প্রকাশ: মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬, ২:০৪ পিএম
পিরোজপুরের নেছারাবাদে শারদীয় দুর্গাপূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে কালীগঙ্গা নদীতে যাত্রীবাহী ট্রলারডুবির ঘটনা ঘটেছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার শ্রীরামকাঠী-ভরতকাঠী ফেরিঘাট এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। ট্রলারটিতে প্রায় ৫০ জন যাত্রী ছিলেন।
এ ঘটনায় সাঁতরে অধিকাংশ যাত্রী তীরে উঠতে সক্ষম হলেও উপজেলার ভরতকাঠী গ্রামের শংকর ব্যাপারীর স্ত্রী রিনা বেপারী (৪৫) ও মেয়ে অদ্রিতা বেপারী (৮) নিখোঁজ হন। পরে রাত ১২টার দিকে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল অদ্রিতাকে মৃত অবস্থায় উদ্ধার করে। এ ঘটনায় এখনো নিখোঁজ রয়েছেন তার মা রিনা বেপারী।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার রাতে অষ্টমী পূজা দেখে শ্রীরামকাঠী থেকে ট্রলারে করে বাড়ি ফিরছিলেন যাত্রীরা। ফেরিঘাট এলাকায় পৌঁছালে অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাইয়ের কারণে ট্রলারটি ভারসাম্য হারিয়ে নদীতে ডুবে যায় বলে ধারণা করা হচ্ছে। এ সময় ট্রলারে থাকা অধিকাংশ যাত্রী সাঁতরে তীরে উঠতে পারলেও শংকর ব্যাপারীর স্ত্রী ও মেয়ে নিখোঁজ হন। এ ঘটনায় পাঁচটি মোটরসাইকেল ডুবে যায়।
নিহত শিশু অদ্রিতার বাবা শংকর ব্যাপারী জানান, পরিবারের সদস্যদের নিয়ে অষ্টমী পূজা দেখতে শ্রীরামকাঠী গিয়েছিলেন তিনি। সেখান থেকে ফেরার পথে অতিরিক্ত যাত্রীর কারণে ট্রলারটি কাত হয়ে ডুবে যায়। এ সময় তিনি স্ত্রী ও মেয়েকে ধরে রাখার চেষ্টা করেন। কিন্তু মেয়ে সাঁতার না জানায় তাকে বাঁচাতে গিয়ে স্ত্রীও নদীতে তলিয়ে যান। নিজে প্রাণে বাঁচলেও স্ত্রী ও মেয়েকে রক্ষা করতে না পারার বেদনায় ভেঙে পড়েন তিনি।
নেছারাবাদ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মেহেদী হাসান জানান, রাত সাড়ে ৯টার দিকে ট্রলারডুবির খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। পূজা দেখে বাড়ি ফেরার পথে মা-মেয়ে নিখোঁজ হয়েছিলেন। পরে মেয়েকে উদ্ধার করা হলেও মাকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি। ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল নিখোঁজ নারীকে উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে।
