Published on
:
2 min read
চাষের কাজে ব্যবহৃত ইউরিয়া খাইয়ে গর্ভবতী স্ত্রীকে খুনের অভিযোগের ঘটনায় চাঞ্চল্য। স্ত্রী যে আত্মঘাতী হয়েছেন, তা প্রতিপন্ন করতে স্বামী তাঁর দেহটি নাইলনের দড়ি দিয়ে ঘরের মধ্যে ঝুলিয়ে দেন বলে অভিযোগ। পুলিশ সূত্রে জানা গিয়েছে, মৃত মহিলার নাম অরুণাবেন। গুজরাটের খেদা জেলার এই ঘটনায় পুলিশ মহিলার স্বামী মিতুল সোধা এবং দেওর বিপুল সোধাকে আটক করেছে।
পুলিশ সূত্রে খবর, অরুণাবেনের সঙ্গে তাঁর স্বামী মিতুল সোধার সম্পর্ক খুব একটা ভালো ছিল না। প্রায়ই দু’জনের মধ্যে নানা বিষয় নিয়ে ঝগড়া-অশান্তিও হতো। এমনকী, সন্তান হওয়া নিয়েও অরুণাবেনকে দোষারোপ করতেন তাঁর শ্বশুরবাড়ির লোকজন, এমনই অভিযোগ। পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার দিন রাতেও দু’জনের মধ্যে চরম অশান্তি হয়। এক পর্যায়ে অরুণাবেনকে সোফায় ধাক্কা মেরে ফেলে দেন মিতুল। জোর করে তাঁর মুখ চেপে ধরে তরল ইউরিয়া ঢেলে দেওয়া হয়।
পুলিশের আরও অভিযোগ, খুনের ঘটনায় অরুণাবেনের শাশুড়ি এবং ননদও জড়িত। ঘটনার সময়ে অরুণাবেনের শাশুড়ি কৈলাসবেন এবং তাঁর ননদ আলপাবেন তাঁর হাত-পা চেপে ধরেন। খুনের পরে এই ঘটনাকে আত্মহত্যা বলে চালানোর চেষ্টা করা হয়। বাড়ির পিছনের দিকের একটি ঘরে নাইলনের দড়ির ফাঁস থেকে দেহটি ঝুলিয়ে দেওয়া হয় বলে অভিযোগ পুলিশের। এর পরেই অরুণাবেন আত্মহত্যা করেছেন বলে খবর দেওয়া হয় পুলিশে।
খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে দেহ উদ্ধার করে। প্রাথমিক ভাবে আত্মহত্যার মামলা দায়ের করে ঘটনার তদন্ত শুরু হলেও ময়নাতদন্তের রিপোর্ট প্রকাশ্যে আসতেই সমস্ত ঘটনা পরিষ্কার হয় পুলিশের কাছে। পুলিশের দাবি, গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা নয়, বরং গলায় ইউরিয়া ঢেলে দিয়ে খুন করা হয় অরুণাবেনকে।
তদন্তে নেমে পুলিশ আরও জানতে পারে যে, বেশ কয়েকদিন ধরেই অরুণাবেনকে খুনের পরিকল্পনা করছিলেন মিতুল। এমনকী, স্ত্রী আত্মহত্যা করলে কী কী আইনি ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারে সে বিষয়ে ইন্টারনেটে সার্চ করেছিলেন মিতুল। পুলিশ জানিয়েছে, অরুণাবেনের ভাইয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে মিতুল ও বিপুলকে আটক করা হয়েছে। ঘটনাস্থল থেকে একটি মোবাইল ফোন, ব্লেড এবং নাইলনের দড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, বাড়ির মধ্যে একটি জায়গায় কোনও জিনিসের পোড়া ছাইও উদ্ধার করা হয়েছে। সমস্ত তথ্য-প্রমাণ খতিয়ে দেখে ঘটনার তদন্ত করছে পুলিশ।
