১৯৮৭ থেকে ১৯৮৮ সাল পর্যন্ত দূরদর্শনে সম্প্রচারিত হয়েছিল রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’। এরপর থেকে রামায়ণকে কেন্দ্র করে একাধিক সিনেমা ও টেলিভিশন ধারাবাহিক তৈরি হয়েছে। কিন্তু দর্শকদের মনে রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’ যে জায়গা করে নিয়েছিল, তা আজও অন্য কোনও প্রযোজনা ছিনিয়ে নিতে পারেনি। সেই সময়ের অন্যতম ব্যয়বহুল টেলিভিশন ধারাবাহিক ছিল এটি। এই ধারাবাহিকে অভিনয়ের জন্য তারকারাও পেয়েছিলেন মোটা অঙ্কের পারিশ্রমিক। রাম, সীতা, লক্ষ্মণ, ভরত, রাবণ ও হনুমানের চরিত্রে অভিনয় করা শিল্পীরা কত টাকা পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন, তা জেনে নেওয়া যাক।
ইন্ডিয়া টুডের একটি প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেই সময় ‘রামায়ণ’-এর প্রতিটি পর্ব তৈরি করতে খরচ হত প্রায় ৯ লক্ষ টাকা। এই ধারাবাহিক তৈরির আগে রামানন্দ সাগর নির্মাণ করেছিলেন ‘বিক্রম বেতাল’। সেটিও দর্শকদের মধ্যে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছিল। সেই সাফল্যের পর ‘রামায়ণ’-এর জন্য স্পনসর জোগাড় করা সহজ হয়।
‘বিক্রম বেতাল’-এর জনপ্রিয়তার পর রামানন্দ সাগরের ছেলে প্রেম সাগর স্পনসরশিপের জন্য কোলগেট এবং হিন্দুস্তান লিভারের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। দুই সংস্থাই রাজি হওয়ায় ভালো বাজেটে ‘রামায়ণ’ তৈরির পথ প্রশস্ত হয়। এর ফলে ধারাবাহিকের অভিনেতারাও পেয়েছিলেন উল্লেখযোগ্য পারিশ্রমিক।
রামের চরিত্রে অভিনয় করে কত টাকা পেয়েছিলেন অরুণ গোভিল?
‘রামায়ণ’-এ রামের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অরুণ গোভিল। তাঁর অভিনয় দর্শকদের মনে এতটাই গভীর প্রভাব ফেলেছিল যে, সেই সময় বহু মানুষ তাঁকে বাস্তব জীবনেও রামের অবতার বলে মনে করতেন। তাঁকে সামনে পেলে অনেকে পা ছুঁয়ে প্রণামও করতেন। আজও রামের চরিত্রের সঙ্গে অরুণ গোভিলের নাম অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িয়ে রয়েছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন অনুযায়ী, রামের চরিত্রে অভিনয়ের জন্য অরুণ গোভিল পেয়েছিলেন প্রায় ৪০ লক্ষ টাকা। ১৯৮৭ সালের ৪০ লক্ষ টাকার মূল্য ২০২৬ সালে মুদ্রাস্ফীতির হিসাব অনুযায়ী আনুমানিক ৫.২৮ কোটি থেকে ৫.৫৩ কোটি টাকার সমান হতে পারে।
সীতার চরিত্রে অভিনয় করে কত পারিশ্রমিক পেয়েছিলেন দীপিকা চিখলিয়া?
রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’-এ সীতার চরিত্রে অভিনয় করে বিপুল জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন দীপিকা চিখলিয়া। দর্শকদের একাংশ তাঁকে বাস্তব জীবনেও সীতার প্রতিমূর্তি হিসেবে দেখতে শুরু করেছিলেন। ধারাবাহিকে তাঁর অভিনয় আজও দর্শকদের স্মৃতিতে উজ্জ্বল।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, সীতার চরিত্রে অভিনয়ের জন্য দীপিকা পেয়েছিলেন ২০ লক্ষ টাকা। ২০২৬ সালের হিসাবে সেই অর্থের আনুমানিক মূল্য প্রায় ২.৮৩ কোটি টাকা।
রাবণের চরিত্রে অভিনয় করে কত টাকা পেয়েছিলেন অরবিন্দ ত্রিবেদী?
‘রামায়ণ’-এ রাবণের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মনে বিশেষ ছাপ ফেলেছিলেন অরবিন্দ ত্রিবেদী। এই চরিত্রের জন্য তিনি পেয়েছিলেন প্রায় ৩০ লক্ষ টাকা। বর্তমান সময়ের মূল্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সেই অর্থের পরিমাণ আনুমানিক ৪.২৪ কোটি টাকার সমান হতে পারে।
অরবিন্দ ত্রিবেদীর রাবণ হয়ে ওঠার নেপথ্যেও রয়েছে একটি মজার ঘটনা। কথিত আছে, তিনি রাবণের চরিত্রের জন্য অডিশন দিতে যাননি। বরং কেবটের চরিত্রের জন্য অডিশন দিতে গিয়েছিলেন। কিন্তু তাঁর হাঁটাচলা দেখে রামানন্দ সাগর মনে করেন, রাবণের চরিত্রের জন্য উপযুক্ত অভিনেতাকে পেয়ে গিয়েছেন তিনি। এরপর অরবিন্দ ত্রিবেদীকেই রাবণের ভূমিকায় নির্বাচন করা হয়।
লক্ষ্মণ ও হনুমানের চরিত্রে অভিনয় করে কত টাকা পেয়েছিলেন সুনীল লাহিড়ী ও দারা সিং?
‘রামায়ণ’-এ লক্ষ্মণের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন সুনীল লাহিড়ী। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই চরিত্রে অভিনয়ের জন্য তিনি পেয়েছিলেন ১৫ থেকে ১৮ লক্ষ টাকা। ২০২৬ সালের হিসাবে সেই অর্থের আনুমানিক মূল্য দাঁড়ায় ২.১২ কোটি থেকে ২.৫৪ কোটি টাকার মধ্যে।
অন্যদিকে, হনুমানের চরিত্রে অভিনয় করে দর্শকদের মন জয় করেছিলেন দারা সিং। এই চরিত্রের জন্য তাঁর পারিশ্রমিক ছিল প্রায় ৩৫ লক্ষ টাকা। বর্তমান সময়ের মূল্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালে সেই অর্থের পরিমাণ আনুমানিক ৪.৭৫ কোটি থেকে ৪.৮৯ কোটি টাকার সমান হতে পারে।
নতুন ‘রামায়ণ’ কি টেক্কা দিতে পারবে রামানন্দ সাগরের ধারাবাহিককে?
দূরদর্শনের অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক হিসেবে আজও দর্শকদের মনে জায়গা ধরে রেখেছে রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’। এবার বড় বাজেটের নতুন ‘রামায়ণ’ সিনেমা ঘিরেও দর্শকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি হয়েছে। নীতেশ তিওয়ারির পরিচালনায় তৈরি এই ছবিকে ঘিরে সোশ্যাল মিডিয়ায় ইতিবাচক প্রতিক্রিয়াও দেখা যাচ্ছে।
তবে নতুন ছবিকে ঘিরে আলোচনা চললেও অনেক দর্শকের মতে, রামানন্দ সাগরের ‘রামায়ণ’-এর জনপ্রিয়তা ও আবেগকে ছাপিয়ে যাওয়া সহজ হবে না। নতুন প্রজন্মের প্রযুক্তি ও বড় বাজেটের উপস্থাপনা শেষ পর্যন্ত দর্শকদের মন জয় করতে পারে কি না, সেটাই এখন দেখার।
