নারায়ণগঞ্জ রামকৃষ্ণ মিশনে কুমারী পূজা, ভক্তদের ঢল
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২৬ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->নারায়ণগঞ্জ শহরের মিশনপাড়া এলাকার রামকৃষ্ণ মিশনে ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য ও আনন্দঘন পরিবেশে অনুষ্ঠিত হয়েছে কুমারী পূজা। শঙ্খ, ঘণ্টা, ঢাক-ঢোল ও উলুধ্বনিতে মুখরিত হয়ে ওঠে আশ্রম প্রাঙ্গণ। এ সময় দেবী দুর্গার কুমারী রূপের আরাধনায় অংশ নিতে জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে কয়েক হাজার ভক্ত ও পূর্ণার্থী সমবেত হন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) সকালে ৬ বছর ৬ মাস ১৮ দিন বয়সি শিশু শ্রীশ্রী কুমারী শ্রেয়সী ভট্টাচার্যকে কুমারীর আসনে বসিয়ে পূজার আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়। ভরদ্বাজ গোত্রের শ্রেয়সী চাষাঢ়ার বেইলী টাওয়ারে অবস্থিত ‘আনন্দ ভুবন’ স্কুলের প্রাক্-প্রথম শ্রেণির শিক্ষার্থী। তার বাবা ডা. সুমন ভট্টাচার্য এবং মা অর্পিতা ভট্টাচার্য। তাদের বাসা নগরীর গলাচিপা এলাকায়।
পূজার আনুষ্ঠানিকতায় কুমারীকে দেবীরূপে আসনে বসিয়ে ষোড়শ উপাচারে পূজা করা হয়। পূজা পরিচালনা করেন মিশনের স্বামী একনাথনন্দ মহারাজ। মন্ত্রপাঠ ও ঢাক-ঢোলের বাজনার মধ্য দিয়ে ভক্তরা দেবীর উদ্দেশে অর্ঘ্য নিবেদন করেন। পরে প্রার্থনা ও অঞ্জলি শেষে ভক্তদের মধ্যে প্রসাদ বিতরণ করা হয়।
আরও পড়ুন
হিন্দুধর্মীয় বিশ্বাস অনুযায়ী, কুমারী শুদ্ধতা ও পবিত্রতার প্রতীক। কুমারী পূজার মধ্য দিয়ে দেবী দুর্গার মাতৃরূপের আরাধনা করা হয়। এ পূজায় অংশ নিয়ে ভক্তরা দেশ ও জাতির কল্যাণ, শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করেন।
কুমারী পূজা উপলক্ষে রামকৃষ্ণ মিশন ও আশপাশের এলাকায় নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়। এবার জেলার ১৪০ টি পূজামণ্ডপে সুশৃঙ্খল ও শান্তিপূর্ণভাবে আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা দায়িত্ব পালন করছেন।
বিল্লাল হোসাইন/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
মহাঅষ্টমীতে জয়পুরহাটে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:১৬ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->জয়পুরহাটে মাদারগঞ্জে মহাঅষ্টমীতে শহরের সবচেয়ে বড় দূর্গা মন্দির মণ্ডপে কুমারী পূজা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) জয়পুরহাটে এবার ৩০৯টি পূজামণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে শারদীয় দূর্গাপূজা।
দেবী রুপে এবার পূজিত হয়েছেন মাদারগঞ্জ এলাকার অমিত কুমার চৌধুরীর মেয়ে তাজপুর মোহনপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের তৃতীয় শ্রেণির ছাত্রী শ্রেষ্ঠা চৌধুরী। পূজায় মন্ত্র পাঠ করেন পুরোহিত চপল চক্রবর্তী।
আরও পড়ুন
কুমারী পূজা দেখতে সকাল থেকে মণ্ডপে ভিড় করেন জেলার বিভিন্ন স্থান থেকে আসা শতশত ভক্ত। অষ্টমীর পূজা অর্চনা শেষে নতুন কাপড় পড়িয়ে দেবীর সাজে সজ্জিত করে কুমারীকে মন্দিরে বসানো হয়। এ সময় ঢাক-ঢোল, শঙ্খ আর উলুধনিতে মুখরিত হয়ে উঠে মন্দির প্রাঙ্গন। শ্রীরামকৃষ্ণের কথামতে সব স্ত্রীলোক ভগবতীর একটি রুপ। সেই রুপকে চিন্তা করে কুমারী পূজা করা হয়।
জেলা পরিষদের প্রশাসক মাসুদ রানা প্রধান, জেলা বিএনপির আহ্বায়ক গোলজার হোসেন, জেলা কৃষকদলের সদস্য সচিব মনজুরে মওলা পলাশ ও মন্দিরের সভাপতি অমিত কুমারসহ অন্যান্যরা পূজায় উপস্থিত ছিলেন।
সাগর কুমার/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
দুর্গাপূজায় শিল্পের ছোঁয়া, রাজবাড়ীতে ব্যতিক্রমী ‘অসুরা মণ্ডপ’
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৪৬ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->বাঁশ, চালন, শোলা আর রঙিন কাপড়ের শৈল্পিক ব্যবহারে তৈরি হয়েছে দৃষ্টিনন্দন এক শিল্পজগৎ। মণ্ডপের ছাদজুড়ে সারি সারি চালনের বুনন, লাল কাপড়ের কারুকাজ, রঙিন কাপড়ের ভাঁজ আর ঝুলন্ত আলোকসজ্জা। লাল, হলুদ, কালো ও সাদার বৈপরীত্যে ফুটে উঠেছে নান্দনিক সৌন্দর্য। চারপাশে অসুরের মস্তক আর তাদের অত্যাচারের চিত্র। প্রতিটি ছবির সঙ্গে রয়েছে সংক্ষিপ্ত বর্ণনা। সব মিলিয়ে পৌরাণিক কাহিনি ও লোকজ শিল্পের মেলবন্ধনে ব্যতিক্রমী সাজে সেজেছে রাজবাড়ী শহরের বিনোদপুর রাধাগোবিন্দ জিউর মন্দিরের দুর্গাপূজা মণ্ডপ। নাম দেওয়া হয়েছে ‘অসুরা মণ্ডপ’।
প্রায় ৬৫ ফুট লম্বা ও ১৮ ফুট চওড়া মণ্ডপটিতে প্রবেশ করলেই চোখে পড়ে প্রচলিত উপকরণের অভিনব ব্যবহার। জাঁকজমকের চেয়ে এখানে গুরুত্ব পেয়েছে নান্দনিক বিন্যাস, কারুশিল্প আর সৃজনশীলতা। সহজলভ্য বাঁশ, চালন ও শোলার মতো উপকরণ দক্ষ হাতে রূপ নিয়েছে দৃষ্টিনন্দন শিল্পকর্মে। মণ্ডপের কেন্দ্রস্থলে দেবী দুর্গা ও তার পরিবারের প্রতিমা পুরো আয়োজনের মূল আকর্ষণ হয়ে উঠেছে।
মণ্ডপের চারপাশে অসুরদের অত্যাচারের বিভিন্ন চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। ছবির সঙ্গে সংক্ষিপ্ত ক্যাপশনে বর্ণনা করা হয়েছে নানা কাহিনি। ফলে দর্শনার্থীরা প্রতিমা দর্শনের পাশাপাশি পৌরাণিক আখ্যান সম্পর্কেও জানতে পারছেন। ধর্মীয় আবহের সঙ্গে শিল্প ও গল্প বলার এই অভিনব প্রয়াস মণ্ডপটিকে দিয়েছে স্বতন্ত্র পরিচয়।
আরও পড়ুন
মণ্ডপ ও প্রতিমার শৈল্পিক সাজসজ্জা করেছেন রাজবাড়ী শহরের লক্ষীকোল এলাকার বাসিন্দা অনুপ সরকার লাল্টু। কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছাড়াই নিজের সৃজনশীলতা ও দীর্ঘদিনের আগ্রহকে কাজে লাগিয়ে তিনি সাজিয়েছেন পুরো মণ্ডপ। এ কাজ করতে তার সময় লেগেছে প্রায় তিন মাস। পুরো কাজটি তিনি একাই করেছেন।
অনুপ সরকার লাল্টু বলেন, ‘ছোটবেলা থেকেই শিল্পকর্মের প্রতি তার আগ্রহ। নিজে নিজেই নানা ধরনের জিনিস তৈরি করতেন। এবার অসুরদের অত্যাচার এবং দেবী দুর্গা কীভাবে তাদের দমন করেছিলেন, সেই কাহিনি মণ্ডপের সাজসজ্জায় তুলে ধরার চেষ্টা করেছেন। মণ্ডপটি সাজাতে আড়াইশর বেশি বাঁশ ব্যবহার করা হয়েছে। দর্শনার্থীদের ভালো লাগলেই তার দীর্ঘদিনের পরিশ্রম সার্থক হবে বলে জানান তিনি।’
মন্দির কমিটির সাধারণ সম্পাদক চঞ্চল কুমার সাহা বলেন, এবার তাদের মন্দিরে দুর্গাপূজা আয়োজনের ৫০ বছর পূর্তি হয়েছে। এ উপলক্ষে ভিন্নধর্মী কিছু করার পরিকল্পনা থেকে ‘অসুরা মণ্ডপ’ সাজানো হয়েছে। ব্যতিক্রমী এই আয়োজন দর্শনার্থীদের ভালো লাগবে বলে আশা করছেন তারা।
ধর্মীয় উৎসবের আবহে শিল্পের নান্দনিক প্রকাশ আর পৌরাণিক কাহিনির উপস্থাপনা সব মিলিয়ে বিনোদপুরের ‘অসুরা মণ্ডপ’ দুর্গাপূজার প্রচলিত সাজসজ্জায় যোগ করেছে নতুন মাত্রা।
সুমন বিশ্বাস/খাদিজা রুমি/
আরও পড়ুন
সাংবাদিক আলিফ হত্যা: গ্রেপ্তার অপূর্ব রিমান্ডে
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:২১ পিএম
গ্রেপ্তার অপূর্ব। ছবি: খবরের কাগজ
-->নেত্রকোনার দুর্গাপুরে সাংবাদিক লুৎফর জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির হত্যায় জড়িত সন্দেহে গ্রেপ্তার সাজিবুল ইসলাম ওরফে অপূর্বের এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে দুর্গাপুর চৌকি আদালতের সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট নুরুল আমিন ভূঁইয়া শুনানি শেষে এই আদেশ দেন।
এর আগে, রবিবার দুপুরে দুর্গাপুর থানা-পুলিশ অপূর্বকে আদালতে পাঠায়। তখন মামলার তদন্ত কর্মকর্তা দুর্গাপুর থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আসাদুল ইসলাম তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেওয়ার আবেদন করলে বিচারক অপূর্বকে কারাগারে পাঠানোর পাশাপাশি আবেদনের ওপর শুনানির জন্য সোমবার দিন নির্ধারণ করেন। আদালত সূত্রে জানা গেছে, অপূর্বের পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াননি।
আরও পড়ুন
এর আগে, শনিবার রাত ১২টার দিকে দূর্গাপুর উপজেলা সদরের অনামিকা সিনেমা হলের সামনে থেকে অপূর্বকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি পৌর শহরের উকিলপাড়া এলাকার শমসের আলীর ছেলে।
দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খন্দকার শাকের আহমেদ খবরের কাগজকে জানান, গত বছরের ৯ জানুয়ারি দূর্গাপুরে শফিকুল ইসলাম নামে এক এসআইকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনা ঘটেছিল। জামালপুরে কর্মরত ওই এসআইয়ের হত্যাকাণ্ডে জড়িত ছিলেন অপূর্ব। গ্রেপ্তারের পর তিনি হত্যায় জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে আদালতে জবানবন্দিও দিয়েছিলেন। ওই বছরেরই ৯ সেপ্টেম্বর তিনি জামিনে মুক্তি পান।
ওসি আরও বলেন, ‘সাংবাদিক আলিফ ও এসআই শফিকুলের চেহারার মিল ছিল। ধারণা করা হয়, আলিফ ভেবেই শফিকুলকে হত্যা করা হয়। আলিফ নিজেই তাকে (ওসি) এ কথা জানিয়েছিলেন। এ কারণেই অপূর্বকে সন্দেহ করা হচ্ছে। তাছাড়া অপূর্বের সঙ্গে এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর ঘনিষ্টতা রয়েছে। ওই শীর্ষ সন্ত্রাসী অস্ত্রসহ অন্তত ১২টি মামলার পলাতক আসামি। তবে আলিফ হত্যায় জড়িত থাকার কথা এখনও স্বীকার করেনি অপূর্ব।’
গত বৃহস্পতিবার রাত সোয়া ৮টার দিকে দূর্গাপুরের তেলুঞ্জিয়া এলাকায় দুর্বৃত্তের ৫-৬ রাউন্ড গুলিতে নিহত হন সাংবাদিক লুৎফর জামান ফকির ওরফে আলিফ ফকির। তিনি ‘রূপসী বাংলা’ নামক একটি আইপিটিভিতে সাংবাদিকতা করতেন।
পাশাপাশি ‘ডিটেকটিভ আর্টিকেল’ নামক একটি সংবাদভিত্তিক পেজ পরিচালনা করতেন। পেজে এলাকার মাদক ব্যবসা, চোরাচালান, বালুমহালের লুটপাট প্রভৃতি অনিয়ম, অপরাধ ও দুর্নীতি নিয়ে লেখালেখি এবং ভিডিও প্রচার করতেন তিনি। এ কারণে অনেকে ক্ষুব্ধ ছিল তার ওপর।
এসএস/অলি/
আরও পড়ুন
আলিফ হত্যার দায় প্রশাসন এড়াতে পারে না: নাটোরের সংবাদকর্মীরা
প্রকাশ: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৩৯ পিএম
আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:৫২ পিএম
ছবি: খবরের কাগজ
-->নেত্রকোনার সাংবাদিক লুৎফুজ্জামান আলিফ ফকিরকে হত্যার দায় প্রশাসন এড়াতে পারেন না বলে মন্তব্য করেছেন নাটোরের সংবাদকর্মীরা।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে সাংবাদিক আলিফ হত্যার প্রতিবাদ, খুনিদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে নাটোরে আয়োজিত এক মানববন্ধনে ওই দাবি করা হয়।
তাদের দাবি, সাংবাদিক আলিফকে হত্যার হুমকি ও হামলার আশঙ্কার বিষয়টি আগেই প্রশাসনকে জানানো হয়েছিল। অথচ তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়নি।
আরও পড়ুন
মানববন্ধনে বক্তব্য রাখেন সাংবাদিক নাসিম উদ্দিন নাসিম, রেজাউল করিম রেজা, পরিতোষ অধিকারী, সুফি সান্টু, আল মামুন, বুলবুল আহমেদ, নাজমুল হাসান, হালিম খান, মাহবুব হোসেন ও দেবাশীষ কুমার সরকার।
বক্তারা দাবি করেন, সত্য প্রকাশের জেরে সাংবাদিক আলিফের ওপর হামলা ও হত্যাকাণ্ড স্বাধীন সাংবাদিকতার জন্য বড় হুমকি। এটা রাষ্ট্রের জন্যও অশনিসংকেত। এমন অবস্থা চলতে থাকলে সমাজের দুর্নীতি, অনিয়ম, মাদক, সন্ত্রাস ও অপরাধের সঙ্গে জড়িতরা আরও বেপরোয়া হয়ে উঠবে যা রাষ্ট্র ও সরকারকে বহির্বিশ্বে বিতর্কিত করবে। এমন অবস্থায় দেশের স্থিতিশীলতা, আইনের শাসন ও সার্বিক উন্নয়নের ধারাকে অব্যাহত রাখতে অনতিবিলম্বে সাংবাদিক আলিফ হত্যার সঙ্গে জড়িতদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সংশ্লিষ্টদের প্রতি আহ্বান জানান তারা।
কামাল মৃধা/তামান্না রুপা/
