টাকা। শুরুর দিকে বুকিংয়ের ক্ষেত্রে রয়েছে বিশেষ ছাড়।
একই রকম ভাবে পুজোর ভোজ হাজির করেছে ‘অরিস হোটেলের জ়াইকা’। সর্ষে ভেটকি, ঠাকুরবাড়ির মুরগী রোস্ট, কষা মাংসের মতো পদ থাকছে খাবারের প্লেটে। শুরুতে এগ–চিকেন কাঠি রোল, ফিশ ফ্রাই থেকে শেষ পাতে থাকছে মালাই চমচম, মালপোয়া উইথ রাবড়ি থেকে চকোলেট পান। লাঞ্চ ও ডিনারে এই এলাহি আয়োজন খেয়ে দেখতে খরচ পড়বে দেড় হাজার টাকা। অ্যালকোহল ও ফুড কম্বোর ক্ষেত্রে খরচ দু’হাজার আটশো টাকা।
ছবি: এই সময়
‘ইয়েলো টার্টল’–এর বাগুইআটির রেস্তোরাঁয় পুজোর দিনগুলোয় থাকছে লাঞ্চের মহা আয়োজন। দই কাতলা, সর্ষে পাবদা থেকে লাবড়া বা গোলবাড়ি কষা মাংসের মতো ৩০টির বেশি পদ থাকবে মেনুতে। দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৪ টে পর্যন্ত যা পাওয়া যাবে। পাশাপাশি ষষ্ঠী থেকে দশমী পর্যন্ত প্রতিদিন বিভিন্ন রকমের স্টার্টারের ব্যবস্থাও থাকবে। একজনের খরচ পড়বে ৯০০ টাকা। কর অতিরিক্ত। রাসবিহারী অ্যাভিনিউ–এর ‘বন ফেম’ আবার ভেটকি চিংড়ি রোল, গ্রিলড ভেটকি থেকে মাটন বাও–এর মতো পদ নিয়ে হাজির। দুপুর ১২টা তেকে রাত সাড়ে ১০টা পর্যন্ত খোলা থাকবে রেস্তোরাঁ। অনলাইনেও পাওয়া যাবে বিভিন্ন পদ। দু’জনের খেতে মোটামুটি দেড় হাজার টাকা খরচ পড়বে।
চেনা বাঙালি স্বাদের বদলে ক্যান্টোনিজ় ফ্লেভারের ট্যুইস্টের খোঁজ মিলবে ‘ইয়াতচা’–তে। ক্রিসপি টোফু উইত কুং পাও সস, ক্রিসপি ফ্রায়েড চিকেন, স্মোকড চিলি নুডলস–এর মতো পদ ট্রাই করতে পারেন। এ ছাড়া দক্ষিণ কলকাতার ‘ডিমসাম স্টোরি’–তে কষা মাংস বাও, চিকেন আম কাসুন্দি ডাম্পলিং থেকে প্রন মালাই হার গো–এর মতো নতুন পদ আনা হয়েছে পুজোর জন্য।
আবার সাউথ ইন্ডিয়ান একাধিক ফুড আইটেম নিয়ে হাজির ‘লা ভানাক্কম’। চিলি ওয়েল চিজ়, গার্লিক বেনে দোসা থেকে থেচা ম্যাগি, ফিল্টার কফি কুকি আইসক্রিম থাকছে সেখানে। মোটামুটি ৪০০ টাকায় দু’জনের হালকা খিদে মিটতে পারে। অনলাইনেও পাওয়া যায়। উৎসবের কিছু দিন কেউ–কেউ ভেজ–অনলি খাবার পছন্দ করেন। মল্লিকবাজারের ‘স্পাইস কার্নিভাল’ তাঁদের কথা মাথায় রেখে অমৃতসরি ছোলে–কুলচে থেকে পনির টিক্কা লাবাবদার–এর মতো পদ নিয়ে তৈরি।
FAQ
১. পুজোয় কলকাতায় বাঙালি খাবারের বিশেষ আয়োজন কোথায় রয়েছে?
হায়াত সেন্ট্রিক বালিগঞ্জ, অরিস হোটেলের জ়াইকা, ইয়েলো টার্টল ও বন ফেমে রয়েছে বাঙালি খাবারের নানা আয়োজন।
২. হায়াত সেন্ট্রিক বালিগঞ্জের মহাভোজ থালির দাম কত?
প্রতিবেদন অনুযায়ী, দু’জনের খেতে আনুমানিক ₹২,৫০০ খরচ হবে।
৩. ক্যান্টোনিজ় খাবার খেতে কোথায় যেতে পারেন?
ইয়াতচা ও ডিমসাম স্টোরিতে ক্যান্টোনিজ় স্বাদের বিভিন্ন পদ চেখে দেখতে পারেন।
৪. পুজোয় দক্ষিণ ভারতীয় খাবার কোথায় পাওয়া যাবে?
লা ভানাক্কমে দোসা, থেচা ম্যাগি ও ফিল্টার কফি কুকি আইসক্রিমের মতো পদ রয়েছে।
৫. নিরামিষ খাবারের জন্য কোন রেস্তোরাঁয় যেতে পারেন?
মল্লিকবাজারের স্পাইস কার্নিভালে অমৃতসরি ছোলে-কুলচে ও পনির টিক্কা লাবাবদারের মতো নিরামিষ পদ পাওয়া যাবে।
