কুষ্টিয়ায় জামায়াতের প্রেস ব্রিফিংয়ে মতিউর রহমান আকন্দ
আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিং এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ
৩১ অক্টোবর ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ
সংগ্রাম ডেস্ক:
আগামী ৩১ অক্টোবর ১১ দলীয় ঐক্যের ঢাকা-খুলনা-কুষ্টিয়া লংমার্চ উপলক্ষে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতে ইসলামীর উদ্যোগে স্থানীয় সাংবাদিকদের সঙ্গে এক প্রেস ব্রিফিং এ বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ৭ দফা দাবির ব্যাখ্যা তুলে ধরে বলেন, আমাদের এই আন্দোলন সরকার পতনের জন্য নয়, বরং জনগণের ন্যায্য দাবি আদায়ের জন্য। সরকার নির্বাচনের সময় জাতিকে দেওয়া প্রতিশ্রুতি রক্ষা করেনি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
তিনি বলেন, ৭ দফা দাবির উল্লেখযোগ্য বিষয়গুলো হলোÑগণভোটের গণরায় দ্রুত বাস্তবায়ন; জুলাই গণহত্যার বিচার দ্রুত সম্পন্ন ও নিশ্চিত করা; বিদ্যুৎ, তেল, গ্যাস ও সারের সংকট দূর করা; নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের ঊর্ধ্বগতি রোধ করা; দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির সার্বিক উন্নয়ন; প্রশাসন ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ সব পর্যায়ে স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ বন্ধ করা; এবং চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিবাজদের দৌরাত্ম্য চিরতরে বন্ধ করা।
গতকাল শনিবার সকাল সাড়ে ১০টায় কুষ্টিয়া জেলা জামায়াত কার্যালয়-সংলগ্ন হাজী শরীয়তুল্লাহ এতিমখানায় এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। সংবাদ সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদের সদস্য এবং যশোর-কুষ্টিয়া অঞ্চলের পরিচালক মোবারক হোসাইন।
প্রেস ব্রিফিংয়ে এডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ আশা প্রকাশ করে বলেন- আশা করি, সরকারের শুভবুদ্ধির উদয় হবে এবং সরকার অবিলম্বে আমাদের দাবিগুলো মেনে নেবে। আর যদি মেনে না নেয়, তাহলে সাত দফা এক দফায় রূপ নিতে পারে।
মোবারক হোসাইন বলেন, ৭ দফা দাবি আদায়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীসহ ১১ দলের নেতৃত্বে ইতোমধ্যে ঢাকা-চট্টগ্রাম ও ঢাকা-রংপুর লংমার্চ সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে। তৃতীয় দফায় আগামী ৩১ অক্টোবর ঢাকা থেকে খুলনা-কুষ্টিয়া অভিমুখী লংমার্চের উদ্বোধনী সমাবেশ জাতীয় মসজিদ বায়তুল মোকাররমের দক্ষিণ গেটে সকাল ৭টায় অনুষ্ঠিত হবে, ইনশাআল্লাহ। এতে ১১ দলের শীর্ষ নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখবেন।
তিনি জানান, এদিন প্রায় ১ হাজার গাড়ির বিশাল বহর নিয়ে সকাল ৮টায় লংমার্চ শুরু হবে। মাওয়া সড়ক হয়ে পদ্মা সেতু পার হয়ে শরীয়তপুর, মাদারীপুর, ভাঙ্গা (ফরিদপুর), গোপালগঞ্জ ও ফকিরহাট (বাগেরহাট) হয়ে রূপসা ব্রিজ দিয়ে খুলনায় পৌঁছাবে লংমার্চের বহর। এরপর যশোর ও ঝিনাইদহ হয়ে কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে বহরটি।
পথে শরীয়তপুরের জাজিরার নাওডোবায় (সকাল ৯টা), বাগেরহাটের ফকিরহাটের কাঁটাখালীর মোড়ে (সকাল ১১টা), খুলনা মহানগরীর বাবরী চত্বরে (বেলা ১২টা ৩০ মিনিট) এবং ফুলতলার বাসস্ট্যান্ডের স্বাধীনতা চত্বরে (দুপুর ২টা), যশোরের মুড়লীর মোড়ে (বিকেল ৩টা ৩০ মিনিট) ও ঝিনাইদহ বাস টার্মিনালে (বিকেল ৫টা) পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। সবশেষে রাত সাড়ে ৮টায় কুষ্টিয়া সরকারি কলেজ মাঠে সমাপনী সমাবেশে যোগ দেবে লংমার্চের বহর।
তিনি আরও বলেন, কুষ্টিয়ার এই সমাপনী কর্মসূচি কেবল জনসভায় সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং লক্ষ লক্ষ মানুষের মহাসমুদ্রে পরিণত হবে, ইনশাআল্লাহ।
সংবাদ সম্মেলনে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার এ. কে. এম. আলী মহসিন, কুষ্টিয়া-২ আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল গফুর, কুষ্টিয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য আফজাল হোসাইন, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা মো. এনামুল হকসহ জেলা ও স্থানীয় জামায়াতের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
