মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে উৎসবকে ঘিরে বান্দরবানের রুমা বাজারে কাঁচা ও শুঁটকি মাছের বাজার জমজমাট হয়ে উঠেছে। যেকোনো সময়ের তুলনায় এবার মাছ ব্যবসায়ীরা একেক জন এক থেকে দেড় লাখ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। একইভাবে কাপড় ব্যবসায়ীরাও বেশ ভালো বিক্রি করছেন। তবে কাপড়ের দোকানের চেয়ে মাছের বাজারে উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে।
এই প্রতিবেদক আজ রোববার (২৫ অক্টোবর) সকাল দশটার দিকে বাজার ঘুরে দেখেন, রুমা বাজারে শুঁটকি মাছ ব্যবসায়ী শিবু বড়ুয়া (৪৮) ভীষণ ব্যস্ত সময় পার করছেন। এক হাতে ক্রেতাদের শুঁটকি বুঝিয়ে দিচ্ছেন, আরেক হাতে টাকা নিচ্ছেন। যে হাত ফাঁকা হয়, সে হাত দিয়েই পাল্লায় মাছ মাপছেন। তার দোকানের সামনে-পেছনে পাহাড়ি বিশেষ করে মারমা সম্প্রদায়ের নারীদের ভিড়। তারা কিনছেন হরেক রকমের শুঁটকি।
শুঁটকি কিনতে আসা ঞোমে উ মারমা (৪৫) বলেন, আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে ২৮ অক্টোবর পর্যন্ত টানা তিন দিন পাড়ার বাইরে কোথাও যাবেন না। ঘরে রান্নাবান্না করবেন, তারপর বিহারে পূজা ও আহার দানে যাবেন। ওই তিন দিনের তরকারির জন্য শুঁটকি মাছ সবচেয়ে ভালো, কাঁচা মাছ নিলে নষ্ট হয়ে যায়। তাই উৎসব এলেই শুঁটকির চাহিদা বেড়ে যায়।
একই কথা জানালেন পাইন্দু পাড়ার বাসিন্দা হ্লামেউ মারমা (৪০)। তিনি ৩-৪ ধরনের শুঁটকি বেশি করে কিনেছেন। তবে আগের তুলনায় এবার শুঁটকির দাম একটু বেশি বলে জানান তিনি।
শুঁটকি ব্যবসায়ী শিবু বড়ুয়া বলেন, দেশে এখন সব জিনিসের দাম বেশি, শুঁটকিও তার ব্যতিক্রম নয়। তার দোকানে হাঙ্গর শুঁটকি প্রতি কেজি ১,০০০ থেকে ১,২০০ টাকা, পাতা মাছ শুঁটকি আকার ভেদে ৩০০ থেকে ৪০০ টাকা এবং ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা, চিংড়ি শুঁটকি ৮০০ থেকে ১০০০ টাকা এবং লইট্টা শুঁটকি ৪৫০ থেকে ৫৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে। গত তিন-চার দিন ধরে প্রতিদিন তার দোকানে ৮০ হাজার থেকে দেড় লাখ টাকার শুঁটকি বিক্রি হচ্ছে।
কাঁচা মাছ ব্যবসায়ী রুপম বড়ুয়া (৩২) জানান, গত দুই-তিন দিন ধরে মাছ বেশ ভালো বিক্রি হচ্ছে। চিংড়ি ৮০০ থেকে ১,০০০ টাকা, মলা মাছ ৩০০ থেকে ৩৫০ টাকা, মাইট্টা ৩৫০ থেকে ৪০০ টাকা, রুই মাছ ৩৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, পাঙ্গাস ২০০ টাকা ও পাবদা ৪৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
এদিকে কাপড় ও জুতার দোকানগুলোতেও যুবক-যুবতী, কিশোর-কিশোরী ও নারী-পুরুষের উপস্থিতি লক্ষ্য করা গেছে।
কাশেম ক্লথ স্টোরের স্বত্বাধিকারী মীর কাশেম বলেন, গত ২-৩ দিন ধরে প্রতিদিন ৫০ থেকে ৮০ হাজার টাকার শার্ট-প্যান্ট ও কাপড় বিক্রি করেছেন। এর মধ্যে শিশুদের কাপড়-চোপড়ও ভালো বিক্রি হয়েছে।
নাজিম সু স্টোরের ম্যানেজার নাসির উদ্দিন বলেন, গত ২-৩ দিন ধরে প্রতিদিন ৩০ থেকে ৩৫ হাজার টাকা বিক্রি হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয়েছে শিশু-কিশোরদের জুতা ও ব্যাগ।
ব্যবসায়ীরা জানান, প্রায় এক সপ্তাহ জুড়ে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় দুর্গাপূজার পরপরই বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম সামাজিক ও ধর্মীয় উৎসব মাহা ওয়াগ্যোয়াই পোয়ে শুরু হচ্ছে। মূলত এ কারণেই বেচাকেনা বেশ ভালো চলছে।
