পটুয়াখালীর বাউফলে তেঁতুলিয়া নদীতে নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মা ইলিশ শিকার করার দায়ে ১৬ জন জেলেকে গ্রেপ্তার ও ৫ হাজার মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করেছে উপজেলা টাস্কফোর্স।
আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এম এম পারভেজ।
উপজেলা মৎস্য বিভাগ জানায়, ইলিশের প্রধান প্রজনন মৌসুমে মা ইলিশ রক্ষায় উপজেলা টাস্কফোর্স তেঁতুলিয়া নদীতে শনিবার সকাল থেকে রাত পর্যন্ত অভিযান পরিচালনা করেন। এ অভিযানের নেতৃত্বে ছিলেন উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা ও উপজেলা টাস্কফোর্স কমিটির সদস্য সচিব এম এম পারভেজ।
মা ইলিশ রক্ষায় তেঁতুলিয়া নদীর চরমিয়াজান, পোড়াবাড়ি, চরব্যারেট, বাতিরখাল, চরওয়াঢেল ও চরফেডারেশন পয়েন্টে অভিযান চালিয়ে মা ইলিশ শিকারের অপরাধে ১৬ জনকে আটক করা হয়। আটকরা হলেন- বাউফল উপজেলার চন্দ্রদ্বীপ গ্রামের ফয়সাল চৌকিদার (২১), শফিকুল ইসলাম (৪২), রাসেল হাওলাদার (২৫), সালাউদ্দিন (১২), ভোলার দৌলতখান খায়েরহাট গ্রামের ওয়াসিম সরদার (৩৫), গলাচিপা উপজেলার পূর্বপাড় ডাকুয়া গ্রামের রুবলে সরদার (৩১), ভোলার বোরহানউদ্দিন উপজলোর ইস্কুল বাড়ি গ্রামের ফজলে রাব্বি (১৯), মনির রাঢ়ী (৩০), বেল্লাল হোসেন (২১), ইয়াসিন (১৯), জাহিদ ফকির (১৩), বরিশালের সাহেবের হাটের ভেদুরিয়া গ্রামের জাকির হোসেন (৪৫), মাহবুব মাল (৪৮), নুরুল ইসলাম মিস্ত্রি (৪০), বাবুল মেলকার (২২) ও হাচনাইন (২১)।
ভ্রমাম্যাণ আদালতের বিচারক ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) সাইয়েদ মাহমুদ বুলবুল মৎস্য সংরক্ষণ ও সুরক্ষা আইন-১৯৯০ এর অধীনে আটকদের মধ্যে ১৪ জনকে পাঁচ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড প্রদান করা হয়। বাকি দুজন অপ্রাপ্তবয়স্ক হওয়ায় তাদের মুচলেকায় মুক্তি দেওয়া হয়।
সিনিয়র উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা এমএম পারভেজ বলেন, ‘গত ৮ অক্টোবর থেকে মা ইলিশ রক্ষা অভিযান চলছে। মৎস্য বিভাগ নিয়মিত নদীতে টহল দিচ্ছেন। নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে মাছ শিকারের অপরাধে মোট ৫৭ জনকে আটক করা হয়েছে। তাদের ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়া হয়েছে। এছাড়াও প্রায় ১ লাখ মিটার নিষিদ্ধ জাল জব্দ করা হয়েছে, যা পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়। আগামী ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত এ অভিযান চলবে।
