শিশুদের মনে ও মননে শুদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতির বীজ বুনে দিতে শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার আয়োজন করে স্বপ্নবিকাশ কলাকেন্দ্র। সংগঠনটির কর্ণধার মৈত্রী সরকারের জন্মদিনকে ঘিরে শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতার দ্বিতীয় এই আসরের আয়োজন করে সংগঠনটি।
রাজধানীর সেগুনাবাগিচাস্থ বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালা মিলনায়তনে ১১ অক্টোবর (রোববার) বসেছিল ক্ষুদে শিল্পীদের এই মিলনমেলা। প্রায় ৫ শতাধিক ক্ষুদে শিল্পীরা একক ও দলীয় এই প্রতিযোগিতায় অংশ নেয়। নৃত্য, সংগীত, আবৃত্তি, ছবিআঁকা, গল্পবলা, একক অভিনয়, যন্ত্রসংগীতে (তবলা ও গিটার) ক, খ, ও গ শাখার বিজয়ীদের হাতে তুলে দেওয়া হয় পুরস্কার। শান্তির প্রতীক পায়রা উড়িয়ে অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করেন মহিলা ও শিশু বিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি সেলিমা রহমান এমপি।
বিশেষ অতিথি ছিলেন সংস্কৃতি মন্ত্রণালয়ের সচিব ইয়াসমিন বেগম, বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক (অতিরিক্ত দায়িত্ব) হারুন-অর-রশীদ ও বাংলাদেশ নৃত্যশিল্পী সংস্থার সভাপতি নৃত্যশিল্পী ফারহানা চৌধুরী বেবী। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন আবৃত্তিশিল্পী মাহমুদা আখতার।
স্বপ্নবিকাশ কলাকেন্দ্রর থিম গান পরিবেশন ও উত্তরীয় পড়িয়ে অতিথিদের বরণ করে নেন প্রতিষ্ঠানের পরিচালক মৈত্রী সরকার। এরপর অতিথিদের শুভেচ্ছা বক্তব্যের পাশাপাশি পরিবেশিত হয় বিজয়ী শিশুদের অংশগ্রহণে বর্ণাঢ্য সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান।
প্রথমে ফিউসন নৃত্য পরিবেশন করে বরিশাল থেকে আগত ক্ষুদে নৃত্যশিল্পী শৌনক কুন্ডু। সে ক শাখার প্রতিযোগী হিসেব শাস্ত্রীয়, লোকজ ও সৃজনশীল এই তিনটি বিষয়ে প্রথম স্থান অধিকার করে এই প্রতিযোগিতার ‘নৃত্যরত্ন’ পদকে ভূষিত হয়। এরপর পরিবেশিত হয় ঢাকার ক্ষুদেশিল্পী রূপকথা দাসের পরিবেশনায় সংগীত ফিউসন। সে রবীন্দ্রসংগীত, দেশের গান, পল্লীগীতি এই তিনটি বিষয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে ‘সংগীতরত্ন’ পদকে ভূষিত হয়। ‘বাকরত্ন’ পদকে ভূষিত ক্ষুদেশিল্পী নুসরাত তাসনিম পরিবেশন করে ‘কু জো বুড়ির গল্প’। সে গল্পবলা, আবৃত্তি ও একক অভিনয়ে প্রথম স্থান অর্জন করে এই পদক লাভ করে।
প্রতিযোগিতায় পাঁচটি বিষয়ে বিজয়ী হয়ে ক শাখায় চ্যাম্পিয়ন হয়েছে ইবতিদা ইমরানা চৌধুরী ইশা, খ শাখায় রূপকথা দাস ও গ শাখায় তাসনিম আহমেদ সৃজন। প্রতিযোগিতার বিচারকদেরও ‘সম্মাননা স্মারক’ প্রদান করা হয়।
স্বপ্নবিকাশ কলাকেন্দ্র শিশু-কিশোর সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা ২০২৬-এর সদস্য সচিব এবং আবৃত্তি বিভাগের প্রশিক্ষক মু. সিদ্দিকুর রহমান পারভেজ বলেন, শিশুরাই আমাদের ভবিষ্যৎ। তাদের প্রতিভা বিকাশের কথা ভেবে গত বছর আমরা এই আয়োজন শুরু করেছিলাম শুধু ঢাকাকেন্দ্রিক। এবার সেটা দেশব্যাপী ছড়িয়ে পড়েছে। ঢাকা ছাড়াও কুমিল্লা, নারায়ণগঞ্জ, বরিশাল, খুলনা, কিশোরগঞ্জ, রংপুর, খুলনা, মুন্সীগঞ্জ, গাজীপুর, খাগড়াছড়ি, দিনাজপুর, সিলেট, ব্রাহ্মণবাড়িয়াসহ প্রায় ২৫টি জেলার শিশু-কিশোররা এই প্রতিযোগিতায় যোগ দিয়ে আমাদের আয়োজনকে সার্থক করেছে। আমরা পরবর্তী প্রজন্মকে নান্দনিক শিল্পকলার চর্চা করে এই আয়োজনে অংশগ্রহণ করার সুযোগ করে দিতে পেরে খুবই আনন্দিত। এখন থেকে সারা দেশের শিশুরা এই প্রতিযোগিতার অপেক্ষায় থাকবে। শিশু-কিশোরদের প্রতিভা বিকাশে এই আয়োজন নিঃসন্দেহে এক মাইলফলক।
প্রতিযোগিতার আহ্বায়ক মৈত্রী সরকার বলেন, আমি একদিন স্বপ্ন দেখতাম আমার জন্মদিনে ছোট্ট ছোট্ট সোনামনিরা নাচবে, গাইবে, আনন্দ করবে। আমার স্বপ্ন আজ প্রাণ ফিরে পেল। আমি অত্যন্ত আনন্দিত এই ভেবে যে, আমার জয়ন্তীকে ঘিরে সারা দেশের প্রতিভাবান শিশু-কিশোররা তাদের প্রতিভাকে বিকশিত করার প্ল্যাটফর্ম পেল। আগামী প্রজন্ম শুদ্ধ বাঙালি সংস্কৃতি উপস্থাপনে মনোনিবেশ করল; যা সত্যিকার অর্থে আমার জয়ন্তীকে সার্থক রূপ দিয়েছে।
উল্লেখ্য, ‘সংস্কৃতির স্নিগ্ধ ধারায় সিক্ত হোক সবাই’ স্লোগান নিয়ে ১৪ বছর আগে যাত্রা শুরু করে স্বপ্নবিকাশ কলাকেন্দ্র।
