ঢাকার সাভারের আশুলিয়ায় আদালতের অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা ও চলমান দেওয়ানি মামলা থাকা সত্ত্বেও ভাঙচুর ও লুটপাটের মামলার এক আসামিকে অন্তর্ভুক্ত করে তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাযিল (স্নাতক) মাদরাসায় নতুন অ্যাডহক কমিটি অনুমোদনের অভিযোগ উঠেছে।
গত রবিবার (১১ অক্টোবর) ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এ কে মোহা. নুরুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক প্রজ্ঞাপনে ছয় মাস মেয়াদি পাঁচ সদস্যের নতুন অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, আশুলিয়ার শ্রীপুর এলাকার তাহফিযুল কুরআনিল কারিম ফাযিল মাদরাসা ও আসিয়া আশরাফ মহিলা মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ, ট্রাস্টের মালিকানা এবং সম্পত্তি নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছে। এ নিয়ে একাধিক দেওয়ানি ও ফৌজদারি মামলা হয়েছে।
আরও পড়ুন
সম্পত্তি সুরক্ষার দাবিতে আশরাফ চ্যারিটেবল ট্রাস্টের পক্ষ থেকে ঢাকার দ্বিতীয় যুগ্ম জেলা জজ আদালতে একটি দেওয়ানি মামলা করা হয়। মামলার পরিপ্রেক্ষিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সংশ্লিষ্ট সম্পত্তিতে স্থিতাবস্থা বজায় রাখার নির্দেশ দিয়ে অস্থায়ী নিষেধাজ্ঞা জারি করেন আদালত।
সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দাবি, আদালতের নির্দেশনার পর মাদরাসার মূল ফটকেও এ-সংক্রান্ত নোটিশ টানানো হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে নতুন অ্যাডহক কমিটি অনুমোদন দেওয়ায় বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
মামলার নথি অনুযায়ী, নতুন কমিটির বিদ্যোৎসাহী প্রতিনিধি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত ডা. মোহাম্মদ সালেহউদ্দীন সাঈদ আশুলিয়া থানায় করা তিনটি মামলার আসামি।
নথিতে উল্লেখ রয়েছে, গত বছরের ২২ সেপ্টেম্বর হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে করা মামলায় তিনি তিন নম্বর আসামি। চলতি বছরের ৯ মার্চ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে করা মামলায় তিনি আট নম্বর আসামি। এ ছাড়া গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভাঙচুর ও বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটের অভিযোগে করা মামলায় তাকে সাত নম্বর আসামি করা হয়েছে।
তবে এসব মামলায় তার বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে ডা. মোহাম্মদ সালেহউদ্দীন সাঈদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সূত্র ও মামলার নথি অনুযায়ী, মাদরাসার নিয়ন্ত্রণ ও সম্পত্তি নিয়ে বিরোধকে কেন্দ্র করে গত এক বছর একাধিক সংঘর্ষ ও মামলা হয়েছে। গত বছরের ২৫ জুন ডা. মোহাম্মদ সালেহউদ্দীন সাঈদের বিরুদ্ধে স্বেচ্ছাচারিতা ও তহবিল তছরুপের অভিযোগ তুলে তাকে ক্যাম্পাসে অবাঞ্ছিত ঘোষণা করা হয় বলে জানা গেছে।
এরপর একই বছরের ২২ সেপ্টেম্বর হামলা ও লুটপাটের অভিযোগে আশুলিয়া থানায় মামলা করেন ট্রাস্টের সেক্রেটারির সহকারী এস এ টি নুরুজ্জামান।
চলতি বছরের ৯ মার্চ হামলা, ভাঙচুর ও চাঁদা দাবির অভিযোগে আরেকটি মামলা করেন মাদরাসার উপপরিচালক (প্রশাসন) সৈয়দ সানজিদ। সর্বশেষ গত ২৭ সেপ্টেম্বর ভাঙচুর ও অর্থ লুটের অভিযোগে আরও একটি মামলা হয়। এসব ঘটনাকে কেন্দ্র করে পাল্টাপাল্টি মামলার কথাও জানা গেছে।
আদালতের নিষেধাজ্ঞা থাকা অবস্থায় কমিটি অনুমোদনের বিষয়ে জানতে চাইলে ইসলামী আরবি বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক ড. এ কে মোহা. নুরুল ইসলাম বলেন, ‘ট্রাস্ট পরিচালিত মাদরাসায় অভ্যন্তরীণ বিরোধ থাকতে পারে। তবে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কপি হাতে পেলে তা যাচাই করে বিশ্ববিদ্যালয়ের নিয়ম অনুযায়ী পরবর্তী প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’
সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মোহাম্মদ আব্দুর রউফ মিয়া বলেন, ‘আদালতের নিষেধাজ্ঞা বলবৎ থাকা অবস্থায় নতুন কমিটি গঠন এবং গুরুতর ফৌজদারি মামলার আসামিকে কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়টি আইনিভাবে প্রশ্নবিদ্ধ।’
এ বিষয়ে সাভার উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘নতুন কমিটি গঠনের বিষয়টি শুনেছি। যারা কমিটি গঠন করেছেন, তাদের আইনি পরিস্থিতি পরিষ্কার না হওয়া পর্যন্ত কোনো সভা না করার কথা বলা হয়েছে। এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি এড়াতে প্রশাসন সতর্ক রয়েছে এবং বিরোধের সুষ্ঠু সমাধানের চেষ্টা করছে।’
সোহান/খাদিজা রুমি/
