পুজোর চাঁদা বাবদ ৫০ হাজার টাকা দাবি ও মারধরের অভিযোগ ওঠার চার দিন পর গ্রেপ্তার হলেন অশোকনগরের সুহৃদ সঙ্ঘের পুজো কমিটির সভাপতি বাবলি ভদ্র। বুধবার তাঁকে গ্রেপ্তার করে অশোকনগর থানার পুলিশ। এদিন আদালতে পেশ করা হলে তাঁর ১২ দিনের জেল হেফাজতের নির্দেশ দেন বিচারক। চাঁদা আদায় নিয়ে তাঁর আরও অভিযোগ রয়েছে বলে পুলিশ সূত্রে খবর।
অশোকনগরের বিজয়া ফার্মেসি এলাকার বাসিন্দা সরিতা চট্টোপাধ্যায়ের পরিবারের অভিযোগ, নতুন বাড়ি তৈরির পর তাঁদের কাছে ৫০ হাজার টাকা চাঁদা চাওয়া হয়েছিল। সেই টাকা না দেওয়াকে কেন্দ্র করে গত শুক্রবার সরিতাদের হুমকি ও মারধর করা হয় বলে অভিযোগ বাবলি-সহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে। ঘটনার ভিডিও করতে গিয়ে আক্রান্ত হন সরিতার স্বামী দীপেন্দু আচার্য। ধাক্কাধাক্কিতে পড়ে যায় তাঁদের দু’বছরের সন্তানও। তাকে হাসপাতালে নিয়ে যেতে হয়েছিল বলে দাবি পরিবারের। শনিবার অশোকনগর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন সরিতা। এরপর এদিন গ্রেপ্তার হন এক অভিযুক্ত।
উল্লেখ্য, বাঙালির বারো মাসে তেরো পাবর্ণ। সরস্বতী পুজো থেকে শুরু করে কার্তিক পুজো, বছরভর কিছু না কিছু লেগেই থাকে। বাড়িতে গিয়ে বা পথ আটকে চাঁদার দাবিদাওয়া লেগেই থাকে। দাবিপূরণ করতে পারলে তো ঠিক আছে। নাহলে তা নিয়ে অশান্তির ঘটনাও আকছার ঘটে। কেউ চাপে পড়ে ক্লাবের দাবি পূরণ করতে বাধ্য হন। যারা পারেন না, তাঁদের নানারকম সমস্যার মুখে পড়তে হয়। গত কয়েকবছরে সরকার ক্লাবগুলোকে পুজোর অনুদান দিলেও এই চাঁদার দৌরাত্ম্য এক বিন্দুও কমেনি। চলতি বছরে পুজো অনুদানে রাশ টেনেছে বিজেপি সরকার। সব ক্লাবের জন্য অনুদান ঘোষণা করা হলেও বড় পুজোগুলোর ক্ষেত্রে মুখ্যমন্ত্রী আবেদন করেছেন, যাতে তাঁরা এই আর্থিক সাহায্য না নেন। চাঁদার জন্য জুলুমবাজি রুখতে আগেই পদক্ষেপ করেছে কলকাতা পুলিশ। তাঁদের তরফে দুটি হেল্পলাইন নম্বর চালু করা হয়েছে। একটি ফোন, একটি হোয়াটসঅ্যাপের জন্য। নম্বরগুলি হল- ১৮০০-৩৪৫-৫৬৭৮ ও ৯৪৩২৬২৪৩৬৫। জানা গিয়েছে, এই নম্বরে চাঁদার জন্য অত্যাচারের কোনও অভিযোগ জানালেই পদক্ষেপ করবে পুলিশ। রাজ্য ও পুলিশের এই সিদ্ধান্তে খুশি আমজনতা।
