জামালপুরের মাদারগঞ্জ উপজেলায় মাত্র ৫০০ টাকার বাজির জেরে একটি জীবিত শালিক পাখি কাঁচা খাওয়ার পৈশাচিক ও চাঞ্চল্যকর ঘটনায় সাদুল্লাহ (৫৭) নামের এক অটোরিকশাচালককে আটক করেছে পুলিশ। বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার কোয়ালীকান্দী মধ্যপাড়া এলাকা থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক সাদুল্লাহ ওই এলাকার মৃত হাফিজলের ছেলে।
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) বিকেল ৪টার দিকে মাদারগঞ্জ উপজেলার কোয়ালীকান্দী বাজারে উপস্থিত লোকজনের সঙ্গে মাত্র ৫০০ টাকা বাজি ধরেন সাদুল্লাহ। বাজি জেতার উন্মাদনায় তিনি একটি নিরীহ জীবিত শালিক পাখি অত্যন্ত নির্মমভাবে কাঁচা খেয়ে ফেলেন। পরদিন বুধবার সকালে এই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে মুহূর্তের মধ্যে তা ভাইরাল হয়ে যায়। ভিডিওটি জেলাজুড়ে তীব্র নিন্দা, আলোচনা ও সমালোচনার ঝড় তোলে। পরে বিষয়টি পুলিশের নজরে এলে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, সাদুল্লাহ নামের ওই ব্যক্তি একটি জীবন্ত পাখি হাতে নিয়ে এর পা ও ডানা মুচড়ে ভেঙে ফেলছেন। পাখিটি ছটফট করার একপর্যায়ে তিনি সেটি কাঁচাই ছিঁড়ে ছিঁড়ে খেয়ে ফেলেন। এ সময় উপস্থিত কৌতূহলী জনতার অনেকেই উল্লাস প্রকাশ করেন, যা নিয়ে সমাজের বিভিন্ন মহলে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় তীব্র ক্ষোভ প্রকাশ করে জেলার পরিবেশ ও বন্যপ্রাণী সংরক্ষণকারী স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ‘বিহঙ্গের’ সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান রবিন বলেন, যেখানে বাজারে সামান্য টাকায় অন্য মাংস পাওয়া যায়, সেখানে একটি নিরীহ বন্যপ্রাণীকে এভাবে জীবন্ত খাওয়ার মতো বিকৃত মানসিকতা চরম অমানবিকতার বহিঃপ্রকাশ। এসব মানুষের মধ্যে নীতি, নৈতিকতা ও রুচিবোধের তীব্র অভাব রয়েছে। বন্যপ্রাণী ধরা ও মারা আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে সরকারের পক্ষ থেকে আরও জোরালো ও ব্যাপক প্রচারণা চালানো প্রয়োজন।
মাদারগঞ্জ মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) স্নেহাশীষ রায় আটকের সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, বুধবার (১৪ অক্টোবর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে নিজ বাড়ি থেকে সাদুল্লাহকে আটক করে থানায় নিয়ে আসা হয়েছে। পাশাপাশি শেরপুর বনবিভাগের কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করা হয়েছে। বনবিভাগের কর্মকর্তারা থানায় পৌঁছানোর পর আইনগত প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে আসামiniকে তাদের কাছে হস্তান্তর করা হবে। তবে যে বা যারা এই অমানবিক বাজির সঙ্গে জড়িত ছিলেন, তাদের আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় সচেতন মহল।
