সুদান ও দক্ষিণ সুদানের বিরোধপূর্ণ সীমান্ত অঞ্চল আবিয়েইর একটি বাজারে ড্রোন হামলায় অন্তত ১৫৩ জন নিহত হয়েছেন। হামলার জন্য সুদানের সামরিক বাহিনীকে দায়ী করেছেন দক্ষিণ সুদানের এক কর্মকর্তা। হামলার পরও ঘটনাস্থলে আগুন জ্বলতে থাকায় হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মঙ্গলবার আবিয়েই প্রশাসনের তত্ত্বাবধায়ক তথ্যমন্ত্রী ইয়োহানা আকল এনগোর জানান, হামলার পরও ঘটনাস্থলে আগুন জ্বলছিল। পরিস্থিতি অত্যন্ত ভয়াবহ উল্লেখ করে তিনি বলেন, কয়েকটি মরদেহ আগুনে পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। রয়টার্সকে তিনি আরও জানান, উদ্ধারকাজ চলার মধ্যে নিহতের সংখ্যা বাড়ার আশঙ্কা রয়েছে।
দক্ষিণ সুদানের পররাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বাজারের একাধিক স্থানে ড্রোন আঘাত হানে। এ ঘটনায় প্রতিবাদ জানাতে সুদানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করা হয়েছে। একই সঙ্গে বেসামরিক মানুষের জীবন ও সম্পদের জন্য হুমকি তৈরি করে এমন কর্মকাণ্ড বন্ধ করতে সুদানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে দেশটি।
তবে হামলার লক্ষ্য নিয়ে ভিন্ন বক্তব্য দিয়েছেন সুদানের এক জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তা। নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে তিনি বলেন, দক্ষিণ সুদান থেকে আরএসএফের উদ্দেশে আসা জ্বালানিবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে সেনাবাহিনী। নিহত ব্যক্তিরা আরএসএফের সদস্য ও জ্বালানি চোরাকারবারি বলে দাবি করেন তিনি। তাঁর বক্তব্য, সেনাবাহিনী বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্য করে হামলা চালায় না। এ বিষয়ে সুদানের সশস্ত্র বাহিনীর আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কূটনীতিক রয়টার্সকে জানান, হামলায় বাজারের একটি জ্বালানি ডিপো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। অতীতে ওই ডিপো আরএসএফের যোদ্ধাদের রসদ সরবরাহে ব্যবহৃত হয়েছে বলে তাঁদের দাবি। অন্যদিকে, হামলার বিষয়ে আরএসএফের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি।
এদিকে, আবিয়েইয়ের আমিয়েত বাজার ও তোদাচের কাছে ড্রোন হামলার নিন্দা জানিয়েছে জাতিসংঘ। মঙ্গলবার জাতিসংঘ মহাসচিবের মুখপাত্র স্টেফান দুজারিক বলেন, এসব হামলায় নারী ও শিশুসহ কয়েক ডজন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন। তবে জাতিসংঘের বিবৃতিতে হামলার জন্য কাউকে দায়ী করা হয়নি।
জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, হামলার পর বেশ কয়েকজন নিখোঁজ রয়েছেন। আবিয়েইয়ের জন্য জাতিসংঘের অন্তর্বর্তী নিরাপত্তা বাহিনী (ইউএনআইএসএফএ) হতাহতের সংখ্যা যাচাই করছে। এ কারণে প্রাণহানির প্রকৃত সংখ্যা এখনো নিশ্চিত নয়। চিকিৎসা দাতব্য সংস্থা মেডিসিনস স্যানস ফ্রন্টিয়ার্স (এমএসএফ) জানিয়েছে, তারা ২০ জনের বেশি আহত ব্যক্তিকে চিকিৎসা দিচ্ছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের শরীর গুরুতরভাবে পুড়ে গেছে।
২০২৩ সালের এপ্রিলে সুদানের সেনাবাহিনী ও আরএসএফের মধ্যে সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকে দেশটিতে ভয়াবহ মানবিক সংকট তৈরি হয়েছে। দীর্ঘস্থায়ী এই যুদ্ধে ব্যাপক প্রাণহানি ও বাস্তুচ্যুতির পাশাপাশি খাদ্য ও চিকিৎসাসংকটও তীব্র হয়েছে। দক্ষিণ সুদান জানিয়েছে, তারা এ যুদ্ধে কোনো পক্ষের সমর্থক নয়। তবে কূটনীতিকদের মতে, আরএসএফের জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথ হিসেবে আবিয়েইয়ের কৌশলগত গুরুত্ব বেড়েছে।
তেলসমৃদ্ধ আবিয়েইয়ের মালিকানা নিয়ে সুদান ও দক্ষিণ সুদান—দুই দেশেরই দাবি রয়েছে। ২০১১ সালে দক্ষিণ সুদান স্বাধীন হওয়ার পরও অঞ্চলটির ভবিষ্যৎ নিয়ে বিরোধের অবসান হয়নি। বর্তমানে অঞ্চলটি যৌথ প্রশাসনিক ব্যবস্থায় পরিচালিত হচ্ছে। সুদানের কোর্দোফান এলাকার সীমান্তবর্তী আবিয়েই কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কোর্দোফানও বর্তমানে সুদানের যুদ্ধের অন্যতম প্রধান সংঘাতকেন্দ্র। ফলে সীমান্ত অঞ্চলে এ ধরনের হামলা দুই দেশের নিরাপত্তা পরিস্থিতি ও আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
এসএন/
