হেলিপ্যাড প্রস্তুত, সড়ক সংস্কার ও নিরাপত্তা জোরদার—সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য সফর ঘিরে পুরোপুরি প্রস্তুত খুলনার উপকূলীয় উপজেলা দাকোপের নলিয়ান। তবে আনুষ্ঠানিক প্রস্তুতির বাইরেও এ সফরকে কেন্দ্র করে উপকূলবাসীর মধ্যে তৈরি হয়েছে দারুণ এক প্রত্যাশা। নদীভাঙন রোধ, সুপেয় পানির সংকট নিরসন, উন্নত চিকিৎসাসেবা এবং যোগাযোগব্যবস্থার টেকসই উন্নয়নে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর থেকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ চান স্থানীয় সাধারণ মানুষ।
নির্ধারিত সফরসূচি অনুযায়ী, আগামীকাল বৃহস্পতিবার সকালে সুন্দরবন পর্যবেক্ষণের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর এ দিনটি শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। সফর নির্বিঘ্ন করতে স্থানীয় প্রশাসন, পুলিশ ও বন বিভাগ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে।
সফরসূচি অনুযায়ী, আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টায় তেজগাঁও বিমানবন্দর থেকে হেলিকপ্টারে সুন্দরবনের উদ্দেশে রওনা হবেন প্রধানমন্ত্রী। আকাশপথে হিরণ পয়েন্টসহ সুন্দরবনের বিস্তীর্ণ এলাকা পর্যবেক্ষণ শেষে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে তাঁর অবতরণ করার কথা রয়েছে। এরপর তিনি নৌপথে বাগেরহাটের মোংলায় যাবেন। সেখানে মোংলা বন্দরের জেটি পরিদর্শন, প্রস্তাবিত বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) অর্থনৈতিক অঞ্চল পর্যবেক্ষণ এবং একটি বিশেষ সভায় অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে তাঁর।
নিরাপত্তা ও যাতায়াতে বিশেষ প্রস্তুতি: প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে নলিয়ানে হেলিপ্যাড নির্মাণের পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সড়কগুলোর সংস্কার ও সফরসংশ্লিষ্ট এলাকায় নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। পুরো এলাকা কঠোর নজরদারির আওতায় আনার পাশাপাশি যাতায়াত ও নিরাপত্তা ব্যবস্থাপনায় প্রশাসন নিবিড়ভাবে কাজ করছে। এরই মধ্যে নলিয়ান এলাকা পরিদর্শন করেছেন জাতীয় সংসদের হুইপ ও খুলনা-৩ আসনের সংসদ সদস্য রকিবুল ইসলাম বকুল এবং খুলনা-১ আসনের সংসদ সদস্য আমির এজাজ খান।
দাকোপ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. বোরহান উদ্দিন মিঠু জানিয়েছেন, প্রধানমন্ত্রীর আগমন উপলক্ষে স্থানীয় পর্যায়ে নিরাপত্তা ও যাতায়াত সমন্বয়ের যাবতীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। এছাড়া খুলনা জেলা পুলিশ সুপার ড. ওমর ফারুক সরকার সংশ্লিষ্ট এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েনের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। খুলনা জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাত জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন, সুশৃঙ্খল ও নিরাপদ করতে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে সকল সমন্বয়মূলক পদক্ষেপ চূড়ান্ত করা হয়েছে।
সুন্দরবন পর্যবেক্ষণে বন বিভাগের প্রস্তুতি: সুন্দরবন পর্যবেক্ষণকে কেন্দ্র করে বিশেষ প্রস্তুতি নিয়েছে বন বিভাগও। খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক ইমরান আহমেদ এবং সুন্দরবন পূর্ব বিভাগের বিভাগীয় বন কর্মকর্তা রেজাউল করিম চৌধুরী জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর ও পর্যবেক্ষণ এলাকাকে ঘিরে বন বিভাগের পক্ষ থেকেও নিরাপত্তা ও তদারকি জোরদার করা হয়েছে।
উপকূলবাসীর প্রত্যাশা টেকসই উন্নয়ন: প্রধানমন্ত্রীর এই সফরকে ঘিরে দাকোপের উপকূলীয় জনপদে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করলেও স্থানীয় মানুষের মূল প্রত্যাশা জড়িয়ে আছে এলাকার টেকসই উন্নয়নের সঙ্গে। দীর্ঘদিনের নদীভাঙন, নিরাপদ সুপেয় পানির তীব্র সংকট, চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতা এবং যোগাযোগব্যবস্থার দুর্বলতা থেকে স্থায়ী মুক্তির পথ খুঁজছেন তাঁরা।
উপকূলের মানুষের জীবনমান উন্নয়নে টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ, সুপেয় পানির নিশ্চয়তা, মানসম্মত চিকিৎসাসেবা এবং সড়ক যোগাযোগের ব্যাপক উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। এসব ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ নেওয়া হলে প্রধানমন্ত্রীর এ সফর উপকূলবাসীর দৈনন্দিন জীবনযাপনে ইতিবাচক পরিবর্তনের এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে। এখন দেখার বিষয়, সফর ঘিরে তৈরি হওয়া এসব জনকল্যাণমূলক প্রত্যাশা কতটা দ্রুত বাস্তব উদ্যোগে রূপ নেয়।
