
বাঞ্ছারামপুরে চাঞ্চল্যকর মুকবুল হত্যার আসামী রুবেল,আঁখি সহ ৪ জন ৩ দিনের রিমান্ডে। বিচার ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ মিছিল
ফয়সল আহমেদ খান
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাঞ্ছারামপুরে তিতাস নদী থেকে মুকবুল হোসেন গুড্ডু (৩৮) নামে এক ব্যক্তির মরদেহ উদ্ধারের ঘটনায় আজ (১৭ অক্টোবর) সকাল ১০টায় উপজেলা পরিষদের সামনে খুনের সাথে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন এলাকাবাসী। চাঞ্চল্যকর এই হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের তিন দিনের রিমান্ডে নেওয়ার খবর ছড়িয়ে পড়লে উপজেলার পাঠামারা গ্রামের লোকজন উপজেলা প্রশাসনের কার্যালয় ও বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার সামনে এ কর্মসূচি পালন করেন।
গত ২৭ সেপ্টেম্বর রোববার দুপুরে উপজেলার ছলিমাবাদ ইউনিয়নের মিরপুর এলাকায় তিতাস নদীর পানির তলদেশ থেকে মুকবুল হোসেনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। নৌকার সঙ্গে লোহার অ্যাঙ্গেল ও রশি দিয়ে বাঁধা অবস্থায় মরদেহটি উদ্ধার করেন নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের ডুবুরি দলের সদস্যরা।
নিহত মুকবুল হোসেন গুড্ডু ছলিমাবাদ ইউনিয়নের প্রয়াত মোহন মিয়া ব্যাপারীর ছেলে। তিনি পাঠামারা গ্রামের বাসিন্দা ছিলেন। তাঁর দুই ছেলে ও এক মেয়ে রয়েছে। তিনি তিতাস নদীতে বালু উত্তোলনের একটি ড্রেজার ব্যবসায় আসামী রুবেলের সাথে অংশীদার ছিলেন।
এ ঘটনায় বাঞ্ছারামপুর মডেল থানা পুলিশ চারজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠায়। গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলেন অবিদ মিয়া, বিল্লাল হোসেন, আকলিমা আক্তার আখি ও রুবেল। আদালত তাঁদের তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
আসামিদের রিমান্ডে থানায় আনার খবর পেয়ে পাঠামারা গ্রামের লোকজন তাঁদের সর্বোচ্চ শাস্তি ও ফাঁসির দাবিতে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ করেন। এ সময় তাঁরা হত্যাকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্ত, প্রকৃত ঘটনা উদ্ঘাটন এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বাঞ্ছারামপুর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ইয়াসিন বলেন, “আমরা আসামিদের ৩ দিনের রিমান্ডে এনেছি। প্রধান আসামি রুবেল ১৬৪ ধারায় জবাব দিয়েছে। অন্যদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।
তদন্ত শেষে আমাদের অপরাধ বিভাগ যে প্রতিবেদন দাখিল করবে, তা আদালতে পাঠানো হবে।”
নিহত মুকবল হোসেন গুড্ডুর স্ত্রী ছাড়াও নুছরাত (১০),ইসরত (৫) নামে ২ মেয়ে ও জুনায়েদ (১২) নামে এক ছেলে রয়েছে।
মানববন্ধনে নিহতের স্ত্রী তাসলিমা আক্তার বলেন, যেমন নৃশংস ভাবে আমার স্বামীকে হত্যা করেছে, খুনীদেরও এমন ভাবে ফাঁসিতে ঝুলিয়ে শাস্তি দেয়া হোক।
মেঝো মেয়ে নুসরাত (১০) কাঁদতে কাঁদতে বলেন," আমি তো আর বাবা বলে ঢাকতে পারবো না,বাবাকে ফিরে পাব না,কিন্তু খুনীদের বিচারটা যেন হয়।"
মানববন্ধনে অংশ নেওয়া এলাকাবাসী গ্রেপ্তার অবিদ মিয়া, বিল্লাল হোসেন, আকলিমা আক্তার আখি ও রুবেলসহ এ ঘটনায় জড়িত সবার সর্বোচ্চ শাস্তি ফাসির দাবি করেন।
ক্যাটেগরি: বৃহত্তর কুমিল্লা
ট্যাগ: বৃহত্তর কুমিল্লা আন্তর্জাতিক রাজনীতি
