আজকাল ওয়েবডেস্ক: চোরবাগান পদপিষ্ট-কাণ্ডে প্রাণ হারিয়েছেন পরিবারের একমাত্র রোজগেরে সদস্য শুভম সোনকার। পুজোর আনন্দের বদলে এখন বাগমারির ছোট্ট ফ্ল্যাটে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মেয়েকে হারানোর যন্ত্রণা সামলানোর পাশাপাশি ভবিষ্যৎ নিয়েও চিন্তায় সোনকার পরিবার। শুক্রবার সন্ধ্যায় সেই পরিবারের সঙ্গে দেখা করতে গিয়ে তাঁদের সমস্যার কথা শুনলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। পরিবারের পাশে থাকার আশ্বাস দেওয়ার পাশাপাশি শুভমের ভাই সুজনের চাকরির বিষয়টিও বিবেচনা করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
গত ১৭ অক্টোবর, সপ্তমীর সন্ধ্যায় চোরবাগান সর্বজনীনের দুর্গাপুজো দেখতে গিয়ে পদপিষ্ট হয়ে মৃত্যু হয় শুভমের। ভিড় এবং বৃষ্টির মধ্যে ঘটে যাওয়া ওই বিপর্যয়ে প্রাণ হারান মোট ১৯ জন। আহত হন আরও অনেকে। শুভম একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করতেন। পরোপকারী হিসেবে এলাকায় পরিচিত ছিলেন তিনি। ভিড় পছন্দ না করলেও পুজোর প্রশংসা শুনে মণ্ডপ দেখতে গিয়েছিলেন। সেই যাওয়াই যে তাঁর শেষ যাত্রা হয়ে উঠবে, তা ভাবতে পারেননি পরিবারের কেউ।
শুভমের মৃত্যুর পর থেকে কার্যত অনিশ্চয়তার মুখে পরিবার। তাঁর বাবা রামজি, ভাই সুজন এবং পরিবারের অন্য সদস্যদের সঙ্গে শুক্রবার কথা বলেন মুখ্যমন্ত্রী। সঙ্গে ছিলেন মানিকতলার বিধায়ক তথা রাজ্যের মন্ত্রী তাপস রায়। শুভমের ছবিতে মালা দিয়ে ধূপ জ্বালিয়ে শ্রদ্ধা জানান মুখ্যমন্ত্রী।
পরিবার সূত্রে জানা গিয়েছে, সুজন সরকারি চাকরির পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছেন। দিদিকে হারানোর পর সংসারের ভবিষ্যৎ নিয়ে উদ্বেগের মধ্যেই তাঁর চাকরির ব্যবস্থা করার আবেদন জানান পরিবারের সদস্যরা। মুখ্যমন্ত্রী তাঁদের সমস্যার কথা শোনেন এবং নিজের এক্তিয়ারের মধ্যে থেকে প্রয়োজনীয় সাহায্যের আশ্বাস দেন।
বাড়ি থেকে বেরিয়ে মুখ্যমন্ত্রী বলেন, পরিবারের সদস্যরা তাঁদের কয়েকটি সমস্যার কথা জানিয়েছেন। সেগুলি প্রকাশ্যে বলা সম্ভব নয়। তবে তাঁর ক্ষমতার মধ্যে যতটা সম্ভব, সেই সমস্যাগুলি সমাধানের চেষ্টা করবেন। শোক সামলে উঠতে পরিবারের পাশে থাকার জন্য প্রতিবেশীদেরও অনুরোধ করেছেন তিনি।
মুখ্যমন্ত্রী জানান, রাজ্য সরকারের তরফে মৃতের পরিবারকে ২৫ লক্ষ টাকা এবং জেলাশাসকের দফতরের মাধ্যমে আরও ২ লক্ষ টাকা দেওয়া হয়েছে। তাঁর কথায়, প্রাণের কোনও মূল্য হয় না। তবে পরিবার যাতে আর্থিক সমস্যায় না পড়ে, সেই চেষ্টা করছে সরকার।
