আজকাল ওয়েবডেস্ক: সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ১০৮-১১০। ডিসেম্বরে শুরু হবে বাঘশুমারি। বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাওয়ের দাবি, আগামী কয়েক মাসে নিয়োগ করা হবে ৪০০-৫০০ বনরক্ষীও।
সুন্দরবনের জঙ্গল লাগোয়া লোকালয়ে বাঘের আতঙ্ক কমাতে এবং মানুষের নিরাপত্তা বাড়াতে উদ্যোগী হল বন দপ্তর। মৈপীঠের গুড়গুড়িয়া ভুবনেশ্বরী গ্রাম পঞ্চায়েতের পূর্ব ও মধ্য গুড়গুড়িয়া গ্রামে জঙ্গল সংলগ্ন রাস্তায় বসানো হল ১৯০টি সৌরবিদ্যুতের আলো। রবিবার এই প্রকল্পের উদ্বোধন করেন রাজ্যের বনমন্ত্রী মনোজ ওঁরাও। উপস্থিত ছিলেন দক্ষিণ ২৪ পরগনার বন বিভাগীয় আধিকারিক নিশা গোস্বামী, গোসাবার বিধায়ক-সহ অন্যান্য বিশিষ্ট ব্যক্তিরা।
সুন্দরবনের মৈপীঠ এলাকায় জঙ্গল লাগোয়া গ্রামগুলিতে বাঘের আনাগোনা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরেই আতঙ্কে থাকেন বাসিন্দারা। বিশেষত, রাস্তায় পর্যাপ্ত আলোর অভাবে সন্ধ্যার পর থেকে বাড়ে উদ্বেগ। সেই সমস্যা মোকাবিলায় জঙ্গল ও লোকালয়ের সংযোগস্থল এবং সংলগ্ন রাস্তায় সৌরবাতি বসানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বনমন্ত্রীর বক্তব্য, এই আলো একদিকে যেমন স্থানীয় বাসিন্দাদের চলাচলে সুবিধা দেবে, অন্যদিকে বাঘের বিচরণক্ষেত্র ও লোকালয়ের মধ্যে পার্থক্য বুঝতেও সহায়ক হতে পারে। আগামী দিনে আরও আলো বসানোর পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। একই সঙ্গে বাঘ সংরক্ষণের উপরেও জোর দেন মন্ত্রী।
সুন্দরবন সফরে সাংবাদিকদের মুখোমুখি হয়ে বনমন্ত্রী জানান, সুন্দরবনে বর্তমানে বাঘের সংখ্যা ১০০-র বেশি, আনুমানিক ১০৮ থেকে ১১০টির মধ্যে। তবে প্রকৃত সংখ্যা জানতে আগামী ডিসেম্বর নাগাদ বাঘশুমারি করা হবে। সুন্দরবনের বাঘের বিচরণক্ষেত্র আরও সম্প্রসারণ এবং পর্যটনকে আকর্ষণীয় করে তুলতে নতুন প্রকল্পের পরিকল্পনাও করা হচ্ছে বলে জানান তিনি। পর্যটকদের সুবিধার্থে টিকিটের ব্যবস্থা চালুর বিষয়টিও বিবেচনায় রয়েছে বলে উল্লেখ করেন মন্ত্রী।
বাঘের হামলায় মৃত ও নিখোঁজদের পরিবারের ক্ষতিপূরণ নিয়ে প্রশ্ন:
সুন্দরবনে বাঘের আক্রমণে মৃত ও নিখোঁজ ব্যক্তিদের পরিবার ক্ষতিপূরণ না পাওয়ার অভিযোগও উঠে আসে সাংবাদিকদের প্রশ্নে। তরুণ নস্কর ও আবু আলি মোল্লা-সহ তিনজনের পরিবারের ক্ষতিপূরণ প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী জানান, বন দপ্তরে দীর্ঘদিন নিয়োগ ও পর্যাপ্ত অর্থ বরাদ্দের অভাবে বিভিন্ন সমস্যা তৈরি হয়েছে। তাঁর দাবি, আগামী দিনে বন দপ্তরে নতুন করে কর্মী নিয়োগ করা হবে। আগামী দুই থেকে চার মাসের মধ্যে চার-পাঁচশো বনরক্ষী নিয়োগের পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তিনি। পাশাপাশি কয়েকজন ADFO নিয়োগের কথাও উল্লেখ করেন।
ফেন্সিং নেট সংস্কারের আশ্বাস:
সুন্দরবনে প্রায় ২০০ কিলোমিটার ফেন্সিং নেটের অধিকাংশ অকেজো হয়ে পড়ে থাকার অভিযোগ প্রসঙ্গেও মুখ খোলেন বনমন্ত্রী। তাঁর দাবি, দীর্ঘদিন অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় বন দপ্তরের পরিকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পরিস্থিতির উন্নতিতে সরকার বন দপ্তরকে নতুন করে সাজানোর উদ্যোগ নিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় এলাকায় ফেন্সিং নেট বসানোর ব্যবস্থা করা হবে।
নতুন পরিকল্পনা ঝড়খালি ও বক্সা সাফারিতেও:
ঝড়খালির ব্যাঘ্র পুনর্বাসন কেন্দ্র প্রসঙ্গে বনমন্ত্রী জানান, বর্তমানে সেখানে কোনও বাঘ নেই। বাঘের পাশাপাশি কুমির-সহ অন্যান্য বন্যপ্রাণীকে কেন্দ্র করে পর্যটন আকর্ষণ বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে। অন্যদিকে, বক্সা সাফারির ক্ষেত্রে জঙ্গলের ভিতরে গড়ে ওঠা ফরেস্ট ভিলেজ সংক্রান্ত সমস্যার সমাধান করে রাস্তা খুলে দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
বনমন্ত্রীর বক্তব্য, বন ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণের পাশাপাশি জঙ্গল লাগোয়া এলাকার মানুষের নিরাপত্তা এবং জীবিকাজনিত সমস্যার দিকেও নজর দিতে হবে। মৈপীঠে সৌরবাতি বসানোর প্রকল্প সেই লক্ষ্যেই একটি পদক্ষেপ বলে মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। তবে আলো বসানোর পাশাপাশি নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ এবং বাঘের হানায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলির সমস্যার সমাধান কত দ্রুত হয়, এখন সেদিকেই নজর সুন্দরবনবাসীর।
