রাজধানীর সেগুনবাগিচায় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের গ্রাফিতিতে চুনকালি দেওয়ার চেষ্টার ঘটনায় করা মামলায় রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আ ন ম আয়াসসহ চারজনকে রিমান্ডে নেওয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত। আয়াস ও তাঁর সহযোগী সাকিবুল হাসানের তিন দিন করে এবং অন্য দুই আসামি সুজন মিয়া ও মারজিয়া খন্দকার রিমির দুই দিন করে রিমান্ড মঞ্জুর করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) ঢাকার অতিরিক্ত মুখ্য মহানগর হাকিম জশিতা ইসলামের আদালত এ আদেশ দেন। পুলিশের প্রসিকিউশন বিভাগের সহকারী উপপরিদর্শক মো. রেজাউল এ তথ্য জানিয়েছেন।
এর আগে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক আব্দুল গাফফার হিমেল চার আসামিকে আদালতে হাজির করে ১০ দিনের রিমান্ড আবেদন করেন। রাষ্ট্রপক্ষে ঢাকা মহানগর পাবলিক প্রসিকিউটর ওমর ফারুক ফারুকী রিমান্ডের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেন। অন্যদিকে আসামিদের পক্ষে আইনজীবী মনির হোসেন সুমন রিমান্ড বাতিল করে জামিনের আবেদন করেন।
গ্রেফতার ব্যক্তিরা হলেন আ ন ম আয়াস (২৯), মো. সাকিবুল হাসান (১৯), মো. সুজন মিয়া (১৮) ও মারজিয়া খন্দকার রিমি (২৭)।
এর আগে শনিবার দুপুরে শিল্পকলা একাডেমির সামনের দেয়ালে আঁকা রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের প্রতিকৃতি মুছতে গিয়ে পুলিশের বাধার মুখে পড়েন আয়াসসহ একদল তরুণ। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে বাগ্বিতণ্ডা হলে আয়াসসহ চারজনকে আটক করে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। ঘটনাস্থলে এক নারীকে রবীন্দ্রনাথের প্রতিকৃতিতে কালি দিতে দেখা যায়। তখন এক পুলিশ সদস্য তাঁকে বাধা দেন। ওই নারী দাবি করেন, তাঁরা ‘ভারতীয় আগ্রাসনের প্রতিবাদ’ জানাতে এসেছেন। পুলিশের বাধার মুখে আয়াসের নেতৃত্বে তাঁরা স্লোগানও দেন।
এ ঘটনায় শাহবাগ থানার উপপরিদর্শক জিয়াউল হক শনিবার মামলা করেন। আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধমূলক ষড়যন্ত্র, বিভিন্ন গোষ্ঠীর মধ্যে শত্রুতা সৃষ্টি এবং ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত হানার অভিযোগ আনা হয়েছে। পৃথকভাবে রাষ্ট্রবিরোধী কার্যকলাপের অভিযোগে করা মামলায় তাঁদের গ্রেফতার দেখানো হয়েছে বলে জানিয়েছেন ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপকমিশনার শেখ জাহিদুল ইসলাম।
গত ৫ অক্টোবর রাজধানীর সেগুনবাগিচায় ফুটপাত দখলমুক্ত করে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন। এরপর ফুটপাতের পাশের দেয়ালে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলাম, শিল্পাচার্য জয়নুল আবেদিন, চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরসহ শিল্প, সাহিত্য ও সংস্কৃতিতে অবদান রাখা ১০ গুণী ব্যক্তিত্বের প্রতিকৃতি আঁকা হয়।
‘জুলাই রেভ্যুলুশনারি অ্যালায়েন্স’ নামের একটি ফেসবুক পেজ থেকে শুক্রবার এসব প্রতিকৃতি আঁকা নিয়ে প্রশ্ন তোলা হয়। সেখানে সত্যজিৎ রায় ও ঈশ্বরচন্দ্র বিদ্যাসাগরকে ‘পশ্চিমবঙ্গের সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব’ আখ্যা দিয়ে তাঁদের প্রতিকৃতি আঁকার যৌক্তিকতা নিয়ে প্রশ্ন করা হয়। এর পরদিন রাষ্ট্র সংলাপ ফোরামের সদস্যসচিব আয়াসের নেতৃত্বে একদল লোক প্রতিকৃতিগুলো মুছতে যান।
উল্লেখ্য, ফুটপাত দখলমুক্ত করার পর সেখানে পথচারীদের চলাচলের সুবিধার্থে নতুন ডাস্টবিন স্থাপন, বিশ্রামের জন্য বেঞ্চ নির্মাণ এবং সীমানাপ্রাচীর সংস্কার করা হয়। প্রতিকৃতি আঁকার উদ্যোগটি ছিল ওই এলাকার সৌন্দর্যবর্ধন ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্বদের স্মরণ করার অংশ।
সানা/আপ্র/১১/১০/২০২৬
