সাতক্ষীরার শ্যামনগরে ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ুয়া ১২ বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রীকে ব্ল্যাকমেইল করে গণধর্ষণ ও অন্তঃসত্ত্বা করার চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় দুই সহপাঠী শিক্ষার্থী এবং এক শ্রেণি শিক্ষকের বিরুদ্ধে শ্যামনগর থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
ভুক্তভোগী শিশুটির নানি বাদী হয়ে সোমবার (১২ অক্টোবর) দুপুরে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইন এবং সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলাটি করেন।
মামলার অভিযুক্ত আসামিরা হলেন— শ্যামনগর পৌর সদরের গোমানতলী গ্রামের হামিদ সরদারের ছেলে হযরত আলী (১৭), একই গ্রামের শাহাজান সরদারের ছেলে আবু হাসান (১৫) এবং গোমানতলী কামিল মাদ্রাসার শিক্ষক নুর আলম (৩৬)। ভুক্তভোগী শিশু ও অভিযুক্তরা একই মাদ্রাসার শিক্ষার্থী ও শিক্ষক।
মামলার এজাহার ও শিশুটির পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী শিশুটির মূল বাড়ি যশোর জেলার শার্শা উপজেলার সুড়িপাড়া গ্রামে। মা-বাবার বিচ্ছেদের পর এবং মা প্রবাসী হওয়ায় সে ছোটবেলা থেকেই শ্যামনগরের গোমানতলী গ্রামে নানির বাড়িতে থেকে স্থানীয় কামিল মাদ্রাসায় ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়াশোনা করে আসছিল। সমবয়সী হওয়ার সুবাদে আসামি হযরত আলী ও আবু হাসান ভুক্তভোগী শিশুটির ভাইয়ের সাথে দেখা করার অজুহাতে তাদের বাড়িতে যাতায়াত করত।
একপর্যায়ে গোসল শেষে শিশুটির পোশাক পরিবর্তনের দৃশ্য গোপনে মোবাইল ফোনে ধারণ করে হযরত ও আবু হাসান। পরবর্তীতে ওই আপত্তিকর ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার ভয় দেখিয়ে তাকে দিনের পর দিন জিম্মি করে পর্যায়ক্রমে গণধর্ষণ করে তারা। অপরদিকে, প্রায় ৩-৪ সপ্তাহ আগে মাদ্রাসার শিক্ষক নুর আলমের কাছে প্রাইভেট পড়তে গেলে তিনি জুসের সাথে চেতনানাশক খাইয়ে শিশুটিকে ধর্ষণ করেন বলে মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে।
সম্প্রতি শিশুটির শারীরিক গঠনে অস্বাভাবিক পরিবর্তন লক্ষ্য করেন তার মামাতো ভাইয়ের স্ত্রী। বিষয়টি নিয়ে পরিবারের সন্দেহ হলে গত শনিবার (১০ অক্টোবর) তাকে স্থানীয় এক চিকিৎসকের কাছে নেওয়া হয়। সেখানে ডাক্তারি পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর চিকিৎসকরা জানান, শিশুটি বর্তমানে ৮ মাসের অন্তঃসত্ত্বা। রোববার (১১ অক্টোবর) এ খবর এলাকায় জানাজানি হলে স্থানীয়দের মাঝে ব্যাপক ক্ষোভ ও চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।
ঘটনা জানাজানি হওয়ার পর থেকেই অভিযুক্ত শিক্ষক ও সহপাঠীরা এলাকা ছেড়ে আত্মগোপনে রয়েছে। যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তাদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ পাওয়া যায়। অভিযুক্ত শিক্ষক নুর আলমের স্ত্রীর সঙ্গে ফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে গোমানতলী কামিল মাদ্রাসার সুপার মাওলানা সিরাজুল ইসলাম বলেন, অভিযুক্ত শিক্ষকের বিরুদ্ধে ইতোমধ্যে একটি অভ্যন্তরীণ তদন্ত দল গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন অনুযায়ী তার বিরুদ্ধে কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে শ্যামনগর থানার ওসি সাফিউল ইসলাম জানান, ভুক্তভোগী শিশুর নানির লিখিত এজাহারের ভিত্তিতে তিনজনের বিরুদ্ধে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনসহ সাইবার নিরাপত্তা আইনে মামলা নথিভুক্ত করা হয়েছে। আসামিরা বর্তমানে আত্মগোপনে রয়েছে, তবে তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের একাধিক টিম অভিযানে নেমেছে। পাশাপাশি ভুক্তভোগী শিশুটির ডাক্তারি পরীক্ষা ও আইনি প্রক্রিয়ার কাজ চলছে।
