কিডনির অসুখ যে কেবল ইউরিনারি সিস্টেমকে প্রভাবিত করে সেটাই নয়, এটা কুপ্রভাব পড়ে হার্টের উপরেও। এমনকী কিডনির অসুখ বাড়াতে পারে হৃদরোগের ঝুঁকিও। কীভাবে? কোন পাঁচ বিষয় রোগীদের মাথায় রাখা উচিত জেনে নিন।
কিডনির অসুখ বাড়াতে পারে রক্তচাপ। আর রক্তচাপ বাড়লে সেটার নেতিবাচক প্রভাব পড়বে হার্টের উপর। কিন্তু কীভাবে কিডনির রোগ হার্টের উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে? কিডনি মূলত শরীরের ফ্লুইড ব্যালেন্স বজায় রাখে, যার ফলে রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে থাকে। কিন্তু কিডনি যদি সঠিক ভাবে কাজ না করে, তাহলে শরীরে অতিরিক্ত পরিমাণে নুন এবং জল থেকে যাবে। ফলে বাড়বে রক্ত চলাচলের পরিমাণ। আর সেই কারণেই রক্তচাপ বাড়বে, যা শেষ পর্যন্ত হার্টের উপর চাপ বাড়াবে অতিরিক্ত কাজ করার জন্য।
কিডনি যদি সঠিক ভাবে কাজ না করে, তাহলে শরীর থেকে অতিরিক্ত ফ্লুইড বেরোবে না, শরীরেই জমা হতে থাকবে। এর ফলে পায়ের পাতা, হাত ফুলতে পারে। এমনকী ফুসফুসেও জল জমতে পারে। হতে পারে হার্ট ফেলিওরের মতো সমস্যাও।
সকলেই জানেন কিডনি শরীর থেকে বর্জ্য পদার্থ দূর করে। সেটা যদি সঠিক ভাবে কাজ না করে তাহলে প্রদাহ বাড়তে পারে। পটাশিয়াম, ক্যালসিয়ামের গড়বড় হবে। এমনকী কোলেস্টেরল লেভেলও অনেক বেড়ে যেতে পারে।
তাহলে যাঁদের কিডনির সমস্যা তাঁদের কী করণীয়? কিডনি সংক্রান্ত ওষুধ, ইত্যাদি তো খাবেনই। সঙ্গে টেনশন করা কমানো প্রয়োজন, রক্তচাপ যাতে স্বাভাবিক থাকে সেটা দেখা উচিত। এছাড়া সুগার লেভেল, কোলেস্টেরল লেভেল অবশ্যই নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত। নিয়মিত ক্রিয়েটিনিন, এস্টিমেটেড গ্লোমেরুলার ফিল্ট্রেশন রেট, ইত্যাদির মতো টেস্ট করানো উচিত। ইউরিন অ্যালবুমিন লেভেলও নির্দিষ্ট সময় অন্তর পরীক্ষা করে দেখা প্রয়োজন।
এছাড়া রোগীরা যদি অতিরিক্ত নুন খাওয়া কমান তাহলে সেটা স্বাস্থ্যের জন্য খুবই উপকারী হবে। ব্যায়াম, যোগব্যায়াম করাও উপকারী। মদ্যপান বা ধূমপান সম্পূর্ণ ত্যাগ করুন। নির্দিষ্ট ডায়েট মেনে চলুন বিশেষজ্ঞের সঙ্গে কথা বলে।
https://youtu.be/FAZCMeBQx8Q?si=wye-tbk1eGH9sGXj
