স্কুলশিক্ষা সংস্কারের বিরোধিতা ও জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভে উত্তাল হয়ে উঠেছে ফ্রান্স। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলন সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটে রূপ নিয়েছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর অভিযানে এক দিনে প্রায় ২ হাজার ৪০০ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। গত এক মাসে বিক্ষোভকারীদের সঙ্গে সংঘাতে আহত হয়েছেন প্রায় এক হাজার পুলিশ ও নিরাপত্তা সদস্য। তাঁদের মধ্যে সাতজনের অবস্থা গুরুতর।
ফরাসি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, গত শনিবার (১৭ অক্টোবর) বিক্ষোভ ঘিরে সহিংসতা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের ওপর হামলা, সরকারি সম্পত্তির ক্ষতিসাধন এবং জননিরাপত্তা বিঘ্নিত করার অভিযোগে ২ হাজার ৩৯৭ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। বিক্ষোভকারীদের হামলায় আহত হয়েছেন ৯৯৭ জন পুলিশ ও নিরাপত্তা কর্মকর্তা। এ ছাড়া প্রায় দেড় হাজার দোকানপাট ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রোববারও দেশজুড়ে জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির প্রতিবাদে বিক্ষোভের জেরে অস্থিরতা অব্যাহত থাকে। পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে ফরাসি প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেছেন, আন্দোলনের নামে সহিংসতা, ভাঙচুর ও লুটপাটের কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না।
ম্যাক্রোঁর ‘ক্ষোভ ও লজ্জা’, সহিংসতার বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান
রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে সহিংসতার তীব্র নিন্দা জানান প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ। তিনি বলেন, “আজ আমরা ক্ষুব্ধ, লজ্জিত। যে অভূতপূর্ব ও অনিয়ন্ত্রিত সহিংসতা চলছে, তার কোনো যৌক্তিকতা থাকতে পারে না। যারা আন্দোলনের নামে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে, ভাঙচুর-লুটপাট করেছে, তাদের অবশ্যই মূল্য দিতে হবে।”
ম্যাক্রোঁ বলেন, দাঙ্গাবাজদের বিরুদ্ধে সরকার আপসহীন থাকবে। শহর, সরকারি ভবন ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা মেয়রদের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেবেন। শহরের রাস্তাঘাট এভাবে তছনছ হতে দেখা অসহনীয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
ক্ষতিগ্রস্ত ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে সহায়তা দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
লুটপাটে শত শত কোটি ইউরোর ক্ষতির আশঙ্কা
ফ্রান্সের খুচরা ব্যবসায়ী ও বাণিজ্য খাতের প্রতিনিধিত্বকারী সংগঠনের প্রধান আলেকজান্দ্রে বোম্পার জানিয়েছেন, বিক্ষোভে প্রায় দেড় হাজার ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এসব প্রতিষ্ঠানের বেশির ভাগই লুটপাটের শিকার হয়েছে বলে তাঁর দাবি। ক্ষয়ক্ষতির আর্থিক পরিমাণ কয়েক শ কোটি ইউরোতে পৌঁছাতে পারে। তবে পূর্ণাঙ্গ হিসাব না পাওয়া পর্যন্ত নির্দিষ্ট অঙ্ক বলা সম্ভব নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
ফ্রান্সের বিভিন্ন শহরে দোকানপাট ভাঙচুর ও লুটপাটের পাশাপাশি সরকারি স্থাপনাতেও হামলার ঘটনা ঘটেছে। লিমোজ শহরের ঐতিহাসিক পৌর ভবনে আগুন লাগার ঘটনায় ভবনটির ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। প্যারিসসহ বিভিন্ন শহরে দোকানের কাচ ভাঙা, যানবাহনে আগুন দেওয়া এবং সড়কে ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে থাকার চিত্র দেখা গেছে।
সানা/আপ্র/১৯/১০/২০২৬
