আজকের পত্রিকা ডেস্ক
হামাসের প্রয়াত নেতা ইয়াহিয়া সিনওয়ারের কাছে ট্যাংক, রাইফেল ও রকেটের ছবি এঁকে চিঠি লিখেছিল তাঁর ১০ বছর বয়সী ছেলে ইব্রাহিম সিনওয়ার। চিঠিতে ইহুদিদের হত্যার তীব্র আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ করেছিল ইব্রাহিম। লিখেছিল, বড় হয়ে সে কালাশনিকভ হাতে নিয়ে ইহুদিদের গুলি করতে চায়। সম্প্রতি ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) চিঠিটির বিষয়বস্তু ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের কাছে প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) টেলিগ্রাফ জানায়, ২০২৪ সালের অক্টোবরে ফিলিস্তিনের গাজায় সিনওয়ার নিহত হওয়ার পরপরই চিঠিটি উদ্ধারের খবর প্রকাশিত হয়েছিল। টেলিগ্রাফের অনুসন্ধান অনুযায়ী, গাজার দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর রাফাহতে সিনওয়ার নিহত হওয়ার স্থানসংলগ্ন একটি ভবনে ইসরায়েলি সেনারা চিঠিটি খুঁজে পান। চিঠিটির সত্যতা সম্পর্কে একমত হয়েছেন ইসলামপন্থা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ আহমাদ মনসুর এবং জেরুজালেমের হিব্রু বিশ্ববিদ্যালয়ের সামরিক ইতিহাসবিদ অধ্যাপক ড্যানি অরবাখ।
চিঠিতে ইব্রাহিম লিখেছিল, ‘প্রিয় বাবা, তোমাকে খুব মনে পড়ে। তোমাকে জড়িয়ে ধরতে এবং বিজয়ী অবস্থায় দেখতে চাই। বড় হয়ে কালাশনিকভ হাতে নিয়ে ইহুদিদের গুলি করতে চাই, বাবা। তুমি (ফিরে এলে) সব সময় আমার বাহুতে ঘুমাবে।’
চিঠির সঙ্গে আঁকা ছবিতে দেখা যায় ট্যাংক, সশস্ত্র যোদ্ধা, রকেট এবং সামরিক সীমান্ত স্থাপনার মতো অবকাঠামো। ট্যাংকের গায়ে হিব্রু ভাষার লেখাও ছিল। ইব্রাহিম লিখেছিল, কাগজ ও কার্ডবোর্ড দিয়ে সে পিস্তল, ট্যাংক এবং কালাশনিকভ তৈরি করে। চিঠির শেষাংশে বাবার নিরাপত্তা কামনা করে যুদ্ধ শেষ হওয়ার প্রার্থনা জানায় সে।
বর্তমানে ১২ বছর বয়সী ইব্রাহিম গাজা থেকে পালিয়ে তুরস্কে বসবাস করছে বলে জানা গেছে। গোয়েন্দা প্রতিবেদন অনুযায়ী, যুদ্ধের শুরুর দিকে সিনওয়ারের স্ত্রী সামার মুহাম্মদ আবু জামার জাল পাসপোর্ট ব্যবহার করে রাফাহ সীমান্ত দিয়ে মিসরে প্রবেশ করেছিলেন। পরে সন্তানদের নিয়ে তুরস্কে চলে যান এবং সেখানে পুনরায় বিয়ে করেন।
চিঠিটি সম্পর্কে আহমাদ মনসুর বলেন, শিশুদের মধ্যে ঘৃণা ও সহিংসতার ধারণা ছড়িয়ে দেওয়ার সঙ্গে হামাসের পদ্ধতির মিল রয়েছে। তাঁর মতে, এখানে শুধু ইসরায়েলিদের নয়, বিশেষভাবে ইহুদিদের হত্যার আকাঙ্ক্ষা প্রকাশ পেয়েছে।
আইডিএফের এক মুখপাত্রের দাবি, সিনওয়ার নিহত হওয়ার দুই বছর পরও তাঁর প্রচারিত সহিংস মতাদর্শ গাজায় প্রভাব বিস্তার করছে। বাহিনীটির ভাষ্য অনুযায়ী, হামাস দুর্বল হলেও নতুন সদস্য, এমনকি অপ্রাপ্তবয়স্কদেরও নিয়োগের চেষ্টা অব্যাহত রেখেছে।

