ছবির পর্দায় শরীরকে আরও ছিপছিপে, পেশিবহুল দেখাতে তারকারা যে কতটা কঠিন প্রস্তুতির মধ্যে দিয়ে যান, তার অনেকটাই দর্শকের চোখের আড়ালে থাকে। বিজয় দেবরকোন্ডার ‘লাইগার’-এর প্রস্তুতির একটি অভিজ্ঞতা সেই চরমপন্থার দিকটিই সামনে এনেছে।
চরিত্রটির জন্য শরীরের গঠন বদলাতে গিয়ে তিনি ধীরে ধীরে জল খাওয়ার পরিমাণ কমিয়ে দিনে মাত্র ২০০–৩০০ মিলিলিটারে নামিয়ে এনেছিলেন। শুটিংয়ের আগের শেষ ১০ ঘণ্টায় আবার একেবারেই জল পান করতে দেওয়া হত না। তৃষ্ণা মেটাতে তখন বরফের টুকরো চুষতেন তিনি। বিজয়ের স্বীকারোক্তি, এই পদ্ধতি মোটেই স্বাস্থ্যকর ছিল না।
বিজয়ের কথায়, প্রস্তুতির শুরুতে তিনি দিনে প্রায় ৪-৬ লিটার জল পান করতেন। ধীরে ধীরে সেই পরিমাণ কমতে কমতে দিনে ৩০০ মিলিলিটারের কাছাকাছি পৌঁছোয়। শেষের দিকের জলপানের পরিমাণ প্রায় ২০০ মিলিলিটারও হয়ে গিয়েছিল। শুটিংয়ের ঠিক আগে পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে যায়। প্রায় ১০ ঘণ্টা জল না খেয়ে থাকতে হত। তখন সামান্য স্বস্তির জন্য বরফের টুকরো চুষতেন তিনি। ঘুমোনোর সময়েও জলের কথা ভাবতে ভাবতে ঘুমোতেন। বড়ই কঠোর ছিল সেই যাত্রা। অভিনেতা জানিয়েছেন, সেই সময়ে তাঁর মাথায় প্রায় সব সময়ে শুধু জলের কথাই ঘুরত। এমন পরিস্থিতিতে কাজ করাও কঠিন হয়ে পড়েছিল। শুটিং শেষ করে প্রায় ৪ লিটার ডাবের জল আনিয়ে পান করতেন বিজয়। খাবার খাওয়ার কথা মাথায় থাকত না। কেবল জল পান আর জল পান।
কিন্তু অভিনেতার এই কৃচ্ছ্রসাধন যে কেউ অনুসরণ করলে বিপদ ঘটতে পারে। এই ধরনের জল কমানোর পদ্ধতিতে ওজন দ্রুত কমে যেতে পারে। কিন্তু তার বড় অংশই শরীরের জল কমার ফল, মেদ কমার নয়। স্বাভাবিক ভাবে জল খাওয়া শুরু করলে সেই ওজনের একটা বড় অংশ আবার ফিরে আসতে পারে। তাই ক্যামেরায় কয়েক ঘণ্টার জন্য শরীরকে আরও টানটান দেখানো আর সত্যিকারের মেদ কমানো— দু’টিকে এক করে দেখা ঠিক নয়।
শরীরে পর্যাপ্ত জল না থাকলে রক্তের পরিমাণ কমে যেতে পারে এবং রক্তচাপ নেমে যেতে পারে। মাথা ঘোরা, দুর্বলতা, মাথাব্যথা, মনোযোগ কমে যাওয়া এবং শারীরিক কর্মক্ষমতা হ্রাস হতে পারে জলপান কমিয়ে দেওয়ার ফলে। মাত্রাতিরিক্ত জলশূন্যতায় কিডনির কাজেও সমস্যা হতে পারে। শরীরে নুন ও অন্যান্য ইলেকট্রোলাইটের ভারসাম্য নষ্ট হলে হৃদ্যন্ত্র ও স্নায়ুতন্ত্রও ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে।
