সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সারাদেশে প্রায় ১০ হাজার বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সদস্য মোতায়েনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সোমবার (১২ অক্টোবর) বিজিবি সদর দপ্তরের অপারেশন পরিচালক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী আগামী ১৬ থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সারাদেশে এই বিপুল সংখ্যক সীমান্তরক্ষী বাহিনী নিরাপত্তার দায়িত্বে নিয়োজিত থাকবে।
পূজা চলাকালীন দেশের সার্বিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে এবং উৎসবটি শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করতে একটি সুসংহত নিরাপত্তা পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বিজিবি। এই পরিকল্পনার মূল ভিত্তি হলো নিয়মিত টহল কার্যক্রম, বর্ধিত গোয়েন্দা নজরদারি এবং স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও পূজা উদযাপন কমিটির সঙ্গে নিবিড় সমন্বয় সাধন। সম্ভাব্য যেকোনো ঝুঁকি প্রাথমিক পর্যায়েই চিহ্নিত করা, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গুজব কিংবা সাম্প্রদায়িক উসকানি রোধে কঠোর সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং যেকোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতিতে তাৎক্ষণিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার ওপর সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
নিরাপত্তা পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরে লেফটেন্যান্ট কর্নেল মো. মাহবুব মুর্শেদ রহমান জানান, দেশের সীমান্তবর্তী ৮ কিলোমিটারের মধ্যে এবং ব্যাটালিয়ন সদরের নিকটবর্তী এলাকাসহ মোট ২ হাজার ৭২৭টি পূজামণ্ডপে বিজিবি সরাসরি নিরাপত্তা সহায়তা প্রদান করবে। বিশেষ করে দূরবর্তী ও দুর্গম অঞ্চলগুলোতে দ্রুত টহল দল পাঠানো এবং জরুরি সহায়তা পৌঁছে দেওয়ার সুবিধার্থে পর্যাপ্ত সংখ্যক অস্থায়ী ক্যাম্প স্থাপনেরও উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
রাজধানীর নিরাপত্তার বিষয়ে তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা মেট্রোপলিটন এলাকায় বিজিবি মোতায়েন ও তাদের দায়িত্বের পরিধি সরকারের সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের চাহিদার ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হবে। এক্ষেত্রে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) ও স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টগুলোতে নিরাপত্তা বলয় তৈরি এবং জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত সাড়া দিতে প্রস্তুত থাকবে বিজিবি।
দুর্গাপূজা বাংলাদেশের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি ও পারস্পরিক সৌহার্দ্যের দীর্ঘ ঐতিহ্যকে মূর্ত করে তোলে উল্লেখ করে বিজিবি কর্মকর্তা বলেন, সনাতন ধর্মাবলম্বী নাগরিকেরা যেন সম্পূর্ণ নির্বিঘ্নে, নিরাপদে ও আনন্দমুখর পরিবেশে তাদের সর্ববৃহৎ এই ধর্মীয় উৎসব উদযাপন করতে পারেন, তা নিশ্চিত করতে বিজিবি সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে।
