শরীয়তপুর জেলা সদরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে মানববন্ধন কর্মসূচি পালন করেছেন জেলার সর্বস্তরের মানুষ। শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে সদর উপজেলার কোটাপাড়া বড় ব্রিজের ওপারে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পাশে এ কর্মসূচি পালন করা হয়। এ সময় আন্দোলনকারীরা মহাসড়ক অবরুদ্ধ করেন।
আন্দোলনকারীরা জানান, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনের সংসদ সদস্য ইকবাল হোসেন অপু কোটাপাড়া ব্রিজের ওপারে শরীয়তপুর-ঢাকা মহাসড়কের পূর্ব পাশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব উত্থাপন করেছিলেন।
তাঁদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় কয়েকজন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রীর দুর্নীতি, অনিয়ম এবং কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ২০২৪ সালের গণআন্দোলনের মধ্য দিয়ে সরকারের পতন ঘটে। ওই সময় তারেক রহমানের এপিএস মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু দীর্ঘদিন কারাবন্দি ছিলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ের গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর তিনি কারামুক্ত হন।
বক্তারা জানান, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে শরীয়তপুর-২ আসনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু। ভেদরগঞ্জ, ডামুড্যা ও গোসাইরহাট উপজেলা নিয়ে গঠিত এ আসনে তিনি বিজয়ী হন। পরে জাতীয় সংসদের হুইপ মিয়া নুরুদ্দিন আহমেদ অপু জেলা সদরের বাইরে ডামুড্যা উপজেলার পূর্ব ডামুড্যা ইউনিয়নের একটি প্রত্যন্ত এলাকায় কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেন বলে আন্দোলনকারীরা উল্লেখ করেন।
তাঁদের দাবি, জেলা সদরের বাইরে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা দেওয়ার পর থেকেই জেলার সুশীল সমাজসহ সর্বস্তরের মানুষের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। শরীয়তপুর সদর উপজেলার বাসিন্দারা জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবিতে আন্দোলনের ডাক দিয়েছেন।
মানববন্ধনে বক্তব্য দিতে গিয়ে আন্দোলনকারীরা বলেন, প্রয়োজনে তাঁরা রক্ত দেবেন, জীবন দেবেন, তবুও কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় জেলা সদরে প্রতিষ্ঠা করতে চান। জেলা সদরে বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলারও ঘোষণা দেন তাঁরা।
বক্তারা আরও বলেন, শরীয়তপুর-১ (পালং-জাজিরা) আসনে যোগ্য নেতৃত্বের অভাব থাকায় জেলাবাসী এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হয়েছেন বলে তাঁরা মনে করেন। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়, বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, মেগা প্রকল্প, কলকারখানা, শিল্পপ্রতিষ্ঠান ও গবেষণাগার বিভাগীয় শহর কিংবা জেলা শহরের আশপাশে গড়ে তোলার ওপর গুরুত্ব দেন তাঁরা।
আন্দোলনকারীদের অভিযোগ, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে জেলা সদরের বাইরে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় বুড়িরহাট পলিটেকনিক্যাল ইনস্টিটিউট এবং ডামুড্যা উপজেলায় নার্সিং হোম প্রতিষ্ঠা করা হয়েছে। জেলা শহরের বাইরে অবস্থিত হওয়ায় প্রতিষ্ঠান দুটি ধ্বংসের পথে বলে দাবি করেন তাঁরা। এ বিষয়ে সাংবাদিকদের তদন্ত করে দেখার আহ্বান জানান বক্তারা।
মানববন্ধন থেকে আবারও জেলা সদরের পাশে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠার দাবি জানানো হয়। দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ারও ঘোষণা দেন তাঁরা।
এমএ
