ভারতীয় ক্রিকেট দলের জাতীয় নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যানের পদে অজিত আগরকরের বিকল্প খুঁজতে গিয়ে কার্যত হিমশিম অবস্থা বিসিসিআইয়ের। পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিনিধি হিসেবে নতুন নির্বাচক নিয়োগ করতে চাইছে বোর্ড। কিন্তু পছন্দের একাধিক প্রাক্তন ক্রিকেটারের সঙ্গে যোগাযোগ করেও এখনও ইতিবাচক সাড়া মেলেনি। এমনকী দেশের হয়ে প্রায় ১০০টি টেস্ট খেলা দুই প্রাক্তন ক্রিকেটারও বোর্ডের প্রস্তাবে রাজি হননি বলে খবর।
এক সর্বভারতীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, পশ্চিমাঞ্চলের বেশ কয়েকজন প্রাক্তন ক্রিকেটারের সঙ্গে কথা বলেছেন বোর্ডের কর্তারা। কিন্তু তাঁদের কেউই আগ্রহ দেখাননি। ফলে আগরকরের উত্তরসূরি বেছে নেওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। আগরকরের পরিবর্ত খুঁজতে ইতিমধ্যেই আবেদন গ্রহণের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল বিসিসিআই। ১৪ অক্টোবর ছিল আবেদনের শেষ দিন। বোর্ডের নিয়ম অনুযায়ী, আগরকর পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিনিধি হওয়ায় তাঁর জায়গায় সেই অঞ্চল থেকেই নতুন নির্বাচক নিয়োগ করতে হবে।
সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে উঠে এসেছিল পার্থিব প্যাটেলের নামও। শোনা যাচ্ছিল, তাঁর সঙ্গে বোর্ডের কয়েকজন কর্তার কথাবার্তাও হয়। কিন্তু শেষ পর্যন্ত তিনিও আবেদন করেননি। ফলে বিকল্প খোঁজার কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়েছে। বর্তমানে জাতীয় নির্বাচক কমিটিতে রয়েছেন প্রজ্ঞান ওঝা, রুদ্রপ্রতাপ সিং, শিবসুন্দর দাস ও অজয় রাত্রা। আগরকরের অনুপস্থিতিতে আপাতত চেয়ারম্যানের দায়িত্ব সামলাচ্ছেন ওঝা। নিয়ম অনুযায়ী, নির্বাচক কমিটির সদস্যদের মধ্যে যিনি সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক ম্যাচ খেলেছেন, তিনিই চেয়ারম্যান হন। সেই হিসাবেই আগরকরের মেয়াদের বাকি সময়ের জন্য দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে ওঝাকে।
এদিকে, পশ্চিমাঞ্চল থেকে আবেদন করা প্রাক্তন ক্রিকেটারদের মধ্যে রমেশ পাওয়ার এবং সমীর দিঘের নাম উল্লেখযোগ্য। আগে শোনা যাচ্ছিল, ছোটদের দলের নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান করা হতে পারে পাওয়ারকে। কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতিতে তাঁকে জাতীয় নির্বাচক কমিটিতে পশ্চিমাঞ্চলের প্রতিনিধি হিসাবে আনার সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তবে পাওয়ারকে নিয়োগ করা হলেও চেয়ারম্যানের পদে ওঝারই এগিয়ে থাকার সম্ভাবনা বেশি। আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে অভিজ্ঞতার নিরিখে আপাতত বাকিদের তুলনায় এগিয়ে রয়েছেন তিনি।
অন্যদিকে, ছোটদের দলের নির্বাচক কমিটির চেয়ারম্যান হিসাবে দিঘেকে দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জল্পনা চলছে। তবে গোটা ব্যাপারটাই রয়েছে জল্পনার পর্যায়ে। আগরকরের বিকল্প বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছতে পারেনি বিসিসিআই। পশ্চিমাঞ্চলের উপযুক্ত প্রার্থী খুঁজে পাওয়াই এখন বোর্ডের কাছে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।
