উত্তরপ্রদেশের স্রেফ একটি বিধানসভা কেন্দ্র। পিলভিট সদর। সেখানেই নাকি প্রায় সাড়ে ১০ হাজার ভোটারের নামের তথ্যে গরমিল। রীতিমতো সাংবাদিক সম্মেলন করে অভিযোগ করেছিল কংগ্রেস। তাৎপর্যপূর্ণভাবে কংগ্রেসের সেই অভিযোগ অস্বীকার করল না নির্বাচন কমিশন। বরং কংগ্রেসের অভিযোগ একপ্রকার মেনে নিয়ে দুই আধিকারিক এবং এক কর্মীর বিরুদ্ধে পদক্ষেপ করা হল।
আসলে দিন কয়েক আগে উত্তরপ্রদেশে সাংবাদিক সম্মেলন করে কংগ্রেস নেত্রী সুপ্রিয়া শ্রীনেত এবং প্রদেশ কংগ্রেস সভানেত্রী আরাধনা মিশ্র মোনা দাবি করেন, রাজ্যের ভোটার তালিকায় ব্যাপক কারচুপি আছে। শুধু পিলভিট সদর কেন্দ্রের উদাহরণ তুলে ধরে কংগ্রেস দাবি করে, স্রেফ ওই কেন্দ্রেই প্রায় ১৩ হাজার ১৫০ জন ভোটারের এপিক নম্বর একই। অথচ প্রত্যেকের নাম-পরিচয় আলাদা। একই অভিযোগ করে সমাজবাদী পার্টিও। দুই দলের অভিযোগ পাওয়ার পর উত্তরপ্রদেশের সিইও দপ্তর তদন্ত শুরু করে।
সেই তদন্তে একের পর এক বিস্ফোরক তথ্য প্রকাশ্যে আসে। দেখা যায়, শুধু পিলভিট সদর কেন্দ্রে প্রায় ১৩ হাজার ৭৭৯টি ফর্ম এইট পূরণ করে নাম বদলের আবেদন জমা পড়েছিল। সেই ভিত্তিতে ভোটারদের তথ্য সংশোধন করা হয়েছে। অথচ সেই সব সংশোধনের জন্য প্রয়োজনীয় কোনও নথি জমা পড়েনি কমিশনের কাছে। ফলে প্রায় ১০ হাজার ৪৭০ জন ভোটারের তথ্যে গরমিল ধরা পড়েছে। তড়িঘড়ি পিলভিটের দুই ইআরওকে সাসপেন্ড করে দিয়েছে কমিশন। এবং এক কম্পিউটার সহযোগীকে কাজ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। শুধু তাই নয়, ৩ জনের বিরুদ্ধেই আগামী দিনে আইন মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশও দিয়েছে কমিশন।
তাৎপর্যপূর্ণ বিষয় হল, সম্ভবত এই প্রথমবার ভোটার তালিকায় গরমিল নিয়ে কংগ্রেসের করা কোনও অভিযোগ মেনে নিল কমিশন। এবং সেটার প্রেক্ষিতে পদক্ষেপও করা হল। আগামী দিনে জ্ঞানেশ কুমার বিরুদ্ধে আন্দোলনে এই পদক্ষেপকে হাতিয়ার করতে পারে হাত শিবির।
