কিশোরগঞ্জের ভৈরবে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এক পুলিশ সদস্যসহ অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। শনিবার (২৪ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত পৌর শহরের ঘোড়াকান্দা এলাকায় হাবিব হুজুরের বাড়ির লোকজন ও বালুর মাঠ এলাকার সোহেল মিয়ার বাড়ির লোকজনের মধ্যে এ সংঘর্ষ চলে। গুরুতর আহত পুলিশ কনস্টেবল নাজমুল হোসেনকে (৪২) উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) পাঠানো হয়েছে।
খবর পেয়ে ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ ও ভৈরব থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহবুবুর রহমান ঘটনাস্থলে যান। তাদের নেতৃত্বে পুলিশ দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
থানা-পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আগের দিন ভৈরবপুর এলাকার আরিফ হাজীর সঙ্গে ঘোড়াকান্দা বালুর মাঠ এলাকার সোহেল মিয়ার ছেলে ও তার সঙ্গীদের একটি তুচ্ছ বিষয় নিয়ে হট্টগোল হয়। শনিবার বিকেলে ঘোড়াকান্দা মোড়ে বিষয়টি নিয়ে আবার উত্তেজনা দেখা দেয়। সেখান থেকে ফেরার পথে সোহেল মিয়ার ছেলে ও তার সঙ্গীরা হাবিব হুজুরের বাড়িতে ঢিল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন বলে অভিযোগ রয়েছে। পরে স্থানীয়রা বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করেন।
তবে কিছুক্ষণ পর সোহেল মিয়ার ছেলে ও তার সঙ্গীরা নিজেদের বাড়ির ছাদ থেকে আবারও ঢিল ও ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করতে থাকেন বলে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে। এর প্রতিবাদ করতে হাবিব হুজুরের বাড়ির যুবকেরা এগিয়ে গেলে দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টাধাওয়া শুরু হয়। একপর্যায়ে তা সংঘর্ষে রূপ নেয়। প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে চলা সংঘর্ষে দুই পক্ষের লোকজন ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে গিয়ে এক পুলিশ সদস্যও আহত হন।
সংঘর্ষে আহতদের মধ্যে জোবায়েদ আহমেদ (২৪), অনন্ত (২০), রবিন আহমেদ (১৮), রাতুল হাসান (২৩), মোস্তফা মিয়া (২২), সুজন মিয়া (২২), সালমান হোসেন (১৬), আরমান মিয়া (১৬) ও সাইফুল হোসেন (৩৫) ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে প্রাথমিক চিকিৎসা নিয়েছেন। অন্য আহতরা বিভিন্ন বেসরকারি ক্লিনিক ও হাসপাতালে চিকিৎসা নেন।
হাবিব হুজুরের বাড়ির প্রধান আলহাজ হাবিবুর রহমান বলেন, অন্য একটি এলাকার সঙ্গে বালুর মাঠের সোহেলদের পরিবারের সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছিল। কিন্তু তারা তাদের বাড়িতে ইট-পাটকেল নিক্ষেপ করেন। এ বিষয়ে জানতে চাইলে সোহেল মিয়ার পরিবারের লোকজন তার ছেলেদের ওপর চড়াও হন বলে অভিযোগ করেন তিনি। পরে তা বড় ধরনের সংঘর্ষে রূপ নেয়।
অন্যদিকে সোহেল মিয়া দাবি করেন, হাবিব হুজুরের ছেলেরা তাদের বাড়িতে হামলা করতে গেলে তাঁদের বাড়ির লোকজন পাল্টা প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এ থেকেই সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ভৈরব সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার আবু মুছা শেখ বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঘোড়াকান্দায় দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। পুলিশ দীর্ঘক্ষণ চেষ্টা চালিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। এতে এক পুলিশ কনস্টেবল আহত হলে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের চিকিৎসক তাঁকে ঢাকার সিএমএইচে পাঠানোর পরামর্শ দেন।
তিনি আরও বলেন, একটি পক্ষের সঙ্গে অন্য একটি পক্ষের সমিতির কিস্তি পরিশোধ নিয়ে প্রথমে বিরোধের সৃষ্টি হয়েছিল। পরে সেই বিরোধ অন্য একটি পক্ষের সঙ্গে সংঘর্ষে ছড়িয়ে পড়ে। এ ঘটনায় উভয় পক্ষের লিখিত অভিযোগের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
