বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, বাংলাদেশে এলপিজি সরবরাহ ও বিপণনের সঙ্গে বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো জড়িত। সরকার বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের (বিইআরসি) নির্ধারিত ফর্মুলা অনুযায়ী আন্তর্জাতিক বাজারের সঙ্গে সমন্বয় করে প্রতি মাসে এলপিজির মূল্য নির্ধারণ করে।
তিনি বলেন, এলপিজির ডিলার ও বিক্রেতারা তাদের বিভিন্ন দাবিদাওয়া তুলে ধরে চলতি সপ্তাহের শেষ দুই দিন ধর্মঘটের হুমকি দিয়েছেন। এ পরিস্থিতিতে অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক করে বর্তমান ও আগামী বছরের এলপিজি সরবরাহ কীভাবে স্থিতিশীল রাখা যায়, সে বিষয়ে কৌশল নিয়ে আলোচনা হয়েছে। তবে আলোচনার ভিত্তিতে নেওয়া কৌশলগুলো প্রকাশ করার সময় এখনো আসেনি।
তিনি গতকাল বুধবার সচিবালয়ে বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এলপিজি অপারেটরদের সঙ্গে বৈঠক শেষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। এ সময় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ উপস্থিত ছিলেন।
ডিলার পর্যায়ে ধর্মঘটের হুমকির বিষয়ে সতর্ক করে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, অত্যাবশ্যকীয় পণ্য সরবরাহ ও ব্যবসার ক্ষেত্রে সুনির্দিষ্ট আইন রয়েছে। অত্যাবশ্যকীয় পণ্য আইন, ১৯৫৬ অনুযায়ী এ ধরনের পণ্যের সরবরাহ নিয়ে কেউ কারসাজি করার চেষ্টা করলে, বাজারব্যবস্থাকে প্রভাবিত করে জনস্বার্থ বিরোধী পরিস্থিতি সৃষ্টি করলে কিংবা হুমকি দিয়ে জনগণকে দুর্ভোগে ফেলার চেষ্টা করলে সরকার কঠোর ব্যবস্থা নেবে।
মন্ত্রী বলেন, এলপিজির সঙ্গে দেশের লাখ লাখ মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রা জড়িত। রান্নাসহ নানা প্রয়োজনীয় কাজে এ জ্বালানি ব্যবহৃত হয়। ফলে এর সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে সাধারণ মানুষ সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হবে। সরকার কোনোভাবেই এমন পরিস্থিতি মেনে নেবে না।
সরকার ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক সমস্যাগুলো সমাধানে কাজ করতে প্রস্তুত রয়েছে জানিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ব্যবসায়ীদের কোনো দাবি বা সমস্যা থাকলে তা সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে তুলে ধরতে হবে। আলোচনার মাধ্যমে সমাধানযোগ্য বাণিজ্যিক বিরোধের কারণে সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া কিংবা সাধারণ মানুষকে জিম্মি করা গ্রহণযোগ্য নয়। কেউ নিজের স্বার্থে বাজার পরিস্থিতিকে ব্যবহার করার চেষ্টা করলে সরকার তা বরদাশত করবে না।
তিনি আরো বলেন, এলপিজির বাজার স্বাভাবিক রাখা এবং সরবরাহ অব্যাহত রাখার স্বার্থে সরকার অপারেটর ও ডিলারদের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে। তবে আলোচনার সুযোগকে কাজে লাগিয়ে কেউ জনস্বার্থ বিরোধী কর্মসূচি গ্রহণ করলে তার বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে বৈঠকে এলপিজির মূল্য, সরবরাহ, ব্যবসায়ীদের বিভিন্ন দাবি এবং আন্তর্জাতিক বাজারের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির প্রভাব নিয়ে আলোচনা হয়েছে। সরকারের লক্ষ্য হলো, ব্যবসায়ীদের যৌক্তিক সমস্যাগুলোর সমাধান করা এবং একই সঙ্গে সাধারণ ভোক্তাদের স্বার্থ রক্ষা করা। সরকারি পর্যায়ে আলোচনার মাধ্যমে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং বাজারে যাতে সংকট তৈরি না হয়, সে বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
বিআলো/অর্নব