আজকাল ওয়েবডেস্ক:প্রথমার্ধে একের পর এক গোলের সুযোগ নষ্ট করে ম্যাচ হাতছাড়া করল ইস্টবেঙ্গল। একা ডেভিডই করতে পারতেন হ্যাটট্রিক! অথচ দ্বিতীয়ার্ধে ছবিটা পুরো বদলে গেল। দু’বার এগিয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত আল-শোর্তার কাছে ৩-২ হারল লাল-হলুদ।
ম্যাচের প্রথম মিনিটেই জয় গুপ্তার সঙ্গে সংঘর্ষে চোট পান আল-শোর্তার গোলকিপার জালাল হাসান। শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক মেজাজে ছিল ইস্টবেঙ্গল। ৭ মিনিটে কর্নার থেকে হেডে আক্রমণ শানায় আল-শোর্তা। তবে ৯ মিনিটেই এগিয়ে যায় লাল-হলুদ। হার্দিক ভাটের কাছ থেকে বল পেয়ে টার্ন করে বাঁ পায়ের দুরন্ত শটে গোল ডেভিডের। তার আগে ড্যানি র্যামিরেজের সঙ্গে বল দেওয়া-নেওয়া করে ক্রস বাড়িয়েছিলেন হার্দিক।
কিন্তু ১৫ মিনিটেই সমতা ফেরায় আল-শোর্তা। কর্নার থেকে আসা বলে ফাঁকায় হেড করে গোল করেন ডিফেন্ডার আহমেদ ইয়াহয়া আল-হাজ্জাজ। ফের ম্যাচে সমতা।
১৯ মিনিটে ফের এগিয়ে যাওয়ার সুবর্ণ সুযোগ পায় ইস্টবেঙ্গল। লালচুংনুঙ্গার শট বাঁ হাতে সেভ করেন গোলকিপার। ফিরতি বল পেয়ে ডেভিডের সামনে গোল করার সুযোগ এলেও দুর্বল শটে গোলকিপারের হাতেই বল তুলে দেন তিনি। ম্যাচের ছবিটা তখন থেকেই স্পষ্ট—সুযোগ তৈরি হচ্ছে, কিন্তু ব্যবধান বাড়াতে পারছে না ইস্টবেঙ্গল।
দ্রুত প্রতি-আক্রমণে নিজেদের অর্ধ থেকে ইস্টবেঙ্গলের বক্সে পৌঁছে যাচ্ছিল আল-শোর্তা। অন্য দিকে, লাল-হলুদের মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং একের পর এক মিসপাস চিন্তা বাড়াচ্ছিল।
৩৪ মিনিটে রশিদকে ফাউল করা হলে ফ্রি-কিক পায় ইস্টবেঙ্গল। ড্যানির শট সেভ করেন গোলকিপার। ফের জয় গুপ্তার সঙ্গে সংঘর্ষে জড়ান তিনি। ৩৯ মিনিটে প্রভসুখন সিং গিলের কাছ থেকে বল পেয়ে এগিয়ে যান ডেভিড। তাঁকে ফাউল করেন আবদুল মাগিদ মাউমুনি। দেখানো হয় হলুদ কার্ড। ড্যানির ফ্রি-কিকও আটকে দেন গোলকিপার। তবে গোললাইন থেকে বল ধরে ডেভিডের উদ্দেশে বাড়িয়ে দেন রশিদ। এ বার আর ভুল করেননি ডেভিড। নিজের দ্বিতীয় গোল করে ইস্টবেঙ্গলকে ফের এগিয়ে দেন তিনি।
৪৩ মিনিটে রশিদের ফ্রি-কিক থেকে জয় গুপ্তার মাইনাস পেয়ে ডেভিডের শট বারের উপর দিয়ে বেরিয়ে যায়। পরের মিনিটেই হার্দিক ভাটের মাইনাস থেকে ফাঁকায় বল পেয়েও বাইরে মারেন ডেভিড। সংযুক্ত সময়েও এডমুন্ডের কাছ থেকে বল পেয়ে গোলের সুযোগ তৈরি করেছিলেন তিনি, কিন্তু গোলকিপারের সেভে ফের ব্যর্থ হন। অন্য দিকে, ড্যানির পাস থেকে এডমুন্ডের শটও অল্পের জন্য বাইরে চলে যায়। প্রথমার্ধের শেষে ২-১ গোলে এগিয়ে ইস্টবেঙ্গল।
ডেভিডের সুযোগ নষ্টই কি কাল হল? প্রথমার্ধে একাধিক সুযোগ কাজে লাগাতে পারলে ম্যাচের ছবিটা অন্য রকম হতে পারত। ডেভিড একাই অনায়াসে হ্যাটট্রিক করতে পারতেন। কিন্তু ব্যবধান বাড়াতে না পারার খেসারত যে এ ভাবে দিতে হবে, তা হয়তো ভাবেনি ইস্টবেঙ্গল।
দ্বিতীয়ার্ধে অবশ্য সম্পূর্ণ বদলে যায় ম্যাচের চিত্রনাট্য। ৪৮ মিনিটে বক্সের মধ্যে ফাঁকায় বল পেয়েও শট নিতে পারেননি রশিদ। ৫০ মিনিটে হার্দিক ভাটকে কাটিয়ে আহমেদ আল-শোর্তার বক্সে মাইনাস বাড়ান। সেই বল থেকে গোল করে সমতা ফেরান হুসেন আল-সায়েদি।
এর পরের মিনিটেই কর্নার থেকে হেডে গোল কিংসলে কুকুরের। গিলের হাতে লেগে বল জালে জড়িয়ে যায়। মুহূর্তের মধ্যে ২-১ থেকে ২-৩! ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ কার্যত হাতছাড়া হয়ে যায় ইস্টবেঙ্গলের।
৫৪ মিনিটে ডেভিডের শট সেভ করেন গোলকিপার। ৬৬ মিনিটে ড্যানি ও ডেভিডের আক্রমণ থেকে গোললাইন সেভ করে আল-শোর্তা। ৭০ মিনিটে হার্দিক ভাটকে তুলে বিপীন সিংকে নামানো হয়। ৭৬ মিনিটে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়েন মাউমুনি। ফলে বাকি সময় দশ জনে খেলতে হয় আল-শোর্তাকে।
তবু প্রতিপক্ষের একজন কম থাকা সত্ত্বেও ম্যাচের উপর পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করতে পারেনি ইস্টবেঙ্গল। প্রথমার্ধে গোলের পর গোলের সুযোগ নষ্ট, মাঝমাঠে নিয়ন্ত্রণের অভাব এবং দ্বিতীয়ার্ধে রক্ষণে ভাঙন—সব মিলিয়ে কঠিন পরিস্থিতিতে পড়ে লাল-হলুদ।
দু’বার এগিয়ে থেকেও ম্যাচ হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হওয়াটা ইস্টবেঙ্গলের জন্য বড় সতর্কবার্তা। প্রথমার্ধের সুযোগগুলো কাজে লাগাতে পারলে হয়তো দ্বিতীয়ার্ধে এ ভাবে চাপে পড়তে হত না। বিশেষ করে ডেভিডের একাধিক সহজ সুযোগ নষ্ট—ম্যাচের অন্যতম বড় আক্ষেপ হয়েই থাকবে।
