গাজীপুরের কালীগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় রফিকুল ইসলাম (৪৮) নামের এক বিএনপি নেতা ও পুলিশের উপপরিদর্শক (এসআই) মো. মিজানুর রহমান নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় পুলিশের আরও এক এসআই ও গাড়িচালক কনস্টেবল গুরুতর আহত হয়েছেন। তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পর ঘাতক গাড়িটি পালিয়ে যায়। গাড়িটি শনাক্ত বা এর চালককে আটক করতে পারেনি পুলিশ।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) ভোররাতে কালীগঞ্জ পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডে শ্রমিক কলেজসংলগ্ন সড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। রফিক মোল্লা পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক এবং তুমলিয়ার মৃত ওয়াজ উদ্দিনের ছেলে। আহতরা হলেন এসআই জাবেদ ওমর ও পুলিশের গাড়িচালক কনস্টেবল মো. রাব্বি।
জানা যায়, তুমলিয়া এলাকার ওহিদ মোল্লা নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশের একটি দল অভিযান চালায়। তাকে আটক করে থানায় ফেরার পথে শ্রমিক কলেজসংলগ্ন সড়কে পৌঁছায় দলটি। সেখানে অবস্থানরত স্থানীয় বিএনপি নেতা রফিক মোল্লার সঙ্গে এসআই মিজানুর রহমানসহ অন্য পুলিশ সদস্যরা কথা বলছিলেন।
এ সময় দ্রুতগতির একটি অজ্ঞাতনামা গাড়ি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে দাঁড়িয়ে থাকা ব্যক্তিদের চাপা দেয়। এতে ঘটনাস্থলেই বিএনপি নেতা রফিক মোল্লার মৃত্যু হয়। গুরুতর আহত হন পুলিশের তিন সদস্যের মধ্যে দুজন এসআই মিজানুর রহমান ও এসআই জাবেদ ওমর এবং গাড়িচালক কনস্টেবল রাব্বি। তাদের উদ্ধার করে কালীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নেওয়া হলে পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় এসআই মিজানুর রহমান মারা যান।
এদিকে, পুলিশের হাতে আটক হওয়া ওহিদ মোল্লা দুর্ঘটনার পর ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যান বলে জানা গেছে। আহত অপর দুইজনের শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যায়নি।
কালীগঞ্জ থানার ওসি মো. জাকির হোসেন জানান, ঘাতক গাড়িটি শনাক্ত করা বা এর সঙ্গে জড়িত কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। মৃত্যুর ঘটনা ঘটায় এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের প্রক্রিয়া চলছে।
