রাহুল গান্ধী এবং প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর নাকি বনিবনা নেই! দলের অন্দরে ক্ষমতার দখল নিয়ে বিবাদ চলছে গান্ধী পরিবারের দুই সদস্যের। আর সেই ফাটল একেবারে প্রকাশ্যে চলে এসেছে প্রদর্শনী থেকে রায়হান বঢরার ছবি সরানো কাণ্ডে। এমনটাই দাবি করছে বিজেপি। গেরুয়া শিবিরের দাবি, দুই ভাইবোনের মধ্যে ‘বিবাদ’ এতটাই প্রবল যে ভাগ্নের ছবি সরানোর মতো কাণ্ড নিয়েও মুখ খোলেননি রাহুল গান্ধী।
আসলে বৃহস্পতিবার প্রিয়াঙ্কা গান্ধীর ছেলে রায়হান বঢরা অভিযোগ করেন, দিল্লির বিকানের হাউসে তাঁর ছবির একটি প্রদর্শনী হওয়ার কথা ছিল। সেখানে শতাধিক ছবি রেখেছিলেন রায়হান। কিন্তু প্রদর্শনী শুরুর কয়েকঘণ্টা আগে আয়োজকরা তাঁকে জানান, কিছু ছবি সরিয়ে ফেলতে হবে কারণ সেগুলি আপত্তিকর। রায়হান জানাচ্ছেন, এই ছবিগুলি মূলত ছাত্রদের প্রতিবাদের। এমনকী জাতীয় পতাকার ছবিও সরিয়ে ফেলতে বলা হয়েছে তাঁকে। যদিও রায়হান বেঁকে বসায় তেরঙ্গার ছবি সরানো হয়নি। কিন্তু প্রায় ৭০টি ছবি সরিয়ে নেওয়া হয় শেষ মুহূর্তে।
ফটোগ্রাফার হিসাবে রায়হানের যথেষ্ট পরিচিতি রয়েছে। ছেলের তিনবছরের পরিশ্রমের এহেন পরিণতি মেনে নিতে পারছেন না প্রিয়াঙ্কা। খোলা চিঠিতে তিনি লিখেছেন, ‘ক্ষমতাসীন কেউ যদি অন্যের মত দেখে ভয় পায় তাহলে সে ওই ক্ষমতাটাই হারিয়ে ফেলেছে যেটা রক্ষা করতে এত প্রাণপণ চেষ্টা। যেটা সত্য, তুমি সেটা ধরে থাক। তাতেই সবকিছু সুন্দর হবে। তোমার জন্য আমি গর্বিত।’ কংগ্রেসের অন্য নেতারাও রায়হানের ছবির প্রদর্শনীতে কেন্দ্রের কলকাঠি নাড়া নিয়ে সরব হয়েছেন। নীরব থেকেছেন শুধু রাহুল গান্ধী। বিরোধী দলনেতার সেই নীরবতা নিয়েই এবার খোঁচা দিল বিজেপি।
গেরুয়া শিবিরের বক্তব্য, এই প্রদর্শনী নিয়ে যাবতীয় যা ‘নাটক’ হল সবটাই হল রায়হান বঢরাকে রাজনীতিতে ‘সফট লঞ্চ’ করার লক্ষ্যে। বিজেপির কেন্দ্রীয় মুখপাত্র প্রদীপ ভাণ্ডারী বলছেন, “প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এই পুরো নাটকটা করেছেন নিজের ছেলের রাজনীতিতে প্রবেশের পথ সুগম করার জন্য। আসলে প্রিয়াঙ্কা নিজের ভাইয়ের উপর আস্থা হারিয়েছেন।” প্রদীপ ভাণ্ডারীর প্রশ্ন, “যে রাহুল গান্ধী ভিয়েতনামে বসে দেশের ছোটবড় সব ইস্যুতে কিছু না কিছু বলে চলেছেন, তিনি কেন এই ইস্যুতে পুরোপুরি নীরব। আসলে কংগ্রেসে এখন প্রিয়াঙ্কা এবং রাহুলের দ্বন্দ্ব চলছে।” অবশ্য এই প্রথম নয়, এর আগেও একাধিকবার কংগ্রেসের অন্দরে রাহুল-প্রিয়াঙ্কার বিবাদ উসকে দেওয়ার চেষ্টা করেছে বিজেপি। যদিও প্রতিবারই কংগ্রেস দাবি করেছে, এই ধরনের বিবাদ পুরোটাই বিজেপির কল্পনাপ্রসূত।
