আজকাল ওয়েবডেস্ক: চাপের পরিস্থিতিতে কীভাবে নিজেকে সামলে সেরাটা দিতে হয়, তা নিয়ে মুখ খুললেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের তারকা ব্যাটার ও টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপজয়ী অধিনায়ক রোহিত শর্মা। তাঁর মতে, বড় মঞ্চে সাফল্য পাওয়ার জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হল সঠিক প্রস্তুতি এবং নিজের উপর আত্মবিশ্বাস। মাঠে নামার আগে প্রতিপক্ষের শক্তি, বোলারদের পরিকল্পনা এবং তাঁদের বল করার ধরন সম্পর্কে বিস্তারিত বিশ্লেষণ করেন বলেও জানিয়েছেন তিনি।
সনি এন্টারটেনমেন্ট টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ‘ফ্যামিলি ফুল হাউজ উইথ রোহিত শর্মা’ অনুষ্ঠানে রোহিতের কাছে চাপ সামলানোর কৌশল জানতে চান গায়ক মিকা সিং। তাঁর প্রশ্ন ছিল, মাঠে যখন হাজার হাজার দর্শক রোহিতের নাম ধরে চিৎকার করেন এবং প্রত্যাশার চাপ থাকে তুঙ্গে, তখন কীভাবে নিজের খেলায় মনোযোগ ধরে রাখেন তিনি? মিকা আরও বলেন, ১০ থেকে ১৫ হাজার দর্শকের সামনে অনুষ্ঠান করা এবং ক্রিকেটের মাঠে প্রত্যাশার চাপ সামলে খেলা, দুটি সম্পূর্ণ আলাদা বিষয়।
এর উত্তরে রোহিত জানান, ম্যাচের আগে প্রস্তুতির উপরই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। তাঁর কথায়, ভালভাবে প্রস্তুতি নেওয়ার ফলে মাঠে নামার সময় নিজের উপর আত্মবিশ্বাস থাকে। কী করতে হবে এবং কীভাবে পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হবে, তা আগে থেকে বুঝে নেওয়াই তাঁকে সাহায্য করে।
রোহিত বলেন, পরীক্ষায় বসার আগে যেমন ভালভাবে পড়াশোনা করে যেতে হয়, ক্রিকেটের ক্ষেত্রেও বিষয়টি অনেকটা একই রকম। প্রতিপক্ষ কোন দল, তাদের বোলার কারা, তারা কোথায় বল করেন এবং কোন জায়গায় বল করে তাকে আউট করার চেষ্টা করতে পারেন, এই সমস্ত বিষয় খুঁটিয়ে বিশ্লেষণ করেন তিনি। তাঁর কাছে এই বিশ্লেষণই প্রস্তুতির অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ অংশ।
তবে প্রত্যেক ক্রিকেটারের প্রস্তুতির ধরন যে এক নয়, সেই কথাও স্পষ্ট করে দিয়েছেন ভারতীয় তারকা। রোহিতের মতে, প্রত্যেক খেলোয়াড়ের নিজস্ব পদ্ধতি ও মানসিকতা রয়েছে। বর্তমানে যাঁরা ভারতের হয়ে খেলছেন কিংবা অতীতে খেলেছেন, তাঁরা প্রত্যেকেই নিজেদের মতো করে প্রস্তুতি নিয়ে দেশের হয়ে অবদান রেখেছেন। তাই কোনও একটি পদ্ধতিকে একমাত্র সঠিক বলে মনে করেন না তিনি। বরং নিজের জন্য উপযুক্ত পদ্ধতি খুঁজে নেওয়াই আসল বলে জানিয়েছেন রোহিত।
উল্লেখ্য, আইসিসি-র বিভিন্ন ফরম্যাটের টুর্নামেন্টে নক আউট ম্যাচে রোহিতের পরিসংখ্যানও যথেষ্ট উল্লেখযোগ্য। ২১টি ম্যাচের ২৩টি ইনিংসে ৮৮৪ রান করেছেন তিনি। ব্যাটিং গড় ৪৪.২০। রয়েছে দুটি শতরান ও দুটি অর্ধশতরান। সর্বোচ্চ স্কোর ১৩৭। অধিনায়ক হিসেবে পাঁচটি আইপিএল ট্রফি জয়ের পাশাপাশি ২০২৪ সালের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ এবং চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফিতে ভারতের সাফল্যেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন তিনি।
এদিকে, ২০২৭ সালের ওয়ান ডে বিশ্বকাপের আগে রোহিতের ভবিষ্যৎ এবং ফিটনেস নিয়ে আলোচনা চললেও একদিনের ক্রিকেটে তাঁর পারফরম্যান্স নজর কাড়ছে। ওডিআই ক্রিকেটে এখনও পর্যন্ত ১২,১২০ রান করেছেন তিনি। ২৯১টি ম্যাচের ২৮৩টি ইনিংসে তাঁর ব্যাটিং গড় ৪৯.২৬। রয়েছে ৩৫টি শতরান ও ৬৩টি অর্ধশতরান। সর্বোচ্চ স্কোর ২৬৪।
চলতি বছরও ওডিআই ক্রিকেটে ধারাবাহিকতা বজায় রেখেছেন রোহিত। ১২টি ইনিংসে ৬০৪ রান করেছেন তিনি। ব্যাটিং গড় ৫০.৩৩ এবং স্ট্রাইক রেট ১০৪.৬৭। এই সময়ে দুটি শতরান ও দুটি অর্ধশতরান এসেছে তাঁর ব্যাট থেকে। সম্প্রতি ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিরুদ্ধে ওডিআই সিরিজে তিনটি ইনিংসে ২২৫ রান করে ভারতের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ রানসংগ্রাহক হন তিনি। ৭৫ গড়ে ব্যাট করার পাশাপাশি একটি শতরান ও একটি অর্ধশতরান করেন রোহিত।
আগামী দিনে বিরাট কোহলির সঙ্গে নিউজিল্যান্ডের বিরুদ্ধে পাঁচ ম্যাচের ওডিআই সিরিজে রোহিতের খেলার কথা রয়েছে। এরপর ১৩ ডিসেম্বর থেকে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দেশের মাটিতে তিন ম্যাচের একদিনের আন্তর্জাতিক সিরিজেও অংশ নেওয়ার কথা তাঁর। মাঠের বাইরের প্রস্তুতি এবং মাঠের ভিতরের আত্মবিশ্বাস,এই দুইয়ের সমন্বয়েই যে বড় ম্যাচে সাফল্য আসে, রোহিতের বক্তব্যে ফের সেই বার্তাই উঠে এসেছে।
