মুন্সিগঞ্জের লৌহজংয়ের ঐতিহ্যবাহী শিমুলিয়া ঘাটে পদ্মা নদীর নাব্য সংকটে পর্যটক ও ব্যবসা-বাণিজ্যে চরম ধস নেমেছে। নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে চর জেগে ওঠায় ঘাটের স্বাভাবিক চিত্র বদলে গেছে। ঘাটের কাছে চর জেগে ঞাল চর ও ঘাটের মাঝে একটি খালের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে ট্রলার চলাচলে বিপর্যয় নেমে এসেছে। এতে পর্যটকরা ঘাট বিমুখ হয়ে পড়ছে।
সরেজমিনে শিমুলিয়া ঘাটে গিয়ে দেখা যায়, ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীতে বড় একটি চর জেগে ওঠায় একটি মাত্র অত্যন্ত ছোট্ট চ্যানেল দিয়ে অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণভাবে কোনো মতে ট্রলারগুলো চলাচল করছে। ঘাটের কাছে চর পড়ে চর ও ঘাটের মাঝে সৃষ্টি হয়েছে একটি খালের। এই খালেও আবার নেই পানি। সামান্য পানিতে ট্রলারগুলো ঝুঁকি নিয়ে ঘাটে ভিড়ছে। আর এ খাল থেকে নদীতে যেতে বা আসতে ছোট একটি চ্যানেল দিয়ে কোনোমতে চলাচল করছে ট্রলার। মুখোমুখি দুটি ট্রলার এক সঙ্গে এ চ্যানেল পার হতে পারছে না। তাছাড়া তেমন সুব্যবস্থা না থাকায় ট্রলার থেকে নামার সময় পর্যটক যা যাত্রীরা পড়ে যাচ্ছে কাঁদা মাটিতে। কখনও কখনও পড়ে গিয়ে অনেকই আহত হচ্ছে। নাব্য সংকট ও ভোগান্তির কারণে পর্যটকরা এখন শিমুলিয়া ঘাট বিমুখ হয়ে পড়ছেন। ফলে পর্যটক নির্ভর এই ঘাটের ব্যবসা-বাণিজ্যে নেমে এসেছে বড় ধরনের বিপর্যয়।
বিজ্ঞাপন
স্থানীয়দের মতে, এই সংকট থেকে উত্তরণের জন্য ঘাট সংলগ্ন সামনের চরটি বা জেগে ওঠা চর কেটে ফেলা অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে। এই চরটি কেটে ফেললে পুনরায় প্রয়োজনীয় নাব্যতা ফিরে আসবে এবং নির্বিঘ্নে ট্রলার চলাচল করতে পারবে ঘাট থেকে। এতে ঘাটে আবার পর্যটকদের ভিড় জমবে এবং প্রাণ ফিরে পাবে এই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত এই ব্যাপারে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে এমনটাই প্রত্যাশা স্থানীয় ব্যবসায়ী ও ভ্রমণ পিপাসুদের।
এ ব্যাপারে শিমুলিয়া ট্রলার ঘাটের ইজারাদার কাউসার শেখ জানান, প্রায় ৯ শতাধিক ট্রলার চালক ও শ্রমিক জড়িয়ে আছে এই ঘাটকে কেন্দ্র করে। ঘাট সংলগ্ন চরটি কেটে নাব্য সংঘট দূর না করলে এসব লোকজন না খেয়ে মরবে। তাদের আত্মহত্যা করা ছাড়া আর উপায় থাকবেনা।
অপর ইজারাদার হামিদুর রহমান জানান, এখানে দুটি ঘাট আছে। একটি দেশীয় ঘাট আর অপরটি পর্যটক ঘাট। দুটি ঘাটে অর্ধকোটি টাকার উপরে ইজারা হয়েছে। চর পড়ার কারণে এখন ঘাট দুটি মরে গেছে। পর্যটকরা এখানে আসে ট্রলারে চড়ে নদী দেখতে ও সেই সঙ্গে পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করতে। কিন্তু যেহেতু ঘাট থেকে ট্রলার চলাচল প্রায় অচল, তাই পর্যটকরাও ঘাটমুখী হচ্ছে কম। এতে আমাদের ব্যবসায় ধস নেমেছে।
কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত ঘাট সংলগ্ন চরটি কেটে ঘাটের কাছে নাব্য ফিরে আনা। নতুবা বর্তমানে পর্যটকনির্ভর এ ঘাটের সর্বশেষ জৌলুশটিও আর থাকবে না।
শিমুলিয়া নদী বন্দরের বন্দর কর্মকর্তা শাহ নেওয়াজ খান জানান, ঘাটসংলগ্ন পদ্মা নদীর কাছে একটি চর পড়ে ঘাট ও চরের মাঝে একটি খালের সৃষ্টি হয়েছে। নদী থেকে এই খালে পর্যটকবাহী ট্রলারগুলো যাতায়াত করতে পরছে না। এতে পর্যটকরা বিরক্তবোধ করছে এবং ভোগান্তির শিকার হচ্ছে।
বাংলাদেশ অভ্যন্তরিণ নৌ পরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) শিঘ্রই এই চরটি কেটে নাব্য ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।
তবে এ ব্যাপারে স্থানীয় সব মহলের সহযোগিতা না থাকলে এই চর কাটা সম্ভব হবে না। আশা করছি এলাবাসী এ ব্যাপারে সবাই সহযোগিতা করবেন।
এমএইচ
