রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে সার ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে তালা দেওয়ার ঘটনায় থানায় মামলা হয়েছে। এতে আসামি হিসেবে সাতজনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে। এছাড়া অজ্ঞাত আরে া ১০-১৫ জনকে আসামি করা হয়েছে।
বিজ্ঞাপন
সোমবার রাতে গোদাগাড়ীর ইউএনও কার্যালয়ের উপ-সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা মোক্তার হোসেন মামলাটি দায়ের করেন। মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন- রাজশাহী মহানগর এনসিপির সদস্য সচিব ও দলের গোদাগাড়ী উপজেলা চেয়ারম্যানপ্রার্থী আতিকুর রহমান, উপজেলা এনসিপির আহ্বায়ক জিয়াউর রহমান, পৌর এনসিপির সদস্য সচিব মোফাজ্জল হোসাইন আনাম, পৌর জামায়াতে ইসলামীর বাণিজ্য বিভাগের সভাপতি হেলাল উদ্দিন, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের গোদাগাড়ী পৌরসভার সহসভাপতি মো. মাহাফুজ, ছাত্রশিবিরের সাবেক নেতা ইলিয়াস উদ্দীন এবং উপজেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আবদুল হামিদ বাবলু।
উল্লেখ্য, সার ডিলার নিয়োগে দলীয়করণের অভিযোগ তুলে সোমবার বেলা ১১টার দিকে গোদাগাড়ীর ইউএনও কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ করেন এনসিপি, জামায়াত এবং বিএনপির একাংশের কয়েকজন নেতাকর্মী। একপর্যায়ে ইউএনও কার্যালয়ে তালা দেওয়া হয়।
উপজেলা প্রশাসনের করা মামলায় অভিযোগ করা হয়েছে, আসামিরা ইউএনওর কার্যালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাগ্রহীতাদের রেখে বাইরে তালা দেন। এতে সবাই আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।
জানতে চাইলে এনসিপি নেতা আতিকুর রহমান বলেন, ‘আমরা ইউএনওর কাছে অনিয়মের ব্যাপারে জবাব চেয়েছিলাম। বলেছিলাম, জবাব দিয়ে তাকে অফিসের ভেতরে যেতে হবে। কারণ, তিনি আমাদের মোবাইল ফোন রিসিভ করছিলেন না। তিনি জবাব দিলে আমরা তালা খুলে দেই। তিনি আশ্বাস দিয়েছিলেন, আমরা লিখিতভাবে অভিযোগ জানালে তিনি ঊর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলাপ করে ব্যবস্থা নেবেন। কিন্তু তিনি মামলা করেছেন।’
তিনি বলেন, ‘তার কাছে কি জবাব চাওয়া যাবে না? তিনি কি জবাবদীহিতার বাইরে। তিনি নিরপেক্ষভাবে সার ডিলার নিয়োগ দিতে পারেননি। তাই বিএনপির কথা শুনে আমাদের বিরুদ্ধে মামলা করবেন মামলা করবেন এটাই স্বাভাবিক। আমি মনে করি, তাকে বিএনপির একটি পদ দিয়ে দেওয়া উচিত। কারণ, তিনি দলীয় নেতার মতো ভূমিকা পালন করছেন।’
জানতে চাইলে ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, ‘অফিসের সামনে এসে মব করা, অফিস টাইমে কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাপ্রার্থীদের তালা দিয়ে ভোগান্তিতে ফেলা- আসলে তারা যা করেছেন সেসব উল্লেখ করেই মামলা করা হয়েছে।’
ডিলার নিয়োগে অনিয়মের অভিযোগের বিষয়ে ইউএনও বলেন, ‘এসব কথা তো গতকালই চলে এসেছে। নতুন কিছু বলার নেই।’
গোদাগাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সুজন মিয়া বলেন, ‘রাত সাড়ে ১০টার দিকে মামলা রেকর্ড করা হয়েছে। তবে এখনও কোনো আসামিকে গ্রেপ্তার করা যায়নি। গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।
এআরবি
