আজকাল ওয়েবডেস্ক: রাজ্যের সরকারি হাসপাতালগুলিতে উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা ও প্রয়োজনীয় পরিকাঠামো গড়ে তুলতে আরও অন্তত দু’বছর সময় লাগবে। চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরের সিদ্ধান্তের ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে মঙ্গলবার এমনটাই জানালেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী।
তাঁর দাবি, আহতদের দ্রুত এবং উন্নত চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়াই ছিল সরকারের প্রধান লক্ষ্য। একই সঙ্গে রাজ্যের সরকারি হাসপাতালে অ্যালার্জি পরীক্ষার পরিকাঠামো না থাকা নিয়েও আক্ষেপ প্রকাশ করেছেন তিনি। উল্লেখ্য, গত ১৭ অক্টোবর চোরবাগান সর্বজনীনের পুজোমণ্ডপে পদপিষ্টের ঘটনায় ১৯ জনের মৃত্যু হয়।
আহতদের প্রথমে কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলেও পরে তাঁদের মধ্যে ১৪ জনকে বাইপাসের ধারে একটি বেসরকারি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সরকারি হাসপাতাল থেকে আহতদের বেসরকারি হাসপাতালে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন চিকিৎসক মহলের একাংশ।
এরপরেই মঙ্গলবার মহানবমীর সন্ধ্যায় স্বাস্থ্য ভবনের কন্ট্রোল রুম পরিদর্শন করেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখান থেকে বেরিয়ে তিনি বলেন, 'আহতদের চিকিৎসায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল, যাতে আর কোনও প্রাণহানি না ঘটে।' তাঁর কথায়, 'কলকাতা মেডিক্যাল কলেজের তুলনায় বেসরকারি হাসপাতালে উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।
সেরকমটা মনে করেই আহতদের সেখানে পাঠানো হয়েছিল।' চিকিৎসা শুরু হওয়ার পর নতুন করে কোনও মৃত্যুর ঘটনা না ঘটায় সন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।সরকারি হাসপাতালের পরিষেবা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রীর বক্তব্য, 'রাজ্যের স্বাস্থ্য পরিকাঠামোকে বেসরকারি হাসপাতালের সমকক্ষ করে তুলতে সময় প্রয়োজন। এই সরকার ক্ষমতায় এসেছে মাত্র ছ’মাস আগে। তাই এই পরিবর্তন একদিনে সম্ভব নয়।'
এই প্রসঙ্গে সরকারি হাসপাতালে অ্যালার্জি পরীক্ষার ব্যবস্থা না থাকার বিষয়টিও তুলে ধরেন শুভেন্দু অধিকারী। তিনি বলেন, 'স্বাধীনতার এত বছর পরেও পশ্চিমবঙ্গে অ্যালার্জি পরীক্ষার জন্য মুম্বইয়ে যেতে হয়।' ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকেই তিনি বিষয়টি জানেন বলে দাবি করেন মুখ্যমন্ত্রী।
এই ধরনের পরিষেবা রাজ্যের হাসপাতালগুলিতে চালু করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ করা হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি। এদিকে, চোরবাগানকাণ্ডের পর দুর্গাপুজোর বড় মণ্ডপগুলিতে চিকিৎসা পরিষেবা নিয়ে সতর্ক রয়েছে রাজ্য সরকার।
মুখ্যমন্ত্রী জানিয়েছেন, পুজোর ছুটি বাতিল করে বহু চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী জরুরি পরিষেবায় সামিল হয়েছেন। তাঁদের উদ্যোগের প্রশংসা করে ধন্যবাদ জানিয়েছেন তিনি। তবে সরকারি হাসপাতালে স্বাস্থ্য পরিষেবার ঘাটতি মেটাতে আগামী দু’বছরে কী কী পদক্ষেপ করা হবে, এখন নজর সেদিকেই।
