জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ, এলএনজি আমদানির উৎস বহুমুখীকরণ এবং বিদ্যুৎব্যবস্থার আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে আইসিসিবি।
জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং আমদানির উৎস বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়েছে ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স বাংলাদেশ (আইসিসিবি)।
আইসিসিবির ত্রৈমাসিক বুলেটিনের এক সম্পাদকীয়তে বলা হয়েছে, আমদানিনির্ভর জ্বালানির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা উৎপাদন খরচ বাড়ায়, বৈদেশিক মুদ্রার ওপর চাপ সৃষ্টি করে এবং ব্যবসা-বাণিজ্যে অনিশ্চয়তা তৈরি করে। তাই নিরবচ্ছিন্ন জ্বালানি সরবরাহ, সাশ্রয়ী মূল্য এবং পরিবেশবান্ধব জ্বালানি ব্যবস্থা নিশ্চিত করা জরুরি।
সম্পাদকীয়তে উল্লেখ করা হয়, ২০২৬ সালের ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ক্যাপটিভ ও নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎসহ মোট উৎপাদন সক্ষমতা ছিল ৩২ হাজার ৬৮৮ মেগাওয়াট। তবে শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেই জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত হবে না। পর্যাপ্ত জ্বালানি সরবরাহ, বিদ্যুৎ সঞ্চালন ও বিতরণব্যবস্থার উন্নয়ন এবং আর্থিকভাবে টেকসই বিদ্যুৎ খাত গড়ে তোলাও প্রয়োজন।
সরকারের পাঁচ বছর মেয়াদি সংস্কার ও উন্নয়ন কৌশলগত পরিকল্পনা (২০২৬–২০৩১)-এ গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলন বৃদ্ধি, নবায়নযোগ্য জ্বালানির ব্যবহার সম্প্রসারণ এবং বিদ্যুৎব্যবস্থার আধুনিকায়নে গুরুত্ব দেওয়ার কথা তুলে ধরা হয়েছে। পাশাপাশি সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন সক্ষমতা ১০ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীত করার লক্ষ্য রয়েছে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, প্রথম পর্যায়ে ১৫০টি গ্যাসকূপ খনন ও সংস্কারের কার্যক্রমের মধ্যে সেপ্টেম্বরের মাঝামাঝি পর্যন্ত ৩১টির কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এতে দৈনিক প্রায় ২৮ কোটি ৬০ লাখ ঘনফুট অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহের সক্ষমতা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এ খাতে বাপেক্সের সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
এলএনজি আমদানি ও গ্রহণের সক্ষমতা বাড়ানোর পরিকল্পনার কথাও উল্লেখ করা হয়েছে। এর আওতায় ২০২৮ সালের মধ্যে মহেশখালীতে দৈনিক ৬০ কোটি ঘনফুট এবং ২০৩০ সালের মধ্যে মাতারবাড়ীতে স্থলভিত্তিক টার্মিনালের মাধ্যমে দৈনিক ১০০ কোটি ঘনফুট এলএনজি গ্রহণের সক্ষমতা তৈরির লক্ষ্য রয়েছে। তবে নিজস্ব গ্যাস অনুসন্ধান ও নবায়নযোগ্য জ্বালানির বিকল্প হিসেবে নয়, বরং অতিরিক্ত চাহিদা পূরণে এলএনজি ব্যবহারের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে মোট বিদ্যুৎ উৎপাদনের অন্তত ২০ শতাংশ এবং ২০৪০ সালের মধ্যে ৩০ শতাংশ নবায়নযোগ্য উৎস থেকে উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। এসব লক্ষ্য অর্জনে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন, বিদ্যুৎ সংরক্ষণব্যবস্থা, দীর্ঘমেয়াদি অর্থায়ন এবং স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক প্রকল্প বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
আইসিসিবির সম্পাদকীয়তে আরও বলা হয়েছে, বেসরকারি খাতে দীর্ঘমেয়াদি বিনিয়োগ বাড়াতে জ্বালানি সরবরাহ ও মূল্য সম্পর্কে নিশ্চয়তা, সরকারি নীতির ধারাবাহিকতা এবং সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব জোরদার করা প্রয়োজন। পাশাপাশি জ্বালানির অপচয় রোধ, দক্ষ ব্যবহার এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে বিদ্যুৎ বাণিজ্য বাড়ানোর মাধ্যমে সমন্বিত জ্বালানি ব্যবস্থা গড়ে তোলার তাগিদ দেওয়া হয়েছে।
সম্পাদকীয়তে বলা হয়, জ্বালানি রূপরেখার সফল বাস্তবায়ন দেশের শিল্পের প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বৃদ্ধি, নতুন বিনিয়োগ আকর্ষণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
