বয়স পঁচাত্তর পেরোলেও ভারতের বক্স অফিসে সুপারস্টার রজনীকান্তের একক আধিপত্য অক্ষুণ্ণ রয়েছে। তাঁর অভিনীত অ্যাকশনধর্মী নতুন সিনেমা ‘জেলার ২’ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তির মাত্র তিন দিনেই বিশ্বব্যাপী ৩১৭ কোটি রুপির আয়ের মাইলফলক ছাড়িয়ে গেছে। নেলসন দিলীপকুমার পরিচালিত এই সিক্যুয়েলটি মুক্তির পর থেকেই অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক উভয় বাজারে দারুণ সাড়া ফেলেছে। সিনেমাটির বিশ্বব্যাপী মোট গ্রস আয় দাঁড়িয়েছে ৩১৭ কোটি ১৫ লাখ রুপি, যার মধ্যে কেবল বিদেশের বাজার থেকেই এসেছে ১৪৭ কোটি ৫০ লাখ রুপি।
ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে চলচ্চিত্রটির মোট গ্রস কালেকশন দাঁড়িয়েছে ১৬৯ কোটি ৬৫ লাখ রুপি এবং নেট আয় হয়েছে ১৪৪ কোটি ৬০ লাখ রুপি। মুক্তির প্রথম দিনে ভারতে ৫৯ কোটি ৭০ লাখ রুপি দিয়ে যাত্রা শুরু করার পর দ্বিতীয় দিনে আয় কিছুটা কমে ৩৭ কোটি ১০ লাখ রুপিতে নেমেছিল। তবে শনিবার (১৭ অক্টোবর) ছুটির দিনে ছবিটি আবারও ঘুরে দাঁড়ায়; এদিন ভারতজুড়ে ১৪ হাজার ৬০৪টি প্রদর্শনী থেকে ৪৭ কোটি ৮০ লাখ রুপি নেট আয় তোলে সিনেমাটি, যা দ্বিতীয় দিনের তুলনায় প্রায় ২৮ দশমিক ৮ শতাংশ বেশি।
মুক্তির মাত্র তিন দিনে এই বিপুল অঙ্কের ব্যবসা করে রজনীকান্ত নিজের অতীতের একাধিক বড় ব্যবসাসফল সিনেমার আজীবন আয়ের রেকর্ড ভেঙে দিয়েছেন। এর মাধ্যমে ‘জেলার ২’ রজনীকান্তের আগের দুই সুপারহিট সিনেমা ‘কাবালি’র ২৯৫ কোটি রুপি এবং ‘এন্থিরান’-এর ২৯০ কোটি রুপির বিশ্বব্যাপী মোট আয়কে অনায়াসেই ছাড়িয়ে গেছে। স্বল্প সময়ে এই বাণিজ্যিক সাফল্য অভিনেতার দীর্ঘদিনের জনপ্রিয়তাকে আবারও প্রমাণ করেছে।
প্রথম তিন দিনের এই আয়ের সুবাদে রজনীকান্তের অভিনয় ক্যারিয়ারের সর্বকালের সর্বোচ্চ আয়কারী চলচ্চিত্রের তালিকায় চতুর্থ স্থানে জায়গা করে নিয়েছে ‘জেলার ২’। এই তালিকার শীর্ষে রয়েছে প্রায় ৬৬৮ থেকে ৬৭৫ কোটি রুপি আয় করা সিনেমা ‘২.০’। দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে ২০২৩ সালে মুক্তি পাওয়া প্রথম কিস্তি ‘জেলার’, যার আজীবন আয় ছিল প্রায় ৬০৫ থেকে ৬৩০ কোটি রুপি। এছাড়া তালিকার তৃতীয় স্থানে অবস্থান করছে ২০২৫ সালের সিনেমা ‘কুলি’, যার মোট আয় ছিল ৫১৬ থেকে ৫৪৮ কোটি রুপি।
২০২৩ সালের আলোচিত ব্লকবাস্টার ‘জেলার’ সিনেমায় ‘টাইগার মুথুভেল পান্ডিয়ান’ চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মুগ্ধ করেছিলেন রজনীকান্ত। নতুন এই কিস্তিতেও সেই একই প্রভাবশালী চরিত্রে ফিরেছেন তিনি। তারকাবহুল এই চলচ্চিত্রে রজনীকান্ত ছাড়াও অভিনয় করেছেন মোহনলাল, শিবরাজকুমার, রাম্যা কৃষ্ণান, বিজয় সেতুপাতি, বিদ্যা বালান এবং মিঠুন চক্রবর্তী। চলচ্চিত্রটির আবহ ও গানগুলোর সংগীত পরিচালনা করেছেন অনিরুদ্ধ রবিচন্দ্র, যা প্রেক্ষাগৃহে দর্শকের মাঝে বাড়তি উদ্দীপনা জোগাচ্ছে।
