- ১৪ অক্টোবর, ২০২৬ ০৪:০০
অলকাভ নিয়োগী, বিধাননগর: বাঙালির শ্রেষ্ঠ উৎসবের উন্মাদনায় মেতে উঠছে সল্টলেক। থিমের মণ্ডপ তো আছেই, সঙ্গে থাকছে সাবেকিয়ানাও। এই মেলবন্ধন ঘটেছে সল্টলেকে। কোথাও বাজেট বেশি, কোথাও বাজেট কম। তবে সব জায়গাতেই দুর্গার পুজোর আড়ম্বরে কোনো খামতি নেই।
সল্টলেকের বি জে ব্লক শারদোৎসব কমিটি এবার গুজরাতের সোমনাথ মন্দিরের আদলে মণ্ডপ তৈরি করেছে। বিশাল আকারের মণ্ডপ। নিখুঁত কারুকার্য ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। থিমের মণ্ডপের সঙ্গে থাকছে অভিনব আলোর কাজ। সামনে গিয়ে দাঁড়ালে মনে হবে, আসল মন্দির প্রাঙ্গণেই রয়েছেন।
এবার সল্টলেকেই দেখা যাবে আস্ত মহাভারত। সল্টলেকের ই সি ব্লক রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনের পুজোর ৫০তম বর্ষ। সুবর্ণজয়ন্তীতে থিমেও অভিনবত্ব। শিল্পী সম্রাট ভট্টাচার্যের হাতের ছোঁয়ায় ফুটে উঠছে মণ্ডপ। থিমের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে তৈরি করা হয়েছে প্রতিমা। শিল্পী জানান, অতীতে বহুবার বহু পুজোয় অলীক কল্পনার থিমের বদলে তিনি মহাভারতের আখ্যান ফুটিয়ে তুলতে চেয়েছিলেন। কিন্তু সুবিধা করতে পারেননি। এবার সনাতন বাংলায় মহাকাব্যের পৃষ্ঠা থেকে ই সি ব্লক রেসিডেন্টস অ্যাসোসিয়েশনে উঠে আসছে মহাভারত। থিমের নাম অক্ষৌহিণী। সুবিশাল মাঠ ই সি ব্লকের। ফলে শিল্পীর কাজের ক্যানভাসও বড়ো। উদ্যোক্তাদের কথায়, এবার অন্য স্বাদ পাবেন দর্শনার্থীরা।
এ জে ব্লকে সাবেকি পুজো। মন্দিরের আদলেই দেবভূমি তৈরি করা হচ্ছে মণ্ডপসজ্জায়। প্রতিমা তৈরি করেছেন শিল্পী নবকুমার পাল। পুজোর সঙ্গে যুক্ত মৈনাক দত্ত বলেন, এবার আমাদের এ জে ব্লকের দুর্গাপুজো ৪২ বছরে পড়ল। মন্দিরের আদলেই আমাদের মণ্ডপ তৈরি হয়েছে। নির্দিষ্ট কোনো মন্দির অনুকরণ না করে এখানে প্রাধান্য পাবে বাহুল্যবর্জিত এক দেবালয়। সাবেকি পুজো। পুজোর দিনগুলিতে থাকবে নানা ধরনের সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান। যা ব্লকের সংস্কৃতি মনস্ক ও অধিবাসীদের দ্বারাই মঞ্চস্থ হয়ে থাকে। আবাসিকরাই নিষ্ঠার সঙ্গে পুজো পরিচালিত করেন। এখানে মা ঘরের মেয়ে। তাই তাকে আগমন থেকে বিসর্জন। মূল আকর্ষণের কেন্দুবিন্দু তিনিই।সল্টলেক এ এ ব্লকেও সাবেকি পুজো। কনভেনার গৌতম ঘোষ বলেন, ষষ্ঠীর দিন আমাদের উদ্বোধন। পাড়ার আবাসিকদের পুজো। পুজোর দিনগুলি সকলে মিলে একসঙ্গে খাওয়াদাওয়া হবে। সপ্তমী, অষ্টমী ও নবমী এই তিনদিন এবং দু’দিন সপ্তমী বলে চারদিনই হবে খাওয়াদাওয়া। চারদিনই সম্পূর্ণ নিরামিষ। সল্টলেক ইসি ব্লকের মাতৃপ্রতিমা। নিজস্ব চিত্র
