
ছবি: সংগৃহীত
কোনো অবস্থাতেই মার্কিন সামরিক জাহাজকে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ পারস্য উপসাগরে প্রবেশ করতে দেওয়া হবে না বলে চরম হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ ইরান। শনিবার দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ আলী আবদুল্লাহি রাষ্ট্রিয় টেলিভিশনে এক যৌথ সামরিক ব্রিফিংয়ে স্পষ্টভাবে জানান যে, পারস্য উপসাগরে সামরিক প্রবেশের যে পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্র করছে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সেই স্বপ্ন নিয়েই কবরে যেতে হবে। ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের নতুন করে সম্ভাব্য সামরিক আক্রমণের তীব্র হুমকির মাঝেই তেহরানের পক্ষ থেকে এমন অনমনীয় ও কঠোর প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করা হলো। এদিকে তুরস্কে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত টম ব্যারাক এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছেন যে, চলতি সপ্তাহান্তেই মার্কিন বাহিনী ইরানে সামরিক হামলা চালাতে পারে—এমন সম্ভাবনা কোনোভাবেই উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
চলমান এই উত্তপ্ত ভূ-রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে গত ফেব্রুয়ারি মাসে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকেই কৌশলগতভাবে অতি সংবেদনশীল হরমুজ প্রণালি দিয়ে আন্তর্জাতিক নৌ চলাচল মারাত্মকভাবে সীমিত করে রেখেছে ইরানি সামরিক বাহিনী। জ্বালানি তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহনের অন্যতম প্রধান বৈশ্বিক প্রবেশদ্বার এই প্রণালিতে তেহরানের কড়া নজরদারি ও অনুমোদন সাপেক্ষে জাহাজ চলাচলের নিয়মের বিরুদ্ধে পাল্টা পদক্ষেপ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে ইরানের বিভিন্ন সমুদ্রবন্দর ও বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর নৌ অবরোধ আরোপ করা হয়েছে। ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডসের দাবি অনুযায়ী, তাদের চোখে অবৈধ বিবেচিত পথ দিয়ে হরমুজ অতিক্রমের চেষ্টা করায় বেশ কয়েকটি সুপারট্যাংকার ইতোমধ্যে সমুদ্র মাইনের আঘাতে মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত ও পরিত্যক্ত অবস্থায় সাগরে ভেসে রয়েছে। শান্তিকালীন সময়ে বিশ্বের মোট জ্বালানি চাহিদার প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হওয়া এই সামুদ্রিক করিডোরে নতুন করে সংঘাত বাড়ায় পুরো বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চরম অস্থিরতা ও আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে।
