Published on
:
2 min read
মহাকাশে ভারতীয় নভশ্চরদের পাঠানোর স্বপ্ন এ বার আরও এক কদম সত্যি হওয়ার পথে। ভারতের ‘গগনযান’ অভিযানের প্রস্তুতিতে বিরাট সাফল্য। পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসার সময় মহাকাশযানের ক্রু মডিউল থেকে সার্ভিস মডিউলকে নিরাপদে আলাদা করার জটিল পরীক্ষা সফল ভাবে সম্পন্ন করল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ISRO। এই সফল পরীক্ষার ফলে আসন্ন গগনযান অভিযানের পথ অনেকটাই মসৃণ হয়ে গেল।
একনজরে
ভারতের গগনযান অভিযানের প্রস্তুতিতে বড় সাফল্য পেল ভারতীয় মহাকাশ গবেষণা সংস্থা ইসরো (ISRO)।
পৃথিবীতে ফেরার সময় মহাকাশযানের ক্রু মডিউল থেকে সার্ভিস মডিউলকে নিরাপদে আলাদা করার পরীক্ষা সফল হয়েছে।
কেরালার তিরুবনন্তপুরমে বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারে এই পরীক্ষা চালানো হয়।
পরীক্ষায় ক্রু মডিউল ও সার্ভিস মডিউলের মধ্যে বিদ্যুৎ ও তরল আদান-প্রদানের সংযোগগুলি সঠিক সময়ে বিচ্ছিন্ন হচ্ছে কি না, তা খতিয়ে দেখা হয়।
তিরুবনন্তপুরমের গবেষণাগারে সফল মহড়া
কেরালার তিরুবনন্তপুরমে অবস্থিত বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারে এই বিশেষ পরীক্ষা চালানো হয়। মহাকাশযানের ক্রু মডিউল ও সার্ভিস মডিউল একসঙ্গে জোড়া অবস্থায় মহাকাশে ঠিক যে ভাবে থাকে, মাটিতে সেই কৃত্রিম পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। এই দু'টি অংশের মধ্যে বিদ্যুৎ ও তরল আদান-প্রদানের একাধিক সংযোগ থাকে। যাকে বিজ্ঞানের ভাষায় ‘আম্বিলিক্যাল কর্ড’ বলা হয়। পরীক্ষার সময় দেখা হয়েছে, ঠিক সময়ে সেই সব সংযোগ কেটে দু'টি অংশ নির্ভুল ভাবে আলাদা হচ্ছে কি না।
কেন জরুরি এই দু'টি অংশকে আলাদা করা?
গগনযানের পুরো মহাকাশযানটিকে দু'টি ভাগে ভাগ করা থাকে। একটি হলো ‘ক্রু মডিউল’, যেখানে ভারতীয় নভশ্চররা বসে মহাকাশে সফর করবেন। অন্যটি ‘সার্ভিস মডিউল’, যা যাত্রাপথে মহাকাশযানটিকে প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও শক্তি জোগাবে। রকেট উৎক্ষেপণের পর থেকে মহাকাশে ঘোরার সময় দু'টি অংশ একসঙ্গে জুড়ে থাকে। কিন্তু মিশন শেষে পৃথিবীতে ফেরার ঠিক আগে ক্রু মডিউলটিকে সার্ভিস মডিউল থেকে সম্পূর্ণ আলাদা হতেই হবে। এই আলাদা হওয়ার প্রক্রিয়ায় বিন্দুমাত্র ভুল হলে মহাকাশচারীদের জীবন বিপন্ন হতে পারে।
তীব্র ঝাঁকুনিতেও অক্ষত সমস্ত যন্ত্রপাতি
এই আলাদা হওয়ার প্রক্রিয়াটি ঘটে স্বয়ংক্রিয় নিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরণ বা পাইরোটেকনিক যন্ত্রের মাধ্যমে। পরীক্ষায় দেখা গিয়েছে, সেই তীব্র ঝাঁকুনি এবং ধাক্কা অনায়াসেই সহ্য করে নিতে পারছে ক্রু মডিউলের ভিতরের সূক্ষ্ম প্রযুক্তি। মহাকাশযানের নেভিগেশন ব্যবস্থা, দিক নির্ণয়কারী প্রযুক্তি এবং তাপ প্রতিরোধী ঢাল সম্পূর্ণ সুরক্ষিত রয়েছে। এমনকী, ক্যাপসুলটি সমুদ্রে নামার পর সেটিকে সোজা রাখার ব্যবস্থা এবং ভিতরের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রক যন্ত্রগুলিও নিখুঁত ভাবে কাজ করেছে।
২০২৬-এর অভিযানের প্রস্তুতি তুঙ্গে
এই সাফল্যের পরে ইসরোর আত্মবিশ্বাস অনেকটাই বেড়ে গিয়েছে। মহাকাশে মানুষ পাঠানোর আগে সমস্ত ঝুঁকি খতিয়ে দেখতে চাইছে মহাকাশ গবেষণা সংস্থা। ২০২৬ সালেই প্রথম চালকহীন ‘জি-১’ মিশন মহাকাশে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে তাদের। সেই অভিযানের আগে এই পরীক্ষা সফল হওয়া বিজ্ঞানীদের কাছে বিরাট স্বস্তির খবর। এই পরীক্ষা প্রমাণ করে দিয়েছে যে, মহাকাশ পাড়ি দিয়ে নিরাপদে ঘরে ফেরার প্রযুক্তি এখন ভারতের হাতের মুঠোয়।
FAQ
১. প্রশ্ন: গগনযান অভিযানের প্রস্তুতিতে ইসরো কী সাফল্য পেয়েছে?
উত্তর: পৃথিবীতে ফেরার সময় মহাকাশযানের ক্রু মডিউল থেকে সার্ভিস মডিউলকে নিরাপদে আলাদা করার জটিল পরীক্ষা সফলভাবে সম্পন্ন করেছে ইসরো।
২. প্রশ্ন: কোথায় এই পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে?
উত্তর: কেরালার তিরুবনন্তপুরমে অবস্থিত বিক্রম সারাভাই স্পেস সেন্টারে পরীক্ষাটি চালানো হয়েছে।
৩. প্রশ্ন: গগনযানের ক্রু মডিউল কী?
উত্তর: ক্রু মডিউল হলো মহাকাশযানের সেই অংশ, যেখানে ভারতীয় নভশ্চররা মহাকাশযাত্রার সময় থাকবেন। পৃথিবীতে ফেরার সময় এই অংশটিকেই নিরাপদে ফিরে আসতে হবে।
৪. প্রশ্ন: সার্ভিস মডিউলের কাজ কী?
উত্তর: সার্ভিস মডিউল মহাকাশযাত্রার সময় প্রয়োজনীয় জ্বালানি ও শক্তি সরবরাহ করে এবং মহাকাশযানের কার্যক্রমে সহায়তা করে।