পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ২০ অক্টোবর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ের আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর সরকারি সফরে জাপান যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
জাপানে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলীকে ঢাকায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে। ২৬ অক্টোবর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান চারদিনের সফরে জাপান যাচ্ছেন। প্রধানমন্ত্রীর এ সফরকালে রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী ঢাকায় অবস্থান করবেন। সফরের কূটনৈতিক তদারকি ও সার্বিক সমন্বয়ের দায়িত্ব দিয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দ্বিপক্ষীয় বিষয়ক সচিব এম নজরুল ইসলামকে টোকিও পাঠানো হয়েছে বলে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সূত্র জানিয়েছে।
সূত্র অনুযায়ী, ১৫ অক্টোবর রাষ্ট্রদূত দাউদ আলীকে দুইদিনের মধ্যে ঢাকায় উপস্থিত থাকার নির্দেশনা প্রদানসংক্রান্ত আদেশ সই হয়। নির্দেশ অনুসরণ করে তিনি জাপান থেকে ঢাকায় ফিরেছেন। অন্যদিকে ১৯ অক্টোবর নজরুল ইসলামকে টোকিও পাঠানোর সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। প্রধানমন্ত্রীর সফরের আগে রাষ্ট্রদূতকে ঢাকায় ফেরানোর বিষয়ে জানতে চাইলে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা স্বাস্থ্যগত কারণের কথা শুনেছেন বলে জানান। তবে অন্য কারণও থাকতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. দাউদ আলী। ২০২৫ সালের ২৩ জানুয়ারি তিনি জাপানের সম্রাটের কাছে পরিচয়পত্র পেশ করেন। বিসিএস পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা মো. দাউদ আলী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিতে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেছেন। এর আগে তিনি টোকিও, প্রিটোরিয়া, রোমানিয়া, লন্ডনে বাংলাদেশের মিশনে বিভিন্ন দায়িত্ব পালন করেছেন এবং চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ছিলেন।
পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম ২০ অক্টোবর আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে জানান, জাপানের প্রধানমন্ত্রী তাকাইচি সানায়ের আমন্ত্রণে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর সরকারি সফরে জাপান যাবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। সফরসঙ্গী হিসেবে থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রীসহ সরকারের আরো কয়েকজন মন্ত্রী, উপদেষ্টা ও কর্মকর্তারা।
সফরের দ্বিতীয় দিন ২৭ অক্টোবর জাপানের প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। আলোচনায় ফেব্রুয়ারিতে স্বাক্ষরিত অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তির (ইপিএ) বাস্তবায়ন, বাংলাদেশী পণ্যের বাজার প্রবেশাধিকার, জাপানি বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি, প্রযুক্তি ও মানবসম্পদ উন্নয়নে সহযোগিতা বিষয় গুরুত্ব পাবে।
এছাড়া জাপানের সরকারি ও বেসরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদের সঙ্গে বৈঠক, জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে বক্তব্য এবং এলএনজি টার্মিনাল, বিদ্যুৎ কেন্দ্র ও টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কর্মসূচি রয়েছে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের। সফরে কৃষি, দক্ষতা উন্নয়ন, বাণিজ্য, পরিবেশ ও কর্মসংস্থানসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতা স্মারক ঘোষণার সম্ভাবনাও রয়েছে। আলোচনার কথা রয়েছে রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধান, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা ও জ্বালানি সংকট মোকাবেলায় সহযোগিতা নিয়েও।
