বিএনপি
ছবি: সংগৃহীত
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে নিজের গাড়ি থেকে সরকারি প্রতীক খুলে ফেলেছেন ইশরাক হোসেন। সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে বাসা থেকে জাতীয় প্রেসক্লাবে যাওয়ার পথে তিনি নিজেই প্রতীকটি খুলে দেন। এ সময় তিনি জানান, দল তাঁর পদত্যাগ চায়নি; বিশেষ কারণে নিজেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
প্রেসক্লাবে যাওয়ার পথে গাড়ি থেকে সরকারি প্রতীক খোলার ঘটনাটি রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। পদত্যাগের ঘোষণা দেওয়ার আগে প্রতিমন্ত্রীর এমন পদক্ষেপ তাঁর সিদ্ধান্তের বিষয়টি আরও সামনে নিয়ে আসে।
গাড়ি থেকে প্রতীক খোলার সময় ইশরাক হোসেন বলেন, দল তাঁর পদত্যাগ চায়নি। বিশেষ কারণে তাঁকে পদ ছাড়তে হচ্ছে এবং তিনি নিজেই এ সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে কী কারণে পদত্যাগ করছেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি তিনি।
একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানান ইশরাক। তাঁর বক্তব্য, প্রতিমন্ত্রীর পদ ছাড়লেও মাদকের বিরুদ্ধে লড়াই থামবে না। এর আগে তিনি জানিয়েছিলেন, পদত্যাগের পর বিএনপির একজন কর্মী হিসেবে মাদক নির্মূলে আরও সক্রিয়ভাবে কাজ করতে চান।
এরপর জাতীয় প্রেসক্লাবে গিয়ে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেন ইশরাক। সেখানে তাঁর সঙ্গে বিপুলসংখ্যক নেতা-কর্মী উপস্থিত ছিলেন। তাঁরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে তাঁকে স্বাগত জানান। পরে নেতা-কর্মীদের সঙ্গে নিয়ে প্রেসক্লাবের একটি হলে যান তিনি এবং সাংবাদিকদের সামনে নিজের সিদ্ধান্ত তুলে ধরেন।
এর আগে ১৭ অক্টোবর রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় মাদকবিরোধী অভিযানে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে ইশরাকের উপস্থিতির একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। ভিডিওটি প্রকাশ্যে আসার পর ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়। এ নিয়ে রাজনৈতিক অঙ্গনেও অস্বস্তি তৈরি হয় বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
ওই ঘটনার পরদিন তাঁর পদত্যাগের সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। পরে ১৯ অক্টোবর সকালে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পাতায় দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে পদত্যাগের চূড়ান্ত ঘোষণা দেওয়ার কথা জানান তিনি।
তবে গাড়ি থেকে সরকারি প্রতীক খুলে ফেলার ঘটনাটি পদত্যাগের আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার অংশ কি না, সে বিষয়ে আলাদা কোনো ব্যাখ্যা দেননি ইশরাক। তাঁর বক্তব্য অনুযায়ী, পদত্যাগের সিদ্ধান্ত ব্যক্তিগত এবং বিশেষ কারণে নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে মাদকবিরোধী কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকারও পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
মাতৃভূমির খবর
- বিষয়:
- ইশরাক হোসেন

