মানুষের জীবনযাপন, উপার্জন ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার ধরন একেক রকম। কেউ আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পদ ব্যয় করেন, সৎপথ অনুসরণ করেন। আবার কেউ কৃপণতা করেন, নিজেকে স্বয়ংসম্পূর্ণ মনে করেন এবং সত্যকে অস্বীকার করেন। পবিত্র কোরআনের সুরা লাইল মানুষের এই দুই বিপরীত জীবনধারা তুলে ধরে সাফল্য ও ব্যর্থতার পরিণতি সম্পর্কে শিক্ষা দিয়েছে।
সুরা লাইল পবিত্র কোরআনের ৯২তম সুরা। মক্কায় অবতীর্ণ এ সুরায় ২১টি আয়াত রয়েছে। রাত ও দিনের শপথের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই সুরায় বলা হয়েছে, মানুষের চেষ্টা ও কর্মপন্থা ভিন্ন ভিন্ন।
সুরাটির ৫ থেকে ৭ নম্বর আয়াতে আল্লাহ বলেন, যে ব্যক্তি দান করে, তাকওয়া অবলম্বন করে এবং উত্তম বিষয়কে সত্য বলে গ্রহণ করে, তার জন্য আল্লাহ সহজ পথ সুগম করে দেবেন।
আরও পড়ুন
এ আয়াতগুলো থেকে বোঝা যায়, দান শুধু সম্পদ কমানোর বিষয় নয়; বরং আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের একটি মাধ্যম। সামর্থ্য অনুযায়ী অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানো, আত্মীয়স্বজনের খোঁজ নেওয়া এবং বিপদগ্রস্তকে সাহায্য করা একজন মুমিনের গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব। তবে দানের সঙ্গে আল্লাহভীতি ও আন্তরিকতাও জরুরি।
৮ থেকে ১১ নম্বর আয়াতে এমন ব্যক্তির কথা বলা হয়েছে, যে কৃপণতা করে, নিজেকে অভাবমুক্ত মনে করে এবং উত্তম বিষয়কে অস্বীকার করে। তার জন্য কঠিন পথ সহজ করে দেওয়া হবে। সম্পদ তার ধ্বংসের সময় কোনো কাজে আসবে না।
এ শিক্ষা বর্তমান সমাজেও গুরুত্বপূর্ণ। অর্থ-সম্পদ, পদমর্যাদা কিংবা সামাজিক পরিচিতি মানুষকে অহংকারী করে তুলতে পারে। কিন্তু এসবের কোনোটিই চিরস্থায়ী নয়। সম্পদ মানুষের কল্যাণে ব্যয় না করে শুধু জমিয়ে রাখলে তা প্রকৃত সফলতার নিশ্চয়তা দেয় না।
সুরাটির শেষাংশে আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য সম্পদ ব্যয়কারী ব্যক্তির প্রশংসা করা হয়েছে। ১৮ থেকে ২১ নম্বর আয়াতে বলা হয়েছে, যে ব্যক্তি পবিত্রতা অর্জনের জন্য নিজের সম্পদ দান করে, তার ওপর কারও কোনো প্রতিদানযোগ্য অনুগ্রহ থাকে না; বরং সে তার মহান প্রতিপালকের সন্তুষ্টি কামনা করে। অচিরেই সে সন্তুষ্ট হবে।
সুরা লাইলের মূল শিক্ষা হলো, মানুষের প্রকৃত সাফল্য নির্ভর করে তার ঈমান, নিয়ত ও কাজের ওপর। তাই জীবনের প্রতিটি ক্ষেত্রে সৎপথ বেছে নেওয়া, কৃপণতা ও অহংকার পরিহার করা এবং আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য মানুষের কল্যাণে কাজ করাই হওয়া উচিত প্রত্যেক মুমিনের লক্ষ্য।
এনটি
