ছবির ক্যাপশন: .
মোঃ আসিফ চৌধুরী, বিশেষ সংবাদদাতা
বিএনপির জাতীয় স্থায়ী কমিটির সদস্য ও ঢাকা-২ আসনের সংসদ সদস্য আমান উল্লাহ আমান বলেছেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে দেশ যখন এগিয়ে যাচ্ছে, তখন একাত্তর ও চব্বিশের পরাজিত শক্তি গোপনে একত্রিত হয়ে দেশে অরাজকতা সৃষ্টির ষড়যন্ত্র করছে। আসন্ন শারদীয় দুর্গাপূজায় কোনো ফ্যাসিবাদী শক্তি যেন রাতের আঁধারে অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটিয়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বিনষ্ট করতে না পারে, সে জন্য সবাইকে সতর্ক থাকতে হবে।
তিনি বলেন, দেশ থেকে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার আর কোনো দিন বাংলাদেশে ফিরতে পারবে না। যারা দিনের ভোট রাতে করেছে, জনগণ আর তাদের সঙ্গে থাকবে না। প্রতিবেশী একটি দেশ থেকে হুমকি-ধমকি দিয়েও কোনো লাভ হবে না। ফ্যাসিবাদী শক্তির জায়গা বাংলার মাটিতে হবে না।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বিকেলে কেরানীগঞ্জ উপজেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে শারদীয় দুর্গাপূজা-২০২৬ উপলক্ষে ঢাকা-২ আসনের ৮৭টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের মধ্যে ঢাকা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আমান উল্লাহ আমান বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে বিশ্বাস করতেন, বেগম খালেদা জিয়াও তাঁদের বিশ্বাস করতেন। একইভাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের প্রতি আস্থাশীল। গত নির্বাচনে তারেক রহমানের প্রতি আস্থা রেখে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ যেভাবে ধানের শীষে ভোট দিয়েছেন, নির্বাচনের পর তাঁদের সেই আস্থার প্রতিফলন ঘটছে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের ভোট ও গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষার মধ্য দিয়ে বিএনপি রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেয়েছে। কোনো ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত করে জনগণের এই রায় ব্যাহত করা যাবে না। দেশের পরিস্থিতি অস্থিতিশীল করে সরকারকে বেকায়দায় ফেলার অপচেষ্টা চলছে। তবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে জনগণকে সঙ্গে নিয়ে সব ষড়যন্ত্র প্রতিহত করা হবে, ইনশাআল্লাহ।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দীর্ঘ ১৭ বছর ধরে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের জন্য আন্দোলন-সংগ্রাম হয়েছে। সেই আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় স্বৈরাচারী শাসনের পতন ঘটেছে। একসময় ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা বেগম খালেদা জিয়াকে ক্যান্টনমেন্টের বাড়ি থেকে এক কাপড়ে বের করে দিয়েছিলেন। কিন্তু ভাগ্যের নির্মম পরিহাসে একপর্যায়ে দেশের জনগণই শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের দেশ ছাড়তে বাধ্য করেছে।
বেগম খালেদা জিয়ার প্রসঙ্গ টেনে আমান উল্লাহ আমান বলেন, তাঁকে বাদ দিয়ে বাংলাদেশের গণতন্ত্র কিংবা উন্নয়নের কথা চিন্তা করা যায় না। একসময় তাঁকে বিদেশে পাঠিয়ে দেওয়ার ষড়যন্ত্র হয়েছিল। কিন্তু তিনি বলেছিলেন, এ দেশের মাটিই তাঁর ঠিকানা; দেশের জনগণকে ছেড়ে তিনি কোথাও যাবেন না। মিথ্যা মামলায় তাঁকে কারাবন্দি রাখা হয়েছিল এবং কারাগারে থাকাকালে তাঁর চিকিৎসার ক্ষেত্রে চরম অবহেলা করা হয়। তিনবারের সাবেক প্রধানমন্ত্রী হওয়া সত্ত্বেও উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে বিদেশে যাওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান দীর্ঘ ১৮ বছর নির্বাসনে থাকার পর দেশে ফিরলে বিপুলসংখ্যক মানুষ তাঁকে স্বাগত জানান। একইভাবে বেগম খালেদা জিয়ার প্রতি দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের ভালোবাসা ও শ্রদ্ধা প্রকাশ পেয়েছে। এতে প্রমাণ হয়, দেশের মানুষ বিএনপি ও জিয়া পরিবারকে ভালোবাসে। জিয়া পরিবারও সবসময় দেশের সংকটকালে মানুষের পাশে দাঁড়িয়েছে।
আমান উল্লাহ আমান আরও বলেন, বিএনপি জনগণের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। জনগণের ঐক্য ও সচেতনতার মাধ্যমে সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে। বিশেষ করে দুর্গাপূজাকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে কোনো ধরনের অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করতে না পারে, সে বিষয়ে দলীয় নেতাকর্মীসহ সবাইকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
কেরানীগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. উমর ফারুকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ঢাকা জেলা পরিষদের প্রশাসক মো. ইয়াছিন ফেরদৌস মুরাদ। এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন কেরানীগঞ্জ রাজস্ব সার্কেলের সহকারী কমিশনার (ভূমি) আদনান জুলফিকার, কেরানীগঞ্জ মডেল উপজেলা বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি শামীম হাসান, সাধারণ সম্পাদক হাসমত উল্লাহ নবীসহ স্থানীয় বিএনপি ও হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা।
অনুষ্ঠানে ঢাকা-২ আসনের কেরানীগঞ্জ এলাকার ৮৭টি পূজামণ্ডপের প্রতিনিধিদের হাতে শারদীয় দুর্গাপূজা উদযাপনের জন্য ঢাকা জেলা পরিষদের পক্ষ থেকে আর্থিক অনুদান তুলে দেওয়া হয়।
