ছবি - মৌলভীবাজার শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়িতে সিঁদুর খেলায় মেতেছেন নারীরা।
-->পূজার আনন্দের শেষ প্রহর। বিদায়ের সুর বাজছে মণ্ডপে মণ্ডপে। দেবী দুর্গার চরণে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর একে অপরের কপালে, গালে সিঁদুর মাখিয়ে দিচ্ছেন নারীরা। কারও মুখে হাসি, কারও চোখে অশ্রু চিকচিক করছে। ছবি তোলা, সেলফি আর আনন্দ ভাগাভাগির মধ্য দিয়ে তারা মেতে উঠেছেন সিঁদুর খেলায়। এ যেন বিদায়ের মুহূর্তেও আনন্দকে আঁকড়ে ধরে থাকার এক আয়োজন।
বুধবার (২১ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের মহাদশমী ও প্রতিমা বিসর্জনের দিনে মৌলভীবাজার শহরের বিভিন্ন পূজামণ্ডপে দেখা গেছে এমন দৃশ্য।
সকাল থেকেই বাহারি সাজে মণ্ডপে আসতে শুরু করেন ভক্ত ও দর্শনার্থীরা। বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ে মানুষের ভিড়। দেবী দর্শন, প্রণাম আর সিঁদুর খেলায় মুখর হয়ে ওঠে পূজামণ্ডপ গুলো। বিকেলে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের দুর্গোৎসব।
সকাল ১০টার পর থেকে বিভিন্ন পূজামণ্ডপে সিঁদুর খেলায় অংশ নিতে আসেন নারীরা। দেবীর চরণে সিঁদুর ছোঁয়ানোর পর তারা একে অপরের কপালে ও গালে সিঁদুর মাখিয়ে দেন। কেউ পরিবারের সদস্যদের সঙ্গে, কেউবা বন্ধুদের নিয়ে আনন্দে মেতে ওঠেন। অনেককে আবার মুঠোফোনে স্মৃতির মুহূর্ত ধরে রাখতেও দেখা যায়।
আরও পড়ুন
মৌলভীবাজার শহরের ঘোষবাড়ির পূজামণ্ডপে অন্নপূর্ণা ঘোষ বলেন, ‘বিজয়া দশমীতে সিঁদুর খেলা হয়। সবাই একসঙ্গে মিলিত হয়ে আনন্দের সঙ্গে উৎসব উপভোগ করছি। এই রীতিতে একে অপরের সঙ্গে আনন্দ ভাগাভাগি করা হয়। অনেকেই মণ্ডপে সিঁদুর খেলেন, আবার কেউ কেউ বাড়িতেও এ আয়োজন করেন।’
শহরের কেন্দ্রীয় কালীবাড়িতে সিঁদুর খেলায় অংশ নেন কাকলি অর্জুন, রুমা পাল ও মুন্নি দাস। তারা জানান, বিবাহিত নারীরা সিঁদুর, পান ও মিষ্টি নিয়ে দেবী দুর্গার চরণে সিঁদুর ছোঁয়ান। এরপর একে অপরের কপাল, সিঁথি ও মুখে সিঁদুর মাখিয়ে দেন।
কেন্দ্রীয় কালীবাড়ির পৌরহিত কন্দর্প নারায়ণ চক্রবর্তী বলেন, ‘আমাদের মণ্ডপে সকাল ১০টার দিকে সিঁদুর খেলা শুরু হয়। চলবে দুপুর পর্যন্ত। বিকেলে দেবী দুর্গার প্রতিমা বিসর্জন দেওয়া হবে। সন্ধ্যায় অপরাজিতা ধারণ করা হবে।’
তিনি বলেন, ধর্মীয় বিশ্বাস ও প্রচলিত রীতি অনুসারে সিঁদুর খেলাকে সৌভাগ্য ও স্বামীর দীর্ঘায়ুর কামনার সঙ্গে যুক্ত করা হয়।
জেলা পূজা উদ্যাপন পরিষদের সভাপতি আশু রঞ্জন দাস জানান, বিকেলে প্রতিমা বিসর্জন শুরু হবে।
পুলক পুরকায়স্থ/অন্তরা/
