Published on
:
3 min read
ভারতীয় ক্রিকেটে ঘরোয়া মরশুম শুরু হতেই সূচি নিয়ে প্রশ্ন তুলে দিলেন প্রাক্তন অধিনায়ক সুনীল গাভাস্কর (Sunil Gavaskar)। রঞ্জি ট্রফির (Ranji Trophy) ম্যাচের সঙ্গে একই সময়ে ভারত ‘এ’ দলের ম্যাচ রাখা নিয়ে আপত্তি জানিয়েছেন তিনি। তাঁর মতে, এর ফলে রাজ্য দলের হয়ে অনেক ক্রিকেটারই খেলতে পারছেন না। পাশাপাশি, রঞ্জি ট্রফিতে ক্রিকেটারদের পারফরম্যান্সের মান নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গাভাস্কর। তাঁর বক্তব্য, ঘরোয়া ক্রিকেটের ম্যাচের সঙ্গে ভারত ‘এ’ দলের ম্যাচের সংঘাত হলে প্রতিযোগিতার গুরুত্বই কমে যায়।
রঞ্জি ট্রফির সঙ্গে একই সময়ে ভারত ‘এ’ দলের ম্যাচ কেন
রবিবার থেকে শুরু হয়েছে রঞ্জি ট্রফির নতুন মরশুম। কিন্তু একই দিনে ছিল ভারত ‘এ’ এবং অস্ট্রেলিয়া ‘এ’ দলের ম্যাচের শেষ দিন। ফলে রাজ্য দলের হয়ে বেশ কয়েক জন ক্রিকেটার খেলতে পারেননি। রজত পাতিদার (Rajat Patidar), দেবদত্ত পাডিক্কাল (Devdutt Padikkal) এবং ঋতুরাজ গায়কোয়াড়ের (Ruturaj Gaikwad) মতো ক্রিকেটাররা ভারত ‘এ’ দলের দায়িত্বে থাকায় নিজেদের রাজ্য দলের হয়ে খেলতে পারেননি।
চলতি মাসের শেষ দিকে নিউ জ়িল্যান্ড সফরে যাওয়ার কথা ভারত ‘এ’ দলের। সেখানে তিনটি বেসরকারি টেস্ট ম্যাচ খেলবে দল। সেই সফরের কারণেও ঘরোয়া ক্রিকেটে ক্রিকেটারদের পাওয়া যাবে না। এই সূচি নিয়েই আপত্তি গাভাসকরের। প্রাক্তন ভারত অধিনায়ক নিজের কলামে লিখেছেন, ‘ভারত এ দলের ম্যাচ অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। এই ম্যাচগুলি থেকে বোঝা যায়, কোন ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক স্তরে সফল হওয়ার ক্ষমতা রাখে। কিন্তু রঞ্জি ট্রফির মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতা চলার সময়ে ভারত এ দলের ম্যাচ রাখা উচিত নয়। দু’টি প্রতিযোগিতার ম্যাচ একই সময়ে হওয়া একেবারেই কাম্য নয়।’
ঘরোয়া ক্রিকেটে পারফরম্যান্সের মান নিয়েও প্রশ্ন
রঞ্জি ট্রফির এলিট ডিভিশনে দলগুলির মধ্যে লড়াই আগের তুলনায় অনেক বেশি প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ হয়েছে বলে মনে করেন গাভাস্কর। তাঁর মতে, আগে যে দলগুলি খুব একটা প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারত না, তারাও এখন রঞ্জি ট্রফি জিতছে। এটা অবশ্যই ইতিবাচক দিক। কিন্তু আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলা ভারতীয় ক্রিকেটাররা ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় নিয়মিত না খেলায় অন্য ক্রিকেটারদের প্রকৃত দক্ষতা যাচাই করা কঠিন হয়ে পড়ছে।
গাভাস্কর লিখেছেন, ‘এলিট ডিভিশনে দলগুলির মধ্যে ব্যবধান অনেকটাই কমেছে। আগে যে দলগুলি তেমন প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারত না, তারাও এখন রঞ্জি ট্রফি জিতছে। এটা খুবই উৎসাহজনক। কিন্তু ভারতীয় দলের ক্রিকেটাররা যখন ঘরোয়া প্রতিযোগিতায় প্রায় খেলেনই না, তখন অন্য ক্রিকেটারদের প্রকৃত দক্ষতা বোঝা কঠিন হয়ে যায়।’ তিনি আরও লিখেছেন, ‘রঞ্জি ট্রফিতে সর্বাধিক রান করা বা সবচেয়ে বেশি উইকেট নেওয়া ক্রিকেটারদের যখন ভারতীয় দলে সুযোগ দেওয়া হয়, তখন তাঁদের অনেকেই আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে নিজেদের মানিয়ে নিতে সমস্যায় পড়েন। কেউ কেউ দ্রুত হারিয়ে যান। আবার কয়েক জন দলে সুযোগ পাওয়ার কাছাকাছি পৌঁছেও শেষ পর্যন্ত নিজেদের জায়গা পাকা করতে পারেন না।’
গাভাস্করের মতে, ঘরোয়া ক্রিকেটে প্রতিদ্বন্দ্বিতার অভাব থাকলে ব্যাটার বা বোলার সহজেই বড় রেকর্ড গড়তে পারেন। কিন্তু সেই রেকর্ড আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সাফল্যের নিশ্চয়তা দেয় না। তাঁর কথায়, ‘এর কোনও সহজ সমাধান নেই। ভারত এ দলের ম্যাচ অবশ্যই সাহায্য করে বুঝতে, কোন ক্রিকেটার আন্তর্জাতিক স্তরে সফল হতে পারেন আর কে শুধু রঞ্জি ট্রফিতেই ভালো খেলছেন। ভারত এ দলের আরও ম্যাচ আয়োজনের প্রয়োজন রয়েছে। তবে রঞ্জি ট্রফির মতো ঘরোয়া প্রতিযোগিতা চলার সময়ে নয়। কারণ, প্রতিদ্বন্দ্বিতা দুর্বল হলে কোনও ব্যাটার এক মরশুমে ২০০০ রান বা কোনও বোলার ১০০ উইকেটও নিতে পারেন।’
প্লেট ডিভিশনের রেকর্ড নিয়েও সরব গাভাস্কর
রঞ্জি ট্রফির প্লেট ডিভিশনে ব্যাটিং ও বোলিং— দু’টি ক্ষেত্রেই একের পর এক রেকর্ড তৈরি হওয়া নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন গাভাস্কর। তাঁর মতে, সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে রঞ্জি ট্রফিতে অন্তর্ভুক্ত করার সিদ্ধান্তের ফলে প্রতিযোগিতার সামগ্রিক মান কমেছে। তিনি লিখেছেন, ‘রঞ্জি ট্রফির প্লেট ডিভিশনেও ব্যাটিং ও বোলিংয়ে একের পর এক রেকর্ড তৈরি হচ্ছে। লোধা কমিটি যখন সব রাজ্য ও কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলকে রঞ্জি ট্রফিতে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছিল, তখন তার ফলে প্রতিযোগিতার মান কমে যায়।’
এই সিদ্ধান্তের পরে নতুন কয়েকটি রাজ্য দলের পরিকাঠামোও যথেষ্ট উন্নত ছিল না বলে দাবি করেছেন গাভাস্কর। সেই দলগুলির অনেকেই অন্য রাজ্যের এমন ক্রিকেটারদের দলে নিয়েছিল, যাঁরা নিজেদের রাজ্য দলে জায়গা পাননি।
গাভাস্করের দাবি, ‘এই ক্রিকেটাররা ভালো ছিলেন, কিন্তু নিজেদের রাজ্য দলে জায়গা করে নিতে পারেননি। তাই তাঁরা প্লেট ডিভিশনের দলগুলিতে যোগ দেন। এই দলগুলির বেশির ভাগই যখন এলিট ডিভিশনের দলের বিরুদ্ধে খেলেছে, তখন তাদের দুর্বলতা স্পষ্ট হয়ে গিয়েছে। দু’টি ডিভিশনের মধ্যে মানের যে বিশাল ব্যবধান রয়েছে, তা-ও সামনে এসেছে। তা সত্ত্বেও এই ম্যাচগুলিতে তৈরি হওয়া রেকর্ডকে রঞ্জি ট্রফির রেকর্ড হিসেবেই ধরা হচ্ছে।’