আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) এবং বিশ্বব্যাংক গ্রুপের (ডব্লিউবি) কর্তৃপক্ষ ‘ব্যাংকক ব্লুপ্রিন্ট’ প্রকাশ করেছে।
ব্যাংক অব থাইল্যান্ডের সঙ্গে সমন্বয় করে তৈরি এই উচ্চ-পর্যায়ের কাঠামোটির লক্ষ্য হলো-ডিজিটাল আর্থিক সেবার ক্ষেত্রে সাইবারজনিত জালিয়াতির ক্রমবর্ধমান ঝুঁকি প্রতিরোধ, শনাক্ত এবং মোকাবিলা করার ক্ষেত্রে বিভিন্ন দেশকে সহায়তা করা।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে আয়োজিত আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) ও বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সভায় এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) থেকে শুরু এই সম্মেলন চলবে আগামী ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত। এই প্রেক্ষাপটে বাংলাদেশের অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ব্যাংককে বিশ্বব্যাংক গ্রুপের বার্ষিক সম্মেলনে অংশ নিয়েছেন।
প্রকাশিত ব্লু প্রিন্টে আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক জানায়, ডিজিটাল অর্থায়ন সেবা প্রাপ্তির সুযোগ, উদ্ভাবন এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি করেছে ঠিকই, কিন্তু এর ফলে জালিয়াতির ঘটনাগুলোও আরও দ্রুত, ব্যাপক এবং অত্যাধুনিক কৌশলে সংঘটিত হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। সাইবারজনিত জালিয়াতি ক্রমশ আন্তঃসীমান্ত সংঘবদ্ধ অপরাধের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে এবং মাদক পাচার ও অর্থ পাচারের মতোই ইন্টারপোল কর্তৃক বিশ্বজুড়ে অন্যতম বিপজ্জনক অপরাধ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
ব্যাংক অব থাইল্যান্ডের গভর্নর ভিতাই রাতানাকর্ন বলেন, ‘সাইবারজনিত জালিয়াতি একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জে পরিণত হয়েছে, যা কোনো একক দেশ বা প্রতিষ্ঠানের পক্ষে মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। ‘ব্যাংকক ব্লুপ্রিন্ট’ পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার, আস্থা বৃদ্ধি এবং সবার জন্য একটি নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ডিজিটাল আর্থিক ভবিষ্যৎ গড়ে তোলার ক্ষেত্রে আমাদের যৌথ অঙ্গীকারেরই প্রতিফলন।’
থাই কর্তৃপক্ষের অংশীদারত্বে ২০২৬ সালের আইএমএফ-বিশ্বব্যাংক বার্ষিক সম্মেলনের সময় প্রকাশিত এই ব্লুপ্রিন্টটিতে ১২টি মূল বিবেচ্য বিষয় তুলে ধরা হয়েছে। এগুলো বিভিন্ন দেশকে তাদের দুর্বলতা চিহ্নিত করতে এবং সামগ্রিক ও সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণে সহায়তা করবে। বিভিন্ন খাত ও বিচারিক এখতিয়ারের মধ্যে আরও সুসংহত কর্মপদ্ধতি বা দৃষ্টিভঙ্গি প্রচারের মাধ্যমে, এই ব্লুপ্রিন্টটি ডিজিটাল আর্থিক সেবার প্রতি আস্থা সুদৃঢ় করতে এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিতে এগুলোর অব্যাহত অবদানকে সহায়তা করতে চায়। আস্থাই হলো যেকোনো আর্থিক ব্যবস্থার ভিত্তি। ডিজিটাল অর্থব্যবস্থার প্রসারের সঙ্গে সঙ্গে, সাইবার-ভিত্তিক জালিয়াতি মোকাবিলা এবং প্রবৃদ্ধি ও অন্তর্ভুক্তিতে সহায়তাকারী প্রযুক্তির প্রতি আস্থা বজায় রাখার লক্ষ্যে দেশগুলোকে অবশ্যই যৌথভাবে কাজ করতে হবে,’ বলেছেন আইএমএফ -এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ক্রিস্টালিনা জর্জিয়েভা।
‘ব্যাংকক ব্লুপ্রিন্ট’ পাঁচটি মূল স্তম্ভের ওপর ভিত্তি করে সাজানো হয়েছে, কৌশলগত ও আইনি ভিত্তি স্থাপন; জালিয়াতি প্রতিরোধের সামগ্রিক প্রক্রিয়া বা জীবনচক্র শক্তিশালী করা; বিদ্যমান ঝুঁকি-হ্রাস ও আইন প্রয়োগকারী কাঠামোকে কাজে লাগানো; অভ্যন্তরীণ ও আন্তঃসীমান্ত সহযোগিতা বৃদ্ধি; এবং ভোক্তা সুরক্ষা ও সক্ষমতা জোরদার করা।
বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান আর্থিক কর্মকর্তা অংশুলা কান্ত বলেন, উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে অর্থনৈতিক সুযোগ সৃষ্টি, কর্মসংস্থান এবং আর্থিক অন্তর্ভুক্তির ক্ষেত্রে ডিজিটাল আর্থিক সেবা একটি শক্তিশালী চালিকাশক্তি হতে পারে। মানুষ যাতে আস্থার সঙ্গে এসব সেবা ব্যবহার করতে পারে এবং এর মাধ্যমে সৃষ্ট সুযোগগুলোর পূর্ণ সুবিধা ভোগ করতে পারে, তা নিশ্চিত করার জন্য জালিয়াতির বিরুদ্ধে সুরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করা অপরিহার্য।
জালিয়াতির ঘটনায় প্রায়শই সোশ্যাল মিডিয়া, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম, ই-কমার্স এবং টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্কের সম্পৃক্ততা থাকে, এই বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে ব্লুপ্রিন্টটি সরকারি ও বেসরকারি খাতের মধ্যে উভয় অভ্যন্তরীণ ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সুস্পষ্ট জবাবদিহিতা এবং সময়োপযোগী সহযোগিতার ওপর জোর দেয়। এটি দেশগুলোকে তাদের নিজস্ব আইনি, প্রাতিষ্ঠানিক ও বাজার পরিস্থিতির সাথে সামঞ্জস্য রেখে ১২টি বিবেচ্য বিষয়কে অভিযোজিত বা বিন্যস্ত করার আহ্বান জানায়।
থাইল্যান্ডের উপ-প্রধানমন্ত্রী ও অর্থমন্ত্রী একনিটি নিটিথানপ্রাপাস বলেন, ‘ডিজিটাল অর্থব্যবস্থা যখন ক্রমশ আন্তঃসংযুক্ত হয়ে উঠছে, তখন জালিয়াতি মোকাবিলায় আমাদের পদক্ষেপগুলোকেও একইভাবে সমন্বিত ও সংযুক্ত হতে হবে। নাগরিকদের সুরক্ষা এবং ডিজিটাল অর্থনীতির প্রতি আস্থা সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে আরও শক্তিশালী সহযোগিতা ও সম্মিলিত পদক্ষেপ গ্রহণের ভিত্তি হিসেবে কাজ করবে এই ব্যাংকক ব্লুপ্রিন্ট।
তিনি আরও বলেন, একটি নিরাপদ ও অধিক নির্ভরযোগ্য আর্থিক পরিবেশ গড়ে তোলার মাধ্যমে, এই ব্লুপ্রিন্টটি দেশগুলোকে ডিজিটাল অর্থব্যবস্থার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে সুযোগের প্রসার, অন্তর্ভুক্তি এবং টেকসই প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করতে চায়।
