সৌদি আরবের দাম্মামে বাদশাহ ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতি বিদ্রোহীদের হামলায় অন্তত একজন নিহত ও আটজন আহত হয়েছেন। বুধবার (২১ অক্টোবর) গভীর রাতে চালানো এ হামলায় বিমানবন্দরের অবকাঠামোরও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে একই দিনে দেশটির পূর্বাঞ্চলে একটি তেলক্ষেত্র লক্ষ্য করে আসা ড্রোন ধ্বংসের পর সেটির ধ্বংসাবশেষের আঘাতে আরও দুজন নিহত হন। একদিনেই সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামো ঘিরে ধারাবাহিক এসব ঘটনায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (জিএসিএ) বরাতে তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি জানায়, বিমানবন্দরে হামলায় আহত আটজনকে দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাঁদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হামলায় বিমানবন্দরের বেশ কয়েকটি অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তবে ক্ষয়ক্ষতির সুনির্দিষ্ট পরিমাণ এখনো নিরূপণ করা যায়নি। পরিস্থিতি পর্যালোচনা শেষে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হবে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। কীভাবে হামলাটি চালানো হয়েছে, সে বিষয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কিছু জানানো হয়নি।
এদিকে বুধবার দিনের বেলায় সৌদি আরবের পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশের শায়বাহ তেলক্ষেত্রে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি আরামকোর একটি স্থাপনা লক্ষ্য করে আসা ড্রোন ধ্বংস করে দেশটির সামরিক বাহিনী। সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ড্রোনটির ধ্বংসাবশেষের আঘাতে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাড়িতে আগুন ধরে যায়। এতে দুজন নিহত ও দুজন আহত হন। তবে এ ঘটনায় তেলক্ষেত্রের উৎপাদন ও সামগ্রিক কার্যক্রমে কোনো ব্যাঘাত ঘটেনি।
একই দিনে সৌদি নেতৃত্বাধীন জোট জানায়, দেশটির পূর্বাঞ্চলীয় প্রদেশ ও মদিনা অঞ্চল লক্ষ্য করে ছোড়া আরও পাঁচটি ড্রোন আকাশেই ধ্বংস করা হয়েছে।
এর আগে গত ১১ অক্টোবরও বাদশাহ ফাহাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়। ওই ঘটনায় নিরাপত্তা তল্লাশি ও ক্ষয়ক্ষতি মূল্যায়নের জন্য বিমানবন্দরের কার্যক্রম সাময়িকভাবে ব্যাহত হয়েছিল।
সাম্প্রতিক এসব হামলার মধ্য দিয়ে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহী ও সৌদি নেতৃত্বাধীন জোটের মধ্যে সংঘাত আরও তীব্র হয়ে উঠেছে। সৌদি আরবের বিমানবন্দর ও জ্বালানি অবকাঠামোকে লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হামলা দেশটির নিরাপত্তা পরিস্থিতি এবং গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনাগুলোর সুরক্ষা নিয়ে নতুন উদ্বেগ তৈরি করেছে।
সূত্র: আনাদোলু এজেন্সি।
